শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা জোরদার করতে উদ্যোগ; কওমি সনদ স্বীকৃতি নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতার কথাও জানালেন মন্ত্রী

৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা, কওমি সনদের জটিলতার কথাও জানালেন মন্ত্রী


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬

৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা, কওমি সনদের জটিলতার কথাও জানালেন মন্ত্রী

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রসারে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে নবনির্বাচিত সরকার। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের একটি প্রস্তাব বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

১৫ মার্চ, সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সরকারের এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের '১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি'র আওতায় প্রাথমিক শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই সংস্কারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক ও ধর্মীয় সচেতনতা তৈরি করা।

মন্ত্রী জানান, বড় পরিসরে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কওমি মাদ্রাসা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সনদের স্বীকৃতি। কওমি মাদ্রাসার অনেক শিক্ষার্থী 'কিরাত' বা কোরআন তেলাওয়াতে অত্যন্ত দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও মূলধারার শিক্ষাক্রমের সাথে সামঞ্জস্য না থাকায় প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। তবে সরকার যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে এই সনদ-সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে।

ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এই উদ্যোগ কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্মের জন্য নয়। তিনি বলেন, "ধর্মীয় শিক্ষা শুধু ইসলাম ধর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা সকল ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।" অর্থাৎ, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্যও সংশ্লিষ্ট ধর্মের শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি পরিকল্পনায় রয়েছে।

আলোচনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে মিলন বলেন, বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর আগে সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী গত দেড় দশকে শিক্ষার গুণগত মানের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে এই সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো ছিল।

সরকারের এই পদক্ষেপ সফল হলে প্রাথমিক স্তরেই শিশুরা নিজ নিজ ধর্মের সঠিক শিক্ষা ও নৈতিক আদর্শ নিয়ে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিষয় : ধর্মীয় শিক্ষা শিক্ষামন্ত্রী

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা, কওমি সনদের জটিলতার কথাও জানালেন মন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রসারে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে নবনির্বাচিত সরকার। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের একটি প্রস্তাব বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

১৫ মার্চ, সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সরকারের এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের '১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি'র আওতায় প্রাথমিক শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই সংস্কারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক ও ধর্মীয় সচেতনতা তৈরি করা।

মন্ত্রী জানান, বড় পরিসরে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কওমি মাদ্রাসা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সনদের স্বীকৃতি। কওমি মাদ্রাসার অনেক শিক্ষার্থী 'কিরাত' বা কোরআন তেলাওয়াতে অত্যন্ত দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও মূলধারার শিক্ষাক্রমের সাথে সামঞ্জস্য না থাকায় প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। তবে সরকার যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে এই সনদ-সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে।

ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এই উদ্যোগ কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্মের জন্য নয়। তিনি বলেন, "ধর্মীয় শিক্ষা শুধু ইসলাম ধর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা সকল ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।" অর্থাৎ, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্যও সংশ্লিষ্ট ধর্মের শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি পরিকল্পনায় রয়েছে।

আলোচনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে মিলন বলেন, বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর আগে সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী গত দেড় দশকে শিক্ষার গুণগত মানের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে এই সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো ছিল।

সরকারের এই পদক্ষেপ সফল হলে প্রাথমিক স্তরেই শিশুরা নিজ নিজ ধর্মের সঠিক শিক্ষা ও নৈতিক আদর্শ নিয়ে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ