ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দমন ও স্তব্ধ করতে বেআইনি কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ আইন (UAPA)-এর মতো বিতর্কিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে মোদি সরকার। দীর্ঘ প্রায় নয় বছর অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ থাকার পর ব্রিটিশ শিখ অ্যাক্টিভিস্ট জাগতার সিং জোহাল জামিন পাওয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সম্প্রতি এ মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (USCIRF)। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ভারতে বন্দী থাকা অন্যান্য ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকারকর্মীদের দ্রুত মুক্তির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার তোয়াক্কা না করে মোদি সরকার যেভাবে সংখ্যালঘু বিশেষ করে মুসলিম ও শিখ সম্প্রদায়ের অধিকারকর্মীদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে, তার তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত স্বাধীন সরকারি কমিশন (USCIRF)।
সম্প্রতি নয়াদিল্লি হাইকোর্ট দীর্ঘ ৮ বছরেরও বেশি সময় পর ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত শিখ মানবাধিকারকর্মী জাগতার সিং জোহালকে জামিন দেন।
২০১৭ সালে ভারতে নিজের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার হন ব্রিটিশ নাগোরিক জোহাল।
ইউএসসিআইআরএফ-এর ভাইস চেয়ার সিসি হিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জোহালের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে স্তব্ধ করে দেওয়ার সরকারি নীলনকশারই অংশ। মুসলিম অধিকারকর্মী উমর খালিদ, শারজিল ইমামের মতো বহু বন্দী কেবল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অপরাধে কোনো বিচার ছাড়াই বছরের পর বছর ইউএপিএ আইনের অধীনে কারারুদ্ধ হয়ে আছেন। শুধু দেশের ভেতরেই নয়, সম্প্রতি উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত শিখ সম্প্রদায়ের নেতাদের টার্গেট করে হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা, যা স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করে সংখ্যালঘু প্রবাসীদের ভয় দেখানোর রাষ্ট্রীয় কৌশল।”
সংস্থাটি তাদের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ভারতকে পুনরায় "বিশেষ উদ্বেগের দেশ" (Country of Particular Concern - CPC) হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরকে জোর সুপারিশ জানিয়েছে।
মতামত