মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
কওমী টাইমস

রোজা ও ঈদের চাঁদ দেখায় বিভ্রান্তি কমাতে ৯ মাসের বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ শুরু

কেমব্রিজ–লিডসের যৌথ উদ্যোগে যুক্তরাজ্যে প্রথমবার মুসলিমদের জন্য আনুষ্ঠানিক ‘হিলাল পর্যবেক্ষণ’ প্রশিক্ষণ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

কেমব্রিজ–লিডসের যৌথ উদ্যোগে যুক্তরাজ্যে প্রথমবার মুসলিমদের জন্য আনুষ্ঠানিক ‘হিলাল পর্যবেক্ষণ’ প্রশিক্ষণ

যুক্তরাজ্যে রমজান ও ঈদের চাঁদ দেখার তারিখ নিয়ে দীর্ঘদিনের মতভেদ কমাতে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক ও বৈজ্ঞানিক হিলাল পর্যবেক্ষণ প্রশিক্ষণ চালু হয়েছে। কেমব্রিজ ও লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন ৩০ জন মুসলিম। লক্ষ্য—চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি দূর করে মুসলিম সমাজে ক্যালেন্ডার ঐক্য প্রতিষ্ঠা।

যুক্তরাজ্যে রমজান ও ঈদুল ফিতরসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবসগুলোর শুরু নিয়ে প্রতি বছরই বড় ধরনের বিভ্রান্তি দেখা দেয়। কখনো স্থানীয় মসজিদের ঘোষণা, কখনো আবার সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশের তথ্যের ওপর নির্ভরতা—এসব কারণে একই এলাকার মসজিদগুলোও ভিন্ন তারিখে রোজা শুরু বা ঈদ উদযাপন করে। এ পরিস্থিতি মুসলিম সমাজে অপ্রয়োজনীয় মতভেদ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে আসছে।

এই প্রেক্ষাপটে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, লিডস বিশ্ববিদ্যালয় এবং মুসলিম জ্যোতির্বিদ্যার সংগঠন নিউ ক্রেসেন্ট সোসাইটি—মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বৈজ্ঞানিক হিলাল পর্যবেক্ষণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে। মুনসাইটার্স একাডেমি পরিচালিত এ ৯ মাসের প্রোগ্রামটি অর্থায়ন করছে যুক্তরাজ্যের সরকারি গবেষণা সংস্থা UK Research and Innovation (UKRI)।

প্রশিক্ষণটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এতে নির্বাচিত ৩০ জন মুসলিমকে চাঁদ দেখার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক হিসাব, আকাশ পর্যবেক্ষণ কৌশল এবং তথ্য যাচাইয়ের নিয়ম শেখানো হবে।

অংশগ্রহণকারীরা প্রতি মাসে সরাসরি হিলাল পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন, অনলাইনে বিশেষজ্ঞ জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে ক্লাস করবেন এবং কেমব্রিজ ও লিডসে আয়োজিত দুটি ক্যাম্পে টেলিস্কোপ ব্যবহার করে মাঠপর্যায়ের বাস্তব প্রশিক্ষণ নেবেন।

যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪ মিলিয়ন মুসলিমের মধ্যে রোজা ও ঈদের তারিখ নিয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা থাকায় এই উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন বহু কমিউনিটি নেতা। তবে কিছু ইসলামবিরোধী গোষ্ঠী একে “বিজ্ঞানের নামে যুক্তরাজ্যকে ইসলামাইজ করার প্রচেষ্টা” হিসেবে অপপ্রচার করছে—যা বিশেষজ্ঞদের মতে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিষয় : যুক্তরাজ্য

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


কেমব্রিজ–লিডসের যৌথ উদ্যোগে যুক্তরাজ্যে প্রথমবার মুসলিমদের জন্য আনুষ্ঠানিক ‘হিলাল পর্যবেক্ষণ’ প্রশিক্ষণ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

যুক্তরাজ্যে রমজান ও ঈদের চাঁদ দেখার তারিখ নিয়ে দীর্ঘদিনের মতভেদ কমাতে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক ও বৈজ্ঞানিক হিলাল পর্যবেক্ষণ প্রশিক্ষণ চালু হয়েছে। কেমব্রিজ ও লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন ৩০ জন মুসলিম। লক্ষ্য—চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি দূর করে মুসলিম সমাজে ক্যালেন্ডার ঐক্য প্রতিষ্ঠা।

যুক্তরাজ্যে রমজান ও ঈদুল ফিতরসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবসগুলোর শুরু নিয়ে প্রতি বছরই বড় ধরনের বিভ্রান্তি দেখা দেয়। কখনো স্থানীয় মসজিদের ঘোষণা, কখনো আবার সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশের তথ্যের ওপর নির্ভরতা—এসব কারণে একই এলাকার মসজিদগুলোও ভিন্ন তারিখে রোজা শুরু বা ঈদ উদযাপন করে। এ পরিস্থিতি মুসলিম সমাজে অপ্রয়োজনীয় মতভেদ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে আসছে।

এই প্রেক্ষাপটে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, লিডস বিশ্ববিদ্যালয় এবং মুসলিম জ্যোতির্বিদ্যার সংগঠন নিউ ক্রেসেন্ট সোসাইটি—মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বৈজ্ঞানিক হিলাল পর্যবেক্ষণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে। মুনসাইটার্স একাডেমি পরিচালিত এ ৯ মাসের প্রোগ্রামটি অর্থায়ন করছে যুক্তরাজ্যের সরকারি গবেষণা সংস্থা UK Research and Innovation (UKRI)।

প্রশিক্ষণটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এতে নির্বাচিত ৩০ জন মুসলিমকে চাঁদ দেখার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক হিসাব, আকাশ পর্যবেক্ষণ কৌশল এবং তথ্য যাচাইয়ের নিয়ম শেখানো হবে।

অংশগ্রহণকারীরা প্রতি মাসে সরাসরি হিলাল পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন, অনলাইনে বিশেষজ্ঞ জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে ক্লাস করবেন এবং কেমব্রিজ ও লিডসে আয়োজিত দুটি ক্যাম্পে টেলিস্কোপ ব্যবহার করে মাঠপর্যায়ের বাস্তব প্রশিক্ষণ নেবেন।

যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪ মিলিয়ন মুসলিমের মধ্যে রোজা ও ঈদের তারিখ নিয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা থাকায় এই উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন বহু কমিউনিটি নেতা। তবে কিছু ইসলামবিরোধী গোষ্ঠী একে “বিজ্ঞানের নামে যুক্তরাজ্যকে ইসলামাইজ করার প্রচেষ্টা” হিসেবে অপপ্রচার করছে—যা বিশেষজ্ঞদের মতে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ