শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

দশকব্যাপী নৃশংসতার বিচার ও বিশ্ববিবেকের তাড়নায় আইসিজে-তে আইনি লড়াই

রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচার কেন চায় গাম্বিয়া?



রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচার কেন চায় গাম্বিয়া?

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত ভয়াবহ গণহত্যার বিচার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকার ক্ষুদ্র দেশ গাম্বিয়া বিশ্ব দরবারে এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে লড়ছে। প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার ওপর চালানো দমন-পীড়ন ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় মিয়ানমারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনাই এই ঐতিহাসিক মামলার মূল লক্ষ্য।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের পিস প্যালেসে চলতি সপ্তাহে শুরু হয়েছে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি। গত সোমবার (১২ জানুয়ারি, ২০২৬) গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল দাউদা এ জালো আদালতের ১৫ সদস্যের বিচারক প্যানেলের সামনে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করার লক্ষ্য নিয়ে সুপরিকল্পিত হামলা চালিয়েছিল।

গাম্বিয়া কেন এই মামলার নেপথ্যে?

মাত্র ২৫ লাখ জনসংখ্যার দেশ গাম্বিয়া ২০১৯ সালে ওআইসি-র (ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা) পক্ষে এই মামলাটি দায়ের করে। এর পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করেছে: ১. নিজস্ব ইতিহাস: গাম্বিয়া দীর্ঘ ২২ বছর স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া জামেহ-এর অধীনে নিপীড়িত ছিল। গণতন্ত্রে ফেরার পর দেশটি মানবাধিকার রক্ষার বৈশ্বিক গুরুত্ব অনুভব করে। ২. মানবিক দায়িত্ব: গাম্বিয়ার সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আবুবকর তামবাদু বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে তাদের ওপর চালানো বীভৎসতার বিবরণ শুনে স্তম্ভিত হন এবং আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’-এর নামে যে তাণ্ডব চালায়, তাতে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে ‘জাতিগত নিধন’ এবং ‘গণহত্যার অভিপ্রায়’ হিসেবে অভিহিত করেছে। শুনানিতে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত রোহিঙ্গাদের বিচারকদের সামনে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানোর এক আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করেন জালো।

মিয়ানমার প্রথম থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। পূর্বে অং সান সু চি এই মামলাকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বললেও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর বর্তমান জান্তা সরকার এই বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে। তারা দাবি করছে, এটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান ছিল, সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়।

এই মামলার রায় শুধুমাত্র রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে চলমান অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘন বা গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় (যেমন ফিলিস্তিনের পক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলা) একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে। যদিও আইসিজে সরাসরি রায় কার্যকর করতে পারে না, তবে এর আইনি গুরুত্ব অপরিসীম।

বিষয় : রোহিঙ্গা মিয়ানমার গাম্বিয়া

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচার কেন চায় গাম্বিয়া?

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত ভয়াবহ গণহত্যার বিচার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকার ক্ষুদ্র দেশ গাম্বিয়া বিশ্ব দরবারে এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে লড়ছে। প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার ওপর চালানো দমন-পীড়ন ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় মিয়ানমারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনাই এই ঐতিহাসিক মামলার মূল লক্ষ্য।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের পিস প্যালেসে চলতি সপ্তাহে শুরু হয়েছে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি। গত সোমবার (১২ জানুয়ারি, ২০২৬) গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল দাউদা এ জালো আদালতের ১৫ সদস্যের বিচারক প্যানেলের সামনে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করার লক্ষ্য নিয়ে সুপরিকল্পিত হামলা চালিয়েছিল।

গাম্বিয়া কেন এই মামলার নেপথ্যে?

মাত্র ২৫ লাখ জনসংখ্যার দেশ গাম্বিয়া ২০১৯ সালে ওআইসি-র (ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা) পক্ষে এই মামলাটি দায়ের করে। এর পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করেছে: ১. নিজস্ব ইতিহাস: গাম্বিয়া দীর্ঘ ২২ বছর স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া জামেহ-এর অধীনে নিপীড়িত ছিল। গণতন্ত্রে ফেরার পর দেশটি মানবাধিকার রক্ষার বৈশ্বিক গুরুত্ব অনুভব করে। ২. মানবিক দায়িত্ব: গাম্বিয়ার সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আবুবকর তামবাদু বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে তাদের ওপর চালানো বীভৎসতার বিবরণ শুনে স্তম্ভিত হন এবং আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’-এর নামে যে তাণ্ডব চালায়, তাতে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে ‘জাতিগত নিধন’ এবং ‘গণহত্যার অভিপ্রায়’ হিসেবে অভিহিত করেছে। শুনানিতে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত রোহিঙ্গাদের বিচারকদের সামনে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানোর এক আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করেন জালো।

মিয়ানমার প্রথম থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। পূর্বে অং সান সু চি এই মামলাকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বললেও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর বর্তমান জান্তা সরকার এই বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে। তারা দাবি করছে, এটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান ছিল, সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়।

এই মামলার রায় শুধুমাত্র রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে চলমান অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘন বা গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় (যেমন ফিলিস্তিনের পক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলা) একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে। যদিও আইসিজে সরাসরি রায় কার্যকর করতে পারে না, তবে এর আইনি গুরুত্ব অপরিসীম।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত