শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

জনসংখ্যা বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে মুসলিমদের ‘জিহাদি শূকর’ সম্বোধন: বিজেপির নারী নেত্রীর



জনসংখ্যা বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে মুসলিমদের ‘জিহাদি শূকর’ সম্বোধন: বিজেপির নারী নেত্রীর

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মিরাটে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির এক শীর্ষ নারী নেত্রী মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চরম বর্ণবাদী ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। মুসলিমদের 'জিহাদি শূকর' এবং তাদের অধিক সন্তান জন্মদানকে পশুর সঙ্গে তুলনা করে তিনি হিন্দু নারীদের কমপক্ষে চারটি করে সন্তান নেওয়ার প্রকাশ্য আহ্বান জানান। এই ঘটনায় ভারতের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু মুসলিমদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজেপির নারী সংগঠন 'মহিলা মোর্চা'র পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের আঞ্চলিক সম্পাদক উদিতা ত্যাগী মিরাটের পিভিএস মলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তার চরমপন্থী অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দেন। তার দাবি অনুযায়ী, ভারতের হিন্দু সমাজ বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।

তিনি বলেন: ৯টি হোক বা ৪টি—যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে আমার সন্তানদের গলা কাটা হচ্ছে এবং আমার ঘরে সন্তান বা অস্ত্র কোনোটিই নেই, তবে আমি বাঁচব না। এটি একটি সাধারণ ও ব্যবহারিক হিসাব।

উদিতা ত্যাগী আরও দাবি করেন যে, যদি কোনো হিন্দু নারীর ৪টি সন্তান থাকে, তবে বিপদের সময় তারা লড়াই করতে পারবে এবং এতে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তার সংগঠন হিন্দু নারীদের অন্তত ৩ থেকে ৪টি করে সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।

ডা. উদিতা ত্যাগী যখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন যে তিনি নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীকে ইঙ্গিত করছেন কি না, তখন তিনি অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেন। তিনি সরাসরি বলেন, "অন্য পক্ষের জিহাদি শূকররা, যারা শূকরের মতো বংশবৃদ্ধি করছে, তারাই এর জন্য দায়ী। আমি মুসলিমদের কথাই বলছি।"

এই ধরনের বক্তব্য কেবল একটি বিচ্ছিন্ন মন্তব্য নয়, বরং ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুসলিমদের 'অন্যকরণ' (Othering) করার এক পরিকল্পিত প্রক্রিয়া। উত্তরপ্রদেশসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ধরনের বক্তব্য দেওয়ার পর প্রায়ই সংখ্যালঘু মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও জানমালের ওপর উগ্রবাদী হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাধারণ মুসলিমরা এই ধরনের প্রকাশ্য হুমকির ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, প্রকাশ্য স্থানে রাজনৈতিক নেতাদের এমন ঘৃণ্য মন্তব্য সামাজিক অস্থিরতা ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দেওয়ার নামান্তর।

ভারতের সংবিধানের ২৫ থেকে ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রতিটি নাগরিককে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার দিয়েছে এবং অনুচ্ছেদ ১৫ ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ১৫৩এ এবং ৫০৫ ধারা অনুযায়ী, দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি বা উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। ডা. উদিতা ত্যাগীর বক্তব্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং জাতিসংঘের 'হেট স্পিচ' সংক্রান্ত নির্দেশিকাগুলোর স্পষ্ট লঙ্ঘন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের থেকে এমন বক্তব্য আসা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে। যেখানে সাধারণ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব, সেখানে দায়িত্বশীল পদের ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে পশুর সঙ্গে তুলনা করা মানবমর্যাদার পরিপন্থী।

বিষয় : ভারত বিজেপি

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


জনসংখ্যা বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে মুসলিমদের ‘জিহাদি শূকর’ সম্বোধন: বিজেপির নারী নেত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মিরাটে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির এক শীর্ষ নারী নেত্রী মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চরম বর্ণবাদী ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। মুসলিমদের 'জিহাদি শূকর' এবং তাদের অধিক সন্তান জন্মদানকে পশুর সঙ্গে তুলনা করে তিনি হিন্দু নারীদের কমপক্ষে চারটি করে সন্তান নেওয়ার প্রকাশ্য আহ্বান জানান। এই ঘটনায় ভারতের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু মুসলিমদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজেপির নারী সংগঠন 'মহিলা মোর্চা'র পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের আঞ্চলিক সম্পাদক উদিতা ত্যাগী মিরাটের পিভিএস মলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তার চরমপন্থী অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দেন। তার দাবি অনুযায়ী, ভারতের হিন্দু সমাজ বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।

তিনি বলেন: ৯টি হোক বা ৪টি—যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে আমার সন্তানদের গলা কাটা হচ্ছে এবং আমার ঘরে সন্তান বা অস্ত্র কোনোটিই নেই, তবে আমি বাঁচব না। এটি একটি সাধারণ ও ব্যবহারিক হিসাব।

উদিতা ত্যাগী আরও দাবি করেন যে, যদি কোনো হিন্দু নারীর ৪টি সন্তান থাকে, তবে বিপদের সময় তারা লড়াই করতে পারবে এবং এতে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তার সংগঠন হিন্দু নারীদের অন্তত ৩ থেকে ৪টি করে সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।

ডা. উদিতা ত্যাগী যখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন যে তিনি নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীকে ইঙ্গিত করছেন কি না, তখন তিনি অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেন। তিনি সরাসরি বলেন, "অন্য পক্ষের জিহাদি শূকররা, যারা শূকরের মতো বংশবৃদ্ধি করছে, তারাই এর জন্য দায়ী। আমি মুসলিমদের কথাই বলছি।"

এই ধরনের বক্তব্য কেবল একটি বিচ্ছিন্ন মন্তব্য নয়, বরং ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুসলিমদের 'অন্যকরণ' (Othering) করার এক পরিকল্পিত প্রক্রিয়া। উত্তরপ্রদেশসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ধরনের বক্তব্য দেওয়ার পর প্রায়ই সংখ্যালঘু মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও জানমালের ওপর উগ্রবাদী হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাধারণ মুসলিমরা এই ধরনের প্রকাশ্য হুমকির ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, প্রকাশ্য স্থানে রাজনৈতিক নেতাদের এমন ঘৃণ্য মন্তব্য সামাজিক অস্থিরতা ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দেওয়ার নামান্তর।

ভারতের সংবিধানের ২৫ থেকে ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রতিটি নাগরিককে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার দিয়েছে এবং অনুচ্ছেদ ১৫ ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ১৫৩এ এবং ৫০৫ ধারা অনুযায়ী, দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি বা উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। ডা. উদিতা ত্যাগীর বক্তব্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং জাতিসংঘের 'হেট স্পিচ' সংক্রান্ত নির্দেশিকাগুলোর স্পষ্ট লঙ্ঘন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের থেকে এমন বক্তব্য আসা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে। যেখানে সাধারণ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব, সেখানে দায়িত্বশীল পদের ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে পশুর সঙ্গে তুলনা করা মানবমর্যাদার পরিপন্থী।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত