শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

ধর্মান্তরের মিথ্যা অজুহাতে স্থানীয় লোক গোপাল ভবনে হামলা চালায় কট্টরপন্থী উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা; প্রার্থনারত ভক্তদের মারধর, জিনিসপত্র লুটপাট ও নারীদের লাঞ্ছনার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য।

পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টানদের প্রার্থনা সভায় বাজরং দলের হামলা: নারীদের কানধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টানদের প্রার্থনা সভায় বাজরং দলের হামলা: নারীদের কানধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমান জেলায় একটি খ্রিস্টান প্রার্থনা সভায় কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বাজরং দল ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর ও নারী ভক্তদের চরম লাঞ্ছিত করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার নেড়োদিঘি এলাকার 'লোক গোপাল ভবন'-এ প্রার্থনা চলাকালে 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান দিয়ে এই বর্বর হামলা চালানো হয়। উগ্রপন্থীরা জোরপূর্বক ধর্মান্তরের মিথ্যা অভিযোগ তুলে সেখানে উপস্থিত সাধারণ পুণ্যার্থীদের শারীরিক নিগ্রহ ও প্রার্থনাস্থলে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

ভারতে বিজেপি শাসিত রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার পশ্চিমবঙ্গেও সংখ্যালঘু ও অন্য ধর্মে বিশ্বাসী মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত হানছে কট্টরপন্থী উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমান জেলার নেড়োদিঘির লোক গোপাল ভবনে আয়োজিত একটি শান্তিপূর্ণ খ্রিস্টান প্রার্থনা সভায় ডানপন্থী চরমপন্থী সংগঠন বাজরং দল ও শাসক দল বিজেপির ক্যাডাররা সশস্ত্র তাণ্ডব চালিয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

'জয় শ্রী রাম' স্লোগান ও চরম মধ্যযুগীয় বর্বরতা

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সাধারণ পুণ্যার্থীদের বিবরণ অনুযায়ী, গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) যখন লোক গোপাল ভবনে ঈশ্বরের সান্নিধ্যে উপাসনার কাজ চলছিল, ঠিক তখনই একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী উচ্চস্বরে 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান দিতে দিতে ভবনের ভেতরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। উপাসনালয়ে থাকা মাইক, সাউন্ড সিস্টেমসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয় এবং মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলাকারীদের বর্বরতার এখানেই শেষ নয়; তারা উপাসনায় অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষকে মারধর করে এবং বেশ কয়েকজন নারীকে চরমভাবে অপমান ও লাঞ্ছিত করে। প্রত্যক্ষদর্শী ঋতম দে, সঙ্গীতা দাস এবং চন্দ্র সাউ জানান, হামলাকারীরা নারীদের প্রকাশ্যে কানধরে ওঠবস করতে বাধ্য করে এবং ধাক্কাধাক্কি করে সবাইকে রাস্তা বের করে দেয়।

ধর্মান্তরের ভিত্তিহীন অজুহাত ও হুমকি

আক্রমণকে বৈধতা দিতে হিন্দুত্ববাদী হামলাকারীরা অভিযোগ তোলে যে, সেখানে নাকি অর্থপ্রলোভন দেখিয়ে 'সনাতন হিন্দু ধর্ম' থেকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হচ্ছিল। ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের পক্ষে ঋতম দে বর্ধমান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, হামলাকারীরা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অজুহাতে প্রার্থনা বন্ধ করার এবং ভবিষ্যতে আর কোনো ধর্মীয় সমাবেশ না করার কড়া হুমকি দিয়েছে।

এদিকে বাজরং দলের সদস্য ইন্দ্রনীল সাই চরমপন্থী সুর বজায় রেখে দাবি করেছেন, গরীব অধিবাসীদের অর্থপ্রলোভন দেখিয়ে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার প্রতিবাদেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। তবে তাদের এ দাবির পক্ষে কোনো আইনি বা তথ্যগত প্রমাণ মেলেনি। বিতর্কের মুখে বিজেপি জেলা মুখপাত্র শান্তরূপ দে হামলা ও ভাঙচুরের দায় এড়িয়ে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার কথা বলেন।

সংখ্যালঘুদের ওপর লাগাতার হামলা

উলেখ্য, ২০২৬ সালের মে মাস থেকে এ পর্যন্ত কেবল পশ্চিমবঙ্গেই খ্রিস্টানদের ওপর অন্তত ৬০টিরও বেশি আক্রমণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। সংখ্যালঘু মুসলমান থেকে শুরু করে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদের এই সংগঠিত আক্রমণ ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার বিশ্লেষকরা।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু খ্রিস্টান

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টানদের প্রার্থনা সভায় বাজরং দলের হামলা: নারীদের কানধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমান জেলায় একটি খ্রিস্টান প্রার্থনা সভায় কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বাজরং দল ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর ও নারী ভক্তদের চরম লাঞ্ছিত করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার নেড়োদিঘি এলাকার 'লোক গোপাল ভবন'-এ প্রার্থনা চলাকালে 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান দিয়ে এই বর্বর হামলা চালানো হয়। উগ্রপন্থীরা জোরপূর্বক ধর্মান্তরের মিথ্যা অভিযোগ তুলে সেখানে উপস্থিত সাধারণ পুণ্যার্থীদের শারীরিক নিগ্রহ ও প্রার্থনাস্থলে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

ভারতে বিজেপি শাসিত রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার পশ্চিমবঙ্গেও সংখ্যালঘু ও অন্য ধর্মে বিশ্বাসী মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত হানছে কট্টরপন্থী উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমান জেলার নেড়োদিঘির লোক গোপাল ভবনে আয়োজিত একটি শান্তিপূর্ণ খ্রিস্টান প্রার্থনা সভায় ডানপন্থী চরমপন্থী সংগঠন বাজরং দল ও শাসক দল বিজেপির ক্যাডাররা সশস্ত্র তাণ্ডব চালিয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

'জয় শ্রী রাম' স্লোগান ও চরম মধ্যযুগীয় বর্বরতা

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সাধারণ পুণ্যার্থীদের বিবরণ অনুযায়ী, গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) যখন লোক গোপাল ভবনে ঈশ্বরের সান্নিধ্যে উপাসনার কাজ চলছিল, ঠিক তখনই একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী উচ্চস্বরে 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান দিতে দিতে ভবনের ভেতরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। উপাসনালয়ে থাকা মাইক, সাউন্ড সিস্টেমসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয় এবং মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলাকারীদের বর্বরতার এখানেই শেষ নয়; তারা উপাসনায় অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষকে মারধর করে এবং বেশ কয়েকজন নারীকে চরমভাবে অপমান ও লাঞ্ছিত করে। প্রত্যক্ষদর্শী ঋতম দে, সঙ্গীতা দাস এবং চন্দ্র সাউ জানান, হামলাকারীরা নারীদের প্রকাশ্যে কানধরে ওঠবস করতে বাধ্য করে এবং ধাক্কাধাক্কি করে সবাইকে রাস্তা বের করে দেয়।

ধর্মান্তরের ভিত্তিহীন অজুহাত ও হুমকি

আক্রমণকে বৈধতা দিতে হিন্দুত্ববাদী হামলাকারীরা অভিযোগ তোলে যে, সেখানে নাকি অর্থপ্রলোভন দেখিয়ে 'সনাতন হিন্দু ধর্ম' থেকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হচ্ছিল। ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের পক্ষে ঋতম দে বর্ধমান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, হামলাকারীরা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অজুহাতে প্রার্থনা বন্ধ করার এবং ভবিষ্যতে আর কোনো ধর্মীয় সমাবেশ না করার কড়া হুমকি দিয়েছে।

এদিকে বাজরং দলের সদস্য ইন্দ্রনীল সাই চরমপন্থী সুর বজায় রেখে দাবি করেছেন, গরীব অধিবাসীদের অর্থপ্রলোভন দেখিয়ে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার প্রতিবাদেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। তবে তাদের এ দাবির পক্ষে কোনো আইনি বা তথ্যগত প্রমাণ মেলেনি। বিতর্কের মুখে বিজেপি জেলা মুখপাত্র শান্তরূপ দে হামলা ও ভাঙচুরের দায় এড়িয়ে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার কথা বলেন।

সংখ্যালঘুদের ওপর লাগাতার হামলা

উলেখ্য, ২০২৬ সালের মে মাস থেকে এ পর্যন্ত কেবল পশ্চিমবঙ্গেই খ্রিস্টানদের ওপর অন্তত ৬০টিরও বেশি আক্রমণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। সংখ্যালঘু মুসলমান থেকে শুরু করে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদের এই সংগঠিত আক্রমণ ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার বিশ্লেষকরা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ