রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

মাটিগাড়া-বাগডোগরা এলাকায় মধ্যরাতে গাড়ি থামিয়ে ভয়াবহ হামলা ও অগ্নিসংযোগ; পুলিশি ভূমিকা ও গোরক্ষার নামে মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে।

পশ্চিমবঙ্গে আবার ‘গোরক্ষার’ নামে গণপিটুনি: ২ মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে আবার ‘গোরক্ষার’ নামে গণপিটুনি: ২ মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তথাকথিত ‘গোরক্ষা’ ও পশু চুরির অজুহাতে আবারও মুসলিমদের লক্ষ্য করে ভয়াবহ গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার মাটিগাড়া-বাগডোগরা এলাকায় শনিবার ভোররাতে উগ্র জনতার নির্মম হামলায় ২ জন নিহত এবং ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতেরা হলেন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা শাহিদ আখতার এবং হরিয়ানার বাসিন্দা সাজ্জাদ মোহাম্মদ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও তিন মুসলিম যুবক। স্থানীয় চরমপন্থীদের এই সংহিসতায় একটি পিকআপ ভ্যান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আরেকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর ছড়ানো গোরক্ষা উন্মাদনা ও মুসলিমবিদ্বেষী সহিংসতার আরেকটি করুণ শিকার হলেন সাধারণ মুসলিম যুবকেরা। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার মাটিগাড়া-বাগডোগরা পুলিশ স্টেশন এলাকার কাছে শনিবার রাত আড়াইটার দিকে ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শাহিদ আখতার, সাজ্জাদ মোহাম্মদ এবং তাদের তিন সঙ্গী একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি প্রাইভেট কারে করে তারা বাড়িঝারা ও তারা বাড়ি গ্রাম এলাকা পার হচ্ছিলেন। বালাসন নদীর নিকটবর্তী অঞ্চলে আসামাজিক গোষ্ঠী ও চরমপন্থী জনতা গরু চুরির ভিত্তিহীন সন্দেহ তুলে তাদের গাড়ি থামায়। কোনো কথা বা প্রমাণের অপেক্ষা না করেই শুরু হয় নির্মম আক্রমণ। উগ্র জনতা তাদের ধাওয়া করে মাটিগাড়ার তারা বাড়ি থেকে বাগডোগরার ধিমাল এলাকা পর্যন্ত নিয়ে যায় এবং ঘিরে ধরে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালায়।

হামলাকারীরা কেবল যুবকদের ওপর প্রাণঘাতী আক্রমণই করেনি, বরং ঘটনাচক্রে তাদের পিকআপ ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং অন্য প্রাইভেট কারটি সম্পূর্ণ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলে।

পরবর্তীতে মারাত্মক আহত অবস্থায় খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন মৃত্যুবরণ করেন। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন শিলিগুড়ি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (এসিপি) অনির্বাণ মজুমদার। নিহতরা হলেন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া থানার সোনাপুরের বাসিন্দা শাহিদ আখতার এবং হরিয়ানার বাসিন্দা সাজ্জাদ মোহাম্মদ। আহত আমীর সাত্তার, আকরাম খান এবং আরিফ খান বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার তদন্ত প্রসঙ্গে এসিপি অনির্বাণ মজুমদার জানান, সহিংসতা মাটিগাড়া থেকে শুরু হয়ে বাগডোগরা ও পানিঘাটা এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি দাবি করেন, নিহতদের বিরুদ্ধে গোরক্ষা বা পশু চুরির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা একেবারেই প্রাথমিক এবং কোনোভাবেই প্রমাণিত নয়। তবে মানবাধিকার সংস্থা ও স্থানীয়দের দাবি, ভারতে গোরক্ষার নামে ধারাবাহিকভাবে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে এবং আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা চরম রূপ নিয়েছে। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করলেও এখন পর্যন্ত মূল হামলাকারীদের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গে আবার ‘গোরক্ষার’ নামে গণপিটুনি: ২ মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তথাকথিত ‘গোরক্ষা’ ও পশু চুরির অজুহাতে আবারও মুসলিমদের লক্ষ্য করে ভয়াবহ গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার মাটিগাড়া-বাগডোগরা এলাকায় শনিবার ভোররাতে উগ্র জনতার নির্মম হামলায় ২ জন নিহত এবং ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতেরা হলেন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা শাহিদ আখতার এবং হরিয়ানার বাসিন্দা সাজ্জাদ মোহাম্মদ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও তিন মুসলিম যুবক। স্থানীয় চরমপন্থীদের এই সংহিসতায় একটি পিকআপ ভ্যান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আরেকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর ছড়ানো গোরক্ষা উন্মাদনা ও মুসলিমবিদ্বেষী সহিংসতার আরেকটি করুণ শিকার হলেন সাধারণ মুসলিম যুবকেরা। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার মাটিগাড়া-বাগডোগরা পুলিশ স্টেশন এলাকার কাছে শনিবার রাত আড়াইটার দিকে ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শাহিদ আখতার, সাজ্জাদ মোহাম্মদ এবং তাদের তিন সঙ্গী একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি প্রাইভেট কারে করে তারা বাড়িঝারা ও তারা বাড়ি গ্রাম এলাকা পার হচ্ছিলেন। বালাসন নদীর নিকটবর্তী অঞ্চলে আসামাজিক গোষ্ঠী ও চরমপন্থী জনতা গরু চুরির ভিত্তিহীন সন্দেহ তুলে তাদের গাড়ি থামায়। কোনো কথা বা প্রমাণের অপেক্ষা না করেই শুরু হয় নির্মম আক্রমণ। উগ্র জনতা তাদের ধাওয়া করে মাটিগাড়ার তারা বাড়ি থেকে বাগডোগরার ধিমাল এলাকা পর্যন্ত নিয়ে যায় এবং ঘিরে ধরে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালায়।

হামলাকারীরা কেবল যুবকদের ওপর প্রাণঘাতী আক্রমণই করেনি, বরং ঘটনাচক্রে তাদের পিকআপ ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং অন্য প্রাইভেট কারটি সম্পূর্ণ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলে।

পরবর্তীতে মারাত্মক আহত অবস্থায় খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন মৃত্যুবরণ করেন। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন শিলিগুড়ি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (এসিপি) অনির্বাণ মজুমদার। নিহতরা হলেন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া থানার সোনাপুরের বাসিন্দা শাহিদ আখতার এবং হরিয়ানার বাসিন্দা সাজ্জাদ মোহাম্মদ। আহত আমীর সাত্তার, আকরাম খান এবং আরিফ খান বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার তদন্ত প্রসঙ্গে এসিপি অনির্বাণ মজুমদার জানান, সহিংসতা মাটিগাড়া থেকে শুরু হয়ে বাগডোগরা ও পানিঘাটা এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি দাবি করেন, নিহতদের বিরুদ্ধে গোরক্ষা বা পশু চুরির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা একেবারেই প্রাথমিক এবং কোনোভাবেই প্রমাণিত নয়। তবে মানবাধিকার সংস্থা ও স্থানীয়দের দাবি, ভারতে গোরক্ষার নামে ধারাবাহিকভাবে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে এবং আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা চরম রূপ নিয়েছে। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করলেও এখন পর্যন্ত মূল হামলাকারীদের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ