ভারতের উত্তরপ্রদেশের ভাদোহিতে এক চরম মানবিক বিপর্যয় ও জাতিগত বৈষম্যের ঘটনা সামনে এসেছে। গত মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় মহারাজা চেত সিং জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়ে চরম অবহেলার শিকার হন রানী দেবী (২০) নামে এক মুসাহার সম্প্রদায়ভুক্ত দলিত প্রসূতি নারী। অভিযোগ উঠেছে, তিনি দলিত সম্প্রদায়ের হওয়ায় হাসপাতালের দায়িত্বরত নার্স তাকে ভর্তি নিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে হাসপাতালের বাইরে খোলা সড়কেই সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হন তিনি।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের ভাদোহি জেলার জোরাই গ্রামের অধিবাসী ২০ বছর বয়সী রানী দেবী স্থানীয় অত্যন্ত অবহেলিত ও প্রান্তিক 'মুসাহার' (প্রথাগতভাবে ইঁদুর শিকারি হিসেবে পরিচিত) সম্প্রদায়ের সদস্য। মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রসববেদনা উঠলে তার মা ও ছোট ভাই বিজয় কুমার তাকে দ্রুত মহারাজা চেত সিং জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দায়িত্বরত নার্স নীলম মৌর্য প্রসূতিকে ভর্তি নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ তোলে রানীর পরিবার। রানীর স্বজনরা আকুতি-মিনতি ও প্রতিবাদ জানালেও তাতে সাড়া মেলেনি। একদিকে তীব্র প্রসববেদনা, অন্যদিকে চিকিৎসার সুযোগ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে পথচারীদের কাছ থেকে আড়াল করতে মা ও ভাইয়ের ধরে রাখা এক টুকরো পাতলা কাপড়ের অন্তরালে হাসপাতালের বাইরের রাজপথেই সন্তান প্রসব করেন রানী দেবী।
ঘটনাটির একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই উত্তরপ্রদেশ জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভারতের চরম বর্ণবাদী সামাজিক বাস্তবতার এক নগ্ন রূপ ফুটে উঠেছে এই ঘটনায়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নজর এড়ায়নি স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের। চিফ মেডিকেল অফিসার (সিএমও) এসকে চক রানী দেবীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে ভর্তি করান এবং বিশেষ যত্নের নির্দেশ দেন। পুরো বিষয়টি তদন্তে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন মহল থেকে এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। হিন্দুত্ববাদী উত্তরপ্রদেশ সরকার ও প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে প্রান্তিক দলিত ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক ব্যর্থতার দিকেই ইঙ্গিত করছে এ জাতীয় ঘটনা।
মতামত