শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

‘মোল্লার খাবার সবার জন্য’— মুম্বাইয়ের রাজপথে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ক্ষুধার্তদের পাশে দাঁড়িয়ে সম্প্রীতির অনন্য নজির

সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের জবাবে সম্প্রীতির নজির: মুম্বাইয়ে মুসলিম যুবকের ‘সবার জন্য খাবার’ কর্মসূচি



সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের জবাবে সম্প্রীতির নজির: মুম্বাইয়ে মুসলিম যুবকের ‘সবার জন্য খাবার’ কর্মসূচি

ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক মুসলিম যুবক। সম্প্রতি হিন্দু রক্ষা দলের (HRD) প্রধান পিংকি চৌধুরীর সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের প্রতিবাদে তিনি ‘মোল্লার খাবার সবার জন্য’ স্লোগান দিয়ে দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সম্প্রীতির এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয় যেখানে হিন্দু রক্ষা দলের প্রধান ভুপেন্দ্র তোমার (পিঙ্কি চৌধুরী) এক দরিদ্র ব্যক্তির হাত থেকে খাবারের থালা কেড়ে নেন।

চৌধুরী প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন যে, কোনো মুসলমানকে খাবার দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “মোল্লারা আসবে না, শুধু হিন্দুরা আসবে।”

তার এই বক্তব্য এবং দরিদ্রের মুখ থেকে খাবার কেড়ে নেওয়ার ঘটনাটি ব্যাপক জনরোষ ও সমালোচনার জন্ম দেয়। সমালোচকরা এটিকে সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানি হিসেবে দেখছেন।

পিঙ্কি চৌধুরীর সেই বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের প্রতিক্রিয়ায় মুম্বাইয়ের ওই মুসলিম যুবক পাল্টা কোনো ঘৃণা না ছড়িয়ে খাদ্য বিতরণের উদ্যোগ নেন।

তিনি ফল, স্ন্যাকস এবং বিশুদ্ধ পানি নিয়ে রাস্তায় নামেন। তার ব্যানারে লেখা ছিল— “মোল্লার খাবার সবার জন্য” (Mullah ka khana sab ke liye)।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি 'ভগবান' নামের এক ব্যক্তিকে খাবার দিচ্ছেন এবং বলছেন, “এটিই প্রকৃত ইনসানিয়ত। নিশ্চিন্তে খান।”

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। যুবকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ক্ষুধার কোনো ধর্ম নেই এবং এই উদ্যোগ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, বরং ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

পিংকি চৌধুরীর অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরপ্রদেশের জাতীয় মহাসড়কে “মুসলমানদের জন্য রাস্তা নয়” লিখে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল তার দল।

ভারতীয় সংবিধানের আর্টিকেল ১৫ ধর্মীয় বৈষম্য নিষিদ্ধ করে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার উল্লেখ করেছে যে, জনসমক্ষে এ ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য (Hate Speech) সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে। নাগরিক অধিকার কর্মীদের মতে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

পিংকি চৌধুরী এর আগে গাজিয়াবাদে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মুসলিমদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন এবং মুসলিমদের এলাকা থেকে উচ্ছেদ করার ডাক দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ নাগরিকরা প্রায়ই এ ধরনের সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের বিরুদ্ধে মানবিক সংহতি প্রকাশ করে আসছেন।

ঘৃণা যখন বিভাজন তৈরি করতে চায়, তখন মানবিকতাই হয়ে ওঠে প্রতিরোধের শ্রেষ্ঠ ভাষা। মুম্বাইয়ের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা আজও অটুট রয়েছে।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের জবাবে সম্প্রীতির নজির: মুম্বাইয়ে মুসলিম যুবকের ‘সবার জন্য খাবার’ কর্মসূচি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক মুসলিম যুবক। সম্প্রতি হিন্দু রক্ষা দলের (HRD) প্রধান পিংকি চৌধুরীর সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের প্রতিবাদে তিনি ‘মোল্লার খাবার সবার জন্য’ স্লোগান দিয়ে দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সম্প্রীতির এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয় যেখানে হিন্দু রক্ষা দলের প্রধান ভুপেন্দ্র তোমার (পিঙ্কি চৌধুরী) এক দরিদ্র ব্যক্তির হাত থেকে খাবারের থালা কেড়ে নেন।

চৌধুরী প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন যে, কোনো মুসলমানকে খাবার দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “মোল্লারা আসবে না, শুধু হিন্দুরা আসবে।”

তার এই বক্তব্য এবং দরিদ্রের মুখ থেকে খাবার কেড়ে নেওয়ার ঘটনাটি ব্যাপক জনরোষ ও সমালোচনার জন্ম দেয়। সমালোচকরা এটিকে সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানি হিসেবে দেখছেন।

পিঙ্কি চৌধুরীর সেই বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের প্রতিক্রিয়ায় মুম্বাইয়ের ওই মুসলিম যুবক পাল্টা কোনো ঘৃণা না ছড়িয়ে খাদ্য বিতরণের উদ্যোগ নেন।

তিনি ফল, স্ন্যাকস এবং বিশুদ্ধ পানি নিয়ে রাস্তায় নামেন। তার ব্যানারে লেখা ছিল— “মোল্লার খাবার সবার জন্য” (Mullah ka khana sab ke liye)।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি 'ভগবান' নামের এক ব্যক্তিকে খাবার দিচ্ছেন এবং বলছেন, “এটিই প্রকৃত ইনসানিয়ত। নিশ্চিন্তে খান।”

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। যুবকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ক্ষুধার কোনো ধর্ম নেই এবং এই উদ্যোগ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, বরং ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

পিংকি চৌধুরীর অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরপ্রদেশের জাতীয় মহাসড়কে “মুসলমানদের জন্য রাস্তা নয়” লিখে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল তার দল।

ভারতীয় সংবিধানের আর্টিকেল ১৫ ধর্মীয় বৈষম্য নিষিদ্ধ করে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার উল্লেখ করেছে যে, জনসমক্ষে এ ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য (Hate Speech) সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে। নাগরিক অধিকার কর্মীদের মতে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

পিংকি চৌধুরী এর আগে গাজিয়াবাদে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মুসলিমদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন এবং মুসলিমদের এলাকা থেকে উচ্ছেদ করার ডাক দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ নাগরিকরা প্রায়ই এ ধরনের সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের বিরুদ্ধে মানবিক সংহতি প্রকাশ করে আসছেন।

ঘৃণা যখন বিভাজন তৈরি করতে চায়, তখন মানবিকতাই হয়ে ওঠে প্রতিরোধের শ্রেষ্ঠ ভাষা। মুম্বাইয়ের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা আজও অটুট রয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ