ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির শালিমার বাগ এলাকায় মঙ্গলবার গভীর রাতে দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (এমসিডি) উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে একটি ঐতিহাসিক মসজিদের আংশিক অংশ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিয়েছে। সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অজুহাতে এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে চালানো এই প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) দাবি, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও গভীর রাতের অন্ধকারে অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির শালিমার বাগ এলাকায় মঙ্গলবার গভীর রাতে এক বিতর্কিত অভিযানে একটি প্রাচীন মসজিদের অংশবিশেষ গুঁড়িয়ে দিয়েছে দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (এমসিডি)। সড়ক প্রশস্তকরণের নাম করে পরিচালিত এই অভিযানে এমসিডি বুলডোজার ও ভারী জেসিবি মেশিন ব্যবহার করে। অভিযান চলাকালে যেকোনো ধরনের প্রতিবাদ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে পুরো এলাকা থমথমে করে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
কর্মকর্তারা দাবি করেন, শালিমার বাগের একটি বড় সরকারি হাসপাতালের সংলগ্ন প্রধান সড়কের দুই পাশের তথাকথিত "অবৈধ স্থাপনা" অপসারণের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগেও এই এলাকায় কয়েক দফায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতের এই অভিযানে সড়কের পাশে থাকা অবশিষ্টাংশ সরানোর নামে মূলত ধর্মীয় স্থাপনা ও সংলগ্ন কয়েকটি বাড়ি লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগে কোনো আইনসম্মত বা পর্যাপ্ত সময় দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকে জানান, হঠাৎ করেই গভীর রাতে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে এই তোড়জোর শুরু করা হয়, যা সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, গভীর রাতে মসজিদ ভাঙার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন এআইএমআইএম-এর দিল্লি শাখার সভাপতি শোয়েব জামাই। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে মসজিদটি সংক্রান্ত আইনি বিরোধ ও মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, সেখানে রাতের অন্ধকারে প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগ করে মসজিদ ভেঙে দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকারের ওপর চরম আঘাত। তিনি অভিযোগ করেন, সড়ক প্রশস্তকরণের দোহাই দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্মীয় স্থাপনাকে নিশানা করা হচ্ছে।
যদিও স্থানীয় প্রশাসন উচ্ছেদকে তাদের পূর্বনির্ধারিত সড়ক উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ বলেই দাবি করে চলেছে, তবে আদালতকে তোয়াক্কা না করে গভীর রাতের অন্ধকারে একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে বুলডোজার চালানোর ঘটনাটি ভারতে ক্রমবর্ধমান উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতি ও সরকারি প্রশ্রয়ে মুসলিম ঐতিহ্য ও স্থাপনা ধ্বংসের চলমান চক্রান্তের অংশ হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
মতামত