এক সময়ের যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া এখন অখণ্ডতা ফিরে পাওয়ার পথে চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করেছে। মস্কোর ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এই ঘোষণা দেন। বাশার আল-আসাদ পরবর্তী 'নতুন সিরিয়া'র পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে এই বৈঠকে প্রতীয়মান হয়।
সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বুধবার মস্কোতে এক রাষ্ট্রীয় সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর এটি তার দ্বিতীয় মস্কো সফর। বৈঠকে শারা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, গত এক বছরে সিরিয়া অসংখ্য বাধা অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দেশের ভূখণ্ডকে ঐক্যবদ্ধ করা।
বৈঠকের শুরুতে শারা মস্কোর তুষারপাত দেখে নেপোলিয়ন বা হিটলারের মতো বিদেশি বাহিনীর ব্যর্থ অভিযানের কথা স্মরণ করেন। তিনি রুশ সেনাদের সাহসিকতার প্রশংসা করে রাশিয়ার ভূখণ্ডের নিরাপত্তা ও শান্তি কামনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত এক বছরে দুই দেশের মধ্যে ১৩টি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বিনিময় হয়েছে, যা দুই দেশের নিবিড় সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ।
প্রেসিডেন্ট শারা বলেন, "সিরিয়া এখন ধ্বংসস্তূপ থেকে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার দিকে যাত্রা শুরু করেছে।" বিশেষ করে সিরিয়ার অখণ্ডতা রক্ষায় রাশিয়ার সমর্থনকে তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন এই সময় 'ফোরাত নদীর পূর্ব অঞ্চল' (East of Euphrates) পুনরায় দামেস্কের নিয়ন্ত্রণে আসাকে সিরিয়ার পূর্ণ অখণ্ডতা অর্জনের পথে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।
পুতিন জানান, গত এক বছরে সিরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এটি প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি, তবে তা সঠিক পথেই এগোচ্ছে। রাশিয়ার আবাসন ও নির্মাণ শিল্প সিরিয়ার বিধ্বস্ত অবকাঠামো এবং আবাসন খাত পুনর্গঠনে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে তিনি আশ্বাস দেন।
শারা জোর দিয়ে বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় সিরিয়ার একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। তারা চান পুরো অঞ্চলটি যুদ্ধ ও ধ্বংসের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসুক। পুতিনও শারার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, ১৯৪৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক নতুন সিরিয়ার অধীনে আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর বাশার আল-আসাদের পতনের পর আহমেদ আল-শারা সিরিয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তারপর থেকে এই এক বছরে সিরিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্রে বিশাল পরিবর্তন এসেছে, যার সর্বশেষ ধাপ ছিল বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোকে কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে আনা।
বিষয় : সিরিয়া

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
এক সময়ের যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া এখন অখণ্ডতা ফিরে পাওয়ার পথে চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করেছে। মস্কোর ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এই ঘোষণা দেন। বাশার আল-আসাদ পরবর্তী 'নতুন সিরিয়া'র পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে এই বৈঠকে প্রতীয়মান হয়।
সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বুধবার মস্কোতে এক রাষ্ট্রীয় সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর এটি তার দ্বিতীয় মস্কো সফর। বৈঠকে শারা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, গত এক বছরে সিরিয়া অসংখ্য বাধা অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দেশের ভূখণ্ডকে ঐক্যবদ্ধ করা।
বৈঠকের শুরুতে শারা মস্কোর তুষারপাত দেখে নেপোলিয়ন বা হিটলারের মতো বিদেশি বাহিনীর ব্যর্থ অভিযানের কথা স্মরণ করেন। তিনি রুশ সেনাদের সাহসিকতার প্রশংসা করে রাশিয়ার ভূখণ্ডের নিরাপত্তা ও শান্তি কামনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত এক বছরে দুই দেশের মধ্যে ১৩টি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বিনিময় হয়েছে, যা দুই দেশের নিবিড় সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ।
প্রেসিডেন্ট শারা বলেন, "সিরিয়া এখন ধ্বংসস্তূপ থেকে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার দিকে যাত্রা শুরু করেছে।" বিশেষ করে সিরিয়ার অখণ্ডতা রক্ষায় রাশিয়ার সমর্থনকে তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন এই সময় 'ফোরাত নদীর পূর্ব অঞ্চল' (East of Euphrates) পুনরায় দামেস্কের নিয়ন্ত্রণে আসাকে সিরিয়ার পূর্ণ অখণ্ডতা অর্জনের পথে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।
পুতিন জানান, গত এক বছরে সিরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এটি প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি, তবে তা সঠিক পথেই এগোচ্ছে। রাশিয়ার আবাসন ও নির্মাণ শিল্প সিরিয়ার বিধ্বস্ত অবকাঠামো এবং আবাসন খাত পুনর্গঠনে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে তিনি আশ্বাস দেন।
শারা জোর দিয়ে বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় সিরিয়ার একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। তারা চান পুরো অঞ্চলটি যুদ্ধ ও ধ্বংসের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসুক। পুতিনও শারার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, ১৯৪৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক নতুন সিরিয়ার অধীনে আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর বাশার আল-আসাদের পতনের পর আহমেদ আল-শারা সিরিয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তারপর থেকে এই এক বছরে সিরিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্রে বিশাল পরিবর্তন এসেছে, যার সর্বশেষ ধাপ ছিল বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোকে কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে আনা।

আপনার মতামত লিখুন