ভারতে মুসলিমদের ওপর চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতার আরও একটি মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর মুম্বাই থেকে উত্তর প্রদেশগামী একটি চলন্ত ট্রেনে এক মুসলিম তরুণকে বেধড়ক মারধর, জামা ছিঁড়ে বেঁধে রাখা এবং জোরপূর্বক হিন্দুত্ববাদী স্লোগান ‘জয় শ্রী রাম’ বলানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের কল্যাণ স্টেশন অতিক্রম করার পর। ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, রেলওয়ে পুলিশ এ বিষয়ে কোনো মামলা নিতে রাজি হয়নি।
ভারতে গণপরিবহন এবং প্রকাশ্যে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ওপর কট্টরপন্থী উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের টার্গেট করে হামলা ও নিপীড়ন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে এমনই এক ভয়াবহ নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরেছেন এক ভুক্তভোগী মুসলিম তরুণ।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৮ সেপ্টেম্বর, যখন ওই তরুণ মুম্বাই থেকে উত্তর প্রদেশগামী ট্রেনে ভ্রমণ করছিলেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, ট্রেনটি মহারাষ্ট্রের কল্যাণ স্টেশন অতিক্রম করার পরপরই তিনি ওয়াশরুম থেকে বের হন। সেখানে আগেই অবস্থান নেওয়া একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদী যুবক তাকে ঘিরে ধরে। প্রথমে তারা তরুণের গলায় থাকা চেইনটিকে সোনার ভেবে জোরপূর্বক সেটি ছিনিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী সেটিকে ইমিটেশনের গহনা বলে জানান এবং ফেরত চান, কিন্তু হামলাকারীরা চেইনটি ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এরপরই তারা ওই তরুণের মুসলিম পরিচয় জানতে পেরে তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। তাকে জোরপূর্বক হিন্দুত্ববাদী স্লোগান "জয় শ্রী রাম" বলতে বাধ্য করা হয়। কেবল এতেই ক্ষান্ত না হয়ে, হামলাকারীরা তরুণের শার্ট ছিঁড়ে ফেলে এবং সেই ছেঁড়া কাপড় দিয়েই তাকে বেঁধে রেখে বেধড়ক মারধর করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ভুক্তভোগী তরুণকে ঘটনার আকস্মিকতা ও নৃশংসতার বর্ণনা দিতে শোনা যায়। তিনি জানান, হামলাকারীরা মারাঠি ভাষায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিল এবং ট্রেনের অন্য সাধারণ যাত্রীরা যাতে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে না আসে, সেজন্য ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছিল। তরুণটি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি হামলাকারীদের দেখলে চিনতে পারবেন।
তবে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর ভুক্তভোগী যখন সুবিচারের আশায় রেলওয়ে পুলিশের (GRP) কাছে যান, তখন পুলিশ তার অভিযোগ বা মামলা নথিভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানায়।
ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর বাড়বাড়ন্ত এবং বিশেষ করে মুসলিমদের ওপর এ ধরনের ধারাবাহিক ধর্মীয় নিপীড়ন ও গণপিটুনির ঘটনা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। আইনের রক্ষক পুলিশের এমন উদাসীনতা ও ভুক্তভোগীকে আইনি সহায়তা না দেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে, দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় আজ কতটা নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
মতামত