ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ে ফের এক মুসলিম পরিবার উগ্র হিন্দুত্ববাদী হামলার শিকার হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কোনো কারণ ছাড়াই কেবল মুসলিম পরিচয়ের কারণে তাঁদের ওপর বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং জোরপূর্বক ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে অভিযোগকারী মোহাম্মদ সুফিয়ান জানান, অভিযুক্ত আনশু, বিকাশ, আশিশ, মোহিত ও আনন্দ প্রায় ২০০ জনের একটি উগ্র গোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। সুফিয়ান বলেন, “ঐ উগ্র দলটি আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং আমাদের নির্মমভাবে প্রহার করে। আমরা মুসলিম হওয়ায় আমাদের বিশেষভাবে নিশানা করা হয়েছিল।” তিনি আরো জানান, রক্তাক্ত হামলার সময় অভিযুক্তরা তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এবং জোরপূর্বক ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিতে বাধ্য করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার একটি ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ব্যবহারকারীরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। 'এক্স' (টুইটার)-এর এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, "আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এসব চরমপন্থীদের সমর্থনে থাকায় আইনের শাসন ব্যাহত হচ্ছে। মুসলিমদের এখন নিজেদের সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।" অন্য এক ব্যবহারকারী পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে লখনউ পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চক থানায় উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উভয় পক্ষের মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে সুফিয়ান পরিবারের অভিযোগ, কেবল তুচ্ছ ঘটনাকে আড়াল করতেই পুলিশের পক্ষ থেকে এটিকে দুই পক্ষের সাধারণ বিরোধ বলে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিম সংখ্যালঘু ও ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
মতামত