ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে গত কয়েকদিনে প্রাণহানির সংখ্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’ (HRANA) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩,০৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় মুদ্রার মান পতন এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার চরম শিখরে পৌঁছেছে।
শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থা ‘হরানা’ জানায়, ইরানের বিভিন্ন শহরে চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ২,০৫৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে অন্তত ২২,১২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, শুক্রবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ছিল ২,৬৭৭ জন, যা শনিবারের সহিংসতায় বেড়ে ৩,০৯০-এ পৌঁছায়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতন এবং চরম জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে রাজধানী তেহরান থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। দ্রুতই তা দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জনগণের মধ্যে বিদ্যমান অসন্তোষের কথা স্বীকার করলেও, বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
ইরান সরকার এখন পর্যন্ত প্রাণহানি বা আহতের কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে তারা দাবি করেছে, অন্তত ৩,০০০ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যারা তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বা নাশকতামূলক উস্কানির সাথে জড়িত।
বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। অন্যদিকে, ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছে। তেহরানের দাবি, নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপ এবং সরকার পরিবর্তনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সাধারণ নাগরিকরা যখন দুবেলা খাবারের দাবিতে রাজপথে, তখন বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিষয় : ইরান

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে গত কয়েকদিনে প্রাণহানির সংখ্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’ (HRANA) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩,০৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় মুদ্রার মান পতন এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার চরম শিখরে পৌঁছেছে।
শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থা ‘হরানা’ জানায়, ইরানের বিভিন্ন শহরে চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ২,০৫৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে অন্তত ২২,১২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, শুক্রবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ছিল ২,৬৭৭ জন, যা শনিবারের সহিংসতায় বেড়ে ৩,০৯০-এ পৌঁছায়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতন এবং চরম জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে রাজধানী তেহরান থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। দ্রুতই তা দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জনগণের মধ্যে বিদ্যমান অসন্তোষের কথা স্বীকার করলেও, বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
ইরান সরকার এখন পর্যন্ত প্রাণহানি বা আহতের কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে তারা দাবি করেছে, অন্তত ৩,০০০ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যারা তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বা নাশকতামূলক উস্কানির সাথে জড়িত।
বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। অন্যদিকে, ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছে। তেহরানের দাবি, নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপ এবং সরকার পরিবর্তনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সাধারণ নাগরিকরা যখন দুবেলা খাবারের দাবিতে রাজপথে, তখন বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন