আজমীর শরিফ দরগা ঘিরে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় বিতর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে। দরগা চত্বরের ভেতরে শিব মন্দির ও শিবলিঙ্গ থাকার দাবি জানিয়ে নতুন একটি মামলা আদালতে গৃহীত হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নোটিশ জারি করেছে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে। বিষয়টি শুধু আইনি নয়, সাম্প্রদায়িক ও ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
আজমীর দেওয়ানি আদালত সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) আজমীর দরগা চত্বরের ভেতরে একটি শিব মন্দির থাকার দাবিতে দাখিল করা একটি নতুন আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে এবং রাজস্থান সরকার, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও দরগা কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নোটিশ জারি করেছে। আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছে।
আবেদনটি দাখিল করেছেন মহারানা প্রতাপ সেনার জাতীয় সভাপতি রাজবর্ধন সিং পরমার। তার পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. এ.পি. সিং। আদালত রাজবর্ধন সিং পরমারকে এই মামলার “মূল আবেদনকারী” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, কারণ ২০২২ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া তার প্রতিনিধিত্বমূলক আবেদনকে মামলার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
আবেদনে দাবি করা হয়েছে, আজমীর দরগা চত্বরের ভেতরে ভগবান মহাদেবের একটি শিবলিঙ্গ রয়েছে এবং প্রাচীনকালে সেখানে নিয়মিত পূজা-অর্চনা হতো। এই দাবির সমর্থনে মানচিত্র, জরিপ-সংক্রান্ত নথি, আলোকচিত্র ও অন্যান্য প্রমাণ আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। ড. এ.পি. সিং বলেছেন, আদালত চাইলে আরও প্রমাণ দেওয়া হবে।
মামলায় রাজস্থান সরকার, রাজস্থান প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এবং আজমীর দরগা কমিটিকে প্রতিপক্ষ করা হয়েছে এবং তাদের সবাইকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রাজবর্ধন সিং পরমার জানিয়েছেন, প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষের হলফনামা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে, যা রাজস্থানজুড়ে প্রচারণা অভিযানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আদালতের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে উল্লেখ করেছেন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতার কথা বলেছেন।
এর আগে মহারানা প্রতাপ সেনা রাজস্থানজুড়ে একটি পদযাত্রা করেছিল, যা দরগা চত্বরে শিব মন্দিরের দাবির পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর একই ধরনের আরেকটি আবেদন দাখিল করেছিলেন হিন্দু সেনার জাতীয় সভাপতি বিষ্ণু গুপ্ত, যিনি আজমীর দরগা চত্বরে “সঙ্কট মোচন মহাদেব মন্দির” থাকার দাবি করেন। সেই আবেদনটিও আদালত গ্রহণ করে নোটিশ জারি করেছিল।
দরগা কমিটির পাল্টা আবেদনও ২১ ফেব্রুয়ারি শুনানির জন্য নির্ধারিত হয়েছে। ফলে দুটি আবেদন একই দিনে একসঙ্গে শুনানি হবে।
বিষয় : ভারত ইসলামফোবিয়া আজমীর

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬
আজমীর শরিফ দরগা ঘিরে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় বিতর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে। দরগা চত্বরের ভেতরে শিব মন্দির ও শিবলিঙ্গ থাকার দাবি জানিয়ে নতুন একটি মামলা আদালতে গৃহীত হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নোটিশ জারি করেছে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে। বিষয়টি শুধু আইনি নয়, সাম্প্রদায়িক ও ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
আজমীর দেওয়ানি আদালত সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) আজমীর দরগা চত্বরের ভেতরে একটি শিব মন্দির থাকার দাবিতে দাখিল করা একটি নতুন আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে এবং রাজস্থান সরকার, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও দরগা কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নোটিশ জারি করেছে। আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছে।
আবেদনটি দাখিল করেছেন মহারানা প্রতাপ সেনার জাতীয় সভাপতি রাজবর্ধন সিং পরমার। তার পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. এ.পি. সিং। আদালত রাজবর্ধন সিং পরমারকে এই মামলার “মূল আবেদনকারী” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, কারণ ২০২২ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া তার প্রতিনিধিত্বমূলক আবেদনকে মামলার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
আবেদনে দাবি করা হয়েছে, আজমীর দরগা চত্বরের ভেতরে ভগবান মহাদেবের একটি শিবলিঙ্গ রয়েছে এবং প্রাচীনকালে সেখানে নিয়মিত পূজা-অর্চনা হতো। এই দাবির সমর্থনে মানচিত্র, জরিপ-সংক্রান্ত নথি, আলোকচিত্র ও অন্যান্য প্রমাণ আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। ড. এ.পি. সিং বলেছেন, আদালত চাইলে আরও প্রমাণ দেওয়া হবে।
মামলায় রাজস্থান সরকার, রাজস্থান প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এবং আজমীর দরগা কমিটিকে প্রতিপক্ষ করা হয়েছে এবং তাদের সবাইকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রাজবর্ধন সিং পরমার জানিয়েছেন, প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষের হলফনামা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে, যা রাজস্থানজুড়ে প্রচারণা অভিযানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আদালতের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে উল্লেখ করেছেন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতার কথা বলেছেন।
এর আগে মহারানা প্রতাপ সেনা রাজস্থানজুড়ে একটি পদযাত্রা করেছিল, যা দরগা চত্বরে শিব মন্দিরের দাবির পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর একই ধরনের আরেকটি আবেদন দাখিল করেছিলেন হিন্দু সেনার জাতীয় সভাপতি বিষ্ণু গুপ্ত, যিনি আজমীর দরগা চত্বরে “সঙ্কট মোচন মহাদেব মন্দির” থাকার দাবি করেন। সেই আবেদনটিও আদালত গ্রহণ করে নোটিশ জারি করেছিল।
দরগা কমিটির পাল্টা আবেদনও ২১ ফেব্রুয়ারি শুনানির জন্য নির্ধারিত হয়েছে। ফলে দুটি আবেদন একই দিনে একসঙ্গে শুনানি হবে।

আপনার মতামত লিখুন