বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ ও গণআকাঙ্ক্ষা বিরোধী কোনো পদক্ষেপে অংশ নেবে না পাকিস্তান; যেকোনো সিদ্ধান্তের আগে প্রয়োজন সংসদীয় অনুমোদন

গাজায় হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান পাকিস্তানের: শান্তি বাহিনীতে অংশগ্রহণ নিয়ে কঠোর অবস্থানে ইসলামাবাদ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজায় হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান পাকিস্তানের: শান্তি বাহিনীতে অংশগ্রহণ নিয়ে কঠোর অবস্থানে ইসলামাবাদ

গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে (আইএসএফ) পাকিস্তানের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে গুঞ্জন চললেও, ইসলামাবাদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো মিশনে তারা অংশ নেবে না। বিশেষ করে, হামাসকে নিরস্ত্র করার মতো বিতর্কিত কোনো শর্তে সেনাবাহিনী পাঠাতে সাফ মানা করে দিয়েছে দেশটি।

গাজা যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং শান্তি বজায় রাখতে ২০২৫ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের অধীনে একটি 'আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী' (ISF) গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই এই বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বাহিনী গাজার নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং ইসরায়েলি সেনাদের পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার তদারকি করবে।

তবে এই বাহিনীতে পাকিস্তানের সেনা মোতায়েন নিয়ে সৃষ্ট জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশটির নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পাকিস্তান সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে, সেনাবাহিনী পাঠানোর মতো যেকোনো স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই দেশের পার্লামেন্ট এবং ফেডারেল সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার একটি 'রেড লাইন' বা চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করেছে। ইসলামাবাদ পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, গাজায় শান্তি বাহিনীর নামে হামাসকে নিরস্ত্র করার কোনো অভিযানে তারা অংশ নেবে না। ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং তাদের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি জনগণের ক্ষতি হয় বা তাদের স্বার্থবিরোধী কোনো মিশনে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ অসম্ভব।

পাকিস্তান সম্প্রতি ট্রাম্পের 'বোর্ড অফ পিস' উদ্যোগে যোগ দিলেও এটিকে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের বিকল্প হিসেবে দেখছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তান আলোচনার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা এবং পুনর্গঠনে সহায়তা করতে চায়, কিন্তু সরাসরি বিরোধপূর্ণ কোনো সামরিক মিশনে জড়িয়ে নিজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে রাজি নয়। বিশেষ করে দেশের অভ্যন্তরে ফিলিস্তিনিদের প্রতি জনগণের প্রবল আবেগ ও সহমর্মিতার বিষয়টি মাথায় রেখে কোনো রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে চাইছে না বর্তমান সরকার।

বর্তমানে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রস্তাবিত বাহিনীর কমান্ড কাঠামো, কাজের পরিধি এবং নিয়মাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। পাকিস্তান স্পষ্ট করেছে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত এই বাহিনীর উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনিদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেনা পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বহীন।

বিষয় : পাকিস্তান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


গাজায় হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান পাকিস্তানের: শান্তি বাহিনীতে অংশগ্রহণ নিয়ে কঠোর অবস্থানে ইসলামাবাদ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে (আইএসএফ) পাকিস্তানের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে গুঞ্জন চললেও, ইসলামাবাদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো মিশনে তারা অংশ নেবে না। বিশেষ করে, হামাসকে নিরস্ত্র করার মতো বিতর্কিত কোনো শর্তে সেনাবাহিনী পাঠাতে সাফ মানা করে দিয়েছে দেশটি।

গাজা যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং শান্তি বজায় রাখতে ২০২৫ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের অধীনে একটি 'আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী' (ISF) গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই এই বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বাহিনী গাজার নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং ইসরায়েলি সেনাদের পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার তদারকি করবে।

তবে এই বাহিনীতে পাকিস্তানের সেনা মোতায়েন নিয়ে সৃষ্ট জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশটির নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পাকিস্তান সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে, সেনাবাহিনী পাঠানোর মতো যেকোনো স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই দেশের পার্লামেন্ট এবং ফেডারেল সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার একটি 'রেড লাইন' বা চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করেছে। ইসলামাবাদ পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, গাজায় শান্তি বাহিনীর নামে হামাসকে নিরস্ত্র করার কোনো অভিযানে তারা অংশ নেবে না। ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং তাদের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি জনগণের ক্ষতি হয় বা তাদের স্বার্থবিরোধী কোনো মিশনে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ অসম্ভব।

পাকিস্তান সম্প্রতি ট্রাম্পের 'বোর্ড অফ পিস' উদ্যোগে যোগ দিলেও এটিকে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের বিকল্প হিসেবে দেখছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তান আলোচনার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা এবং পুনর্গঠনে সহায়তা করতে চায়, কিন্তু সরাসরি বিরোধপূর্ণ কোনো সামরিক মিশনে জড়িয়ে নিজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে রাজি নয়। বিশেষ করে দেশের অভ্যন্তরে ফিলিস্তিনিদের প্রতি জনগণের প্রবল আবেগ ও সহমর্মিতার বিষয়টি মাথায় রেখে কোনো রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে চাইছে না বর্তমান সরকার।

বর্তমানে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রস্তাবিত বাহিনীর কমান্ড কাঠামো, কাজের পরিধি এবং নিয়মাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। পাকিস্তান স্পষ্ট করেছে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত এই বাহিনীর উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনিদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেনা পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বহীন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত