পবিত্র রমজান মাসে মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে যাকাত ও ফিতরা সংগ্রহ করতে আসা একদল মুসলিম যুবককে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তরপ্রদেশের মিরাটে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের 'বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী' ও 'সন্দেহভাজন' তকমা দেওয়ার পর পুলিশ ২১ জনকে আটক করলেও, যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পরিকল্পিত মিরাট সফরের আগ মুহূর্তে এই ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বাধার নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন রাজ্য থেকে একদল ধর্মপ্রাণ মানুষ মিরাটে দান সংগ্রহ করতে আসেন। স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রায় ৭০-৮০ জনের মধ্যে ২১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। মিরাট পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটককৃতদের আধার কার্ড এবং পরিচয়পত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। যাচাই শেষে দেখা যায় তারা প্রত্যেকেই বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামের বৈধ ভারতীয় নাগরিক। কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রমাণ না মেলায় তাদের সসম্মানে মুক্তি দেওয়া হয়।
পুলিশি ক্লিয়ারেন্স সত্ত্বেও স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অমিত আগরওয়াল এই ঘটনায় ঘি ঢেলেছেন। তিনি জনসমক্ষে অভিযোগ করেন যে, এই ব্যক্তিরা কেবল সাধারণ দান সংগ্রহ নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গে 'বাবরি মসজিদ' নির্মাণের জন্য অর্থ তুলছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে এত বিপুল সংখ্যক সন্দেহভাজন মুসলিম শহরে কী করছে?" বিধায়ক পুলিশের দ্রুত ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং তাদের 'বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী' হিসেবে অভিহিত করেন।
বিধায়কের চাপ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা সরাসরি জানান, "অনুপ্রবেশের কোনো প্রমাণ নেই। তারা বৈধ ভারতীয় নাগরিক এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে প্রতিবছরই এমন সফর হয়ে থাকে। পদ্ধতিগত কারণে আমরা যাচাই করেছি এবং তারা নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে।" কোনো নির্দিষ্ট মসজিদের জন্য অর্থ সংগ্রহের রাজনৈতিক অভিযোগটিও পুলিশ নিশ্চিত করেনি।
স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, রমজান হলো দান ও সহমর্মিতার মাস। একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বিনা প্রমাণে কাউকে অনুপ্রবেশকারী বলা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করছে।" আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশি তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাউকে টার্গেট করা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
মিরাটের এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ধর্মীয় আচার-আচরণও এখন রাজনৈতিক চশমায় দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে বৈধ নাগরিকদের হয়রানি করা এবং সাম্প্রদায়িক তকমা দেওয়ার চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদী অবিশ্বাসের জন্ম দিচ্ছে। আপাতত পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও, এই বিতর্ক মিরাটের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার বিষয়।

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পবিত্র রমজান মাসে মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে যাকাত ও ফিতরা সংগ্রহ করতে আসা একদল মুসলিম যুবককে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তরপ্রদেশের মিরাটে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের 'বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী' ও 'সন্দেহভাজন' তকমা দেওয়ার পর পুলিশ ২১ জনকে আটক করলেও, যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পরিকল্পিত মিরাট সফরের আগ মুহূর্তে এই ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বাধার নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন রাজ্য থেকে একদল ধর্মপ্রাণ মানুষ মিরাটে দান সংগ্রহ করতে আসেন। স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রায় ৭০-৮০ জনের মধ্যে ২১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। মিরাট পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটককৃতদের আধার কার্ড এবং পরিচয়পত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। যাচাই শেষে দেখা যায় তারা প্রত্যেকেই বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামের বৈধ ভারতীয় নাগরিক। কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রমাণ না মেলায় তাদের সসম্মানে মুক্তি দেওয়া হয়।
পুলিশি ক্লিয়ারেন্স সত্ত্বেও স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অমিত আগরওয়াল এই ঘটনায় ঘি ঢেলেছেন। তিনি জনসমক্ষে অভিযোগ করেন যে, এই ব্যক্তিরা কেবল সাধারণ দান সংগ্রহ নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গে 'বাবরি মসজিদ' নির্মাণের জন্য অর্থ তুলছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে এত বিপুল সংখ্যক সন্দেহভাজন মুসলিম শহরে কী করছে?" বিধায়ক পুলিশের দ্রুত ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং তাদের 'বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী' হিসেবে অভিহিত করেন।
বিধায়কের চাপ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা সরাসরি জানান, "অনুপ্রবেশের কোনো প্রমাণ নেই। তারা বৈধ ভারতীয় নাগরিক এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে প্রতিবছরই এমন সফর হয়ে থাকে। পদ্ধতিগত কারণে আমরা যাচাই করেছি এবং তারা নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে।" কোনো নির্দিষ্ট মসজিদের জন্য অর্থ সংগ্রহের রাজনৈতিক অভিযোগটিও পুলিশ নিশ্চিত করেনি।
স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, রমজান হলো দান ও সহমর্মিতার মাস। একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বিনা প্রমাণে কাউকে অনুপ্রবেশকারী বলা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করছে।" আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশি তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাউকে টার্গেট করা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
মিরাটের এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ধর্মীয় আচার-আচরণও এখন রাজনৈতিক চশমায় দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে বৈধ নাগরিকদের হয়রানি করা এবং সাম্প্রদায়িক তকমা দেওয়ার চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদী অবিশ্বাসের জন্ম দিচ্ছে। আপাতত পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও, এই বিতর্ক মিরাটের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন