বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত মসজিদের মিনারে আজানের সুর স্তব্ধ হলেও, ধুলোবালি আর ভাঙা পাথরের স্তূপকে মাদরাসায় পরিণত করেছে ফিলিস্তিনি শিশুরা

গাজায় মসজিদের ধ্বংসাবশেষে শিশুদের কোরআন পাঠ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজায় মসজিদের ধ্বংসাবশেষে শিশুদের কোরআন পাঠ

টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ ও অবরোধের মাঝে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। যেখানে আকাশছোঁয়া অট্টালিকা আর সাজানো মসজিদ ছিল, সেখানে এখন শুধুই কংক্রিটের পাহাড়। তবে এই চরম প্রতিকূলতার মাঝেও হার মানেনি গাজার শিশুরা। খান ইউনিসের বিধ্বস্ত 'আল হাবিব মুহাম্মদ' মসজিদের ধ্বংসাবশেষের ভেতরে বসেই তারা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করে পার করছে রমজানের দিনগুলো।

গাজার ২৩ লক্ষ মানুষের জীবনে যুদ্ধ এখন এক দুঃসহ বাস্তবতা। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী হামলায় গাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং উপাসনালয়গুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে খান ইউনিসের দৃশ্যপট বলছে ভিন্ন কথা। ইসরায়েলি আগ্রাসন অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারলেও ফিলিস্তিনিদের মনোবল ও ধর্মীয় চেতনাকে স্পর্শ করতে পারেনি।

খান ইউনিস এলাকার বাসিন্দা নাঈম সাফি জানান, অত্যন্ত শ্রম ও ভালোবাসায় তারা 'আল হাবিব মুহাম্মদ' মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। ইসরায়েলি বিমান হামলায় মসজিদটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থানীয় শিশুরা সেখানে যাওয়া বন্ধ করেনি। নাঈম সাফি বলেন, "মসজিদটি ধ্বংস করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের সন্তানদের কোরআন শিক্ষার আসর বা ইবাদত বন্ধ হয়নি। এটি আল্লাহর এক বিশেষ রহমত যে, বড়দের পাশাপাশি ছোটরাও এই ধ্বংসস্তূপের মাঝেই দ্বীনি শিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।"

মসজিদের একটি ভাঙা পিলারের পাশে বসে কোরআন মুখস্থ করছিল কিশোর ইব্রাহিম ইহসান আবু রুঘা। সে জানায়, রমজান মাস তাদের কাছে শুধু উপবাস নয়, বরং জ্ঞান ও ইবাদতের বসন্ত। ইব্রাহিম বলে, "আমি চাই এই মসজিদটি আবার আগের চেয়েও সুন্দর করে গড়ে তোলা হোক। আমরা চাই সবাই কোরআনকে আঁকড়ে ধরুক। আমাদের এই শিক্ষা চালিয়ে যাওয়াটাই আমাদের প্রতিরোধের প্রতীক।"

গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের তথ্যমতে, গত দুই বছরে কয়েকশ মসজিদ পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। নিহত হয়েছেন অসংখ্য ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং ধর্মীয় পণ্ডিত। গাজার বাসিন্দারা এখন সেই আগের মতো জমকালো ইফতার মাহফিল বা আলোকিত মসজিদে তারাবিহ পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। তবুও ভাঙা দেয়ালের আড়ালে শিশুদের এই কোরআন পাঠের সম্মিলিত সুর গাজার আকাশে এক নতুন আশার আলো ছড়াচ্ছে।

তীব্র অভাব, অনাহার আর মাথার ওপর ড্রোনের শব্দের মাঝেও গাজার এই শিশুরা প্রমাণ করছে যে, বিশ্বাস আর শিক্ষার মিনার কখনো ভেঙে ফেলা যায় না।

বিষয় : ফিলিস্তিন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


গাজায় মসজিদের ধ্বংসাবশেষে শিশুদের কোরআন পাঠ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ ও অবরোধের মাঝে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। যেখানে আকাশছোঁয়া অট্টালিকা আর সাজানো মসজিদ ছিল, সেখানে এখন শুধুই কংক্রিটের পাহাড়। তবে এই চরম প্রতিকূলতার মাঝেও হার মানেনি গাজার শিশুরা। খান ইউনিসের বিধ্বস্ত 'আল হাবিব মুহাম্মদ' মসজিদের ধ্বংসাবশেষের ভেতরে বসেই তারা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করে পার করছে রমজানের দিনগুলো।

গাজার ২৩ লক্ষ মানুষের জীবনে যুদ্ধ এখন এক দুঃসহ বাস্তবতা। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী হামলায় গাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং উপাসনালয়গুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে খান ইউনিসের দৃশ্যপট বলছে ভিন্ন কথা। ইসরায়েলি আগ্রাসন অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারলেও ফিলিস্তিনিদের মনোবল ও ধর্মীয় চেতনাকে স্পর্শ করতে পারেনি।

খান ইউনিস এলাকার বাসিন্দা নাঈম সাফি জানান, অত্যন্ত শ্রম ও ভালোবাসায় তারা 'আল হাবিব মুহাম্মদ' মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। ইসরায়েলি বিমান হামলায় মসজিদটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থানীয় শিশুরা সেখানে যাওয়া বন্ধ করেনি। নাঈম সাফি বলেন, "মসজিদটি ধ্বংস করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের সন্তানদের কোরআন শিক্ষার আসর বা ইবাদত বন্ধ হয়নি। এটি আল্লাহর এক বিশেষ রহমত যে, বড়দের পাশাপাশি ছোটরাও এই ধ্বংসস্তূপের মাঝেই দ্বীনি শিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।"

মসজিদের একটি ভাঙা পিলারের পাশে বসে কোরআন মুখস্থ করছিল কিশোর ইব্রাহিম ইহসান আবু রুঘা। সে জানায়, রমজান মাস তাদের কাছে শুধু উপবাস নয়, বরং জ্ঞান ও ইবাদতের বসন্ত। ইব্রাহিম বলে, "আমি চাই এই মসজিদটি আবার আগের চেয়েও সুন্দর করে গড়ে তোলা হোক। আমরা চাই সবাই কোরআনকে আঁকড়ে ধরুক। আমাদের এই শিক্ষা চালিয়ে যাওয়াটাই আমাদের প্রতিরোধের প্রতীক।"

গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের তথ্যমতে, গত দুই বছরে কয়েকশ মসজিদ পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। নিহত হয়েছেন অসংখ্য ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং ধর্মীয় পণ্ডিত। গাজার বাসিন্দারা এখন সেই আগের মতো জমকালো ইফতার মাহফিল বা আলোকিত মসজিদে তারাবিহ পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। তবুও ভাঙা দেয়ালের আড়ালে শিশুদের এই কোরআন পাঠের সম্মিলিত সুর গাজার আকাশে এক নতুন আশার আলো ছড়াচ্ছে।

তীব্র অভাব, অনাহার আর মাথার ওপর ড্রোনের শব্দের মাঝেও গাজার এই শিশুরা প্রমাণ করছে যে, বিশ্বাস আর শিক্ষার মিনার কখনো ভেঙে ফেলা যায় না।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত