বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থানের পরিধি বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। বিদেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে ‘মুআদালা’ বা শিক্ষাচুক্তি সম্পন্ন করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে দাওরায়ে হাদিসের (মাস্টার্স সমমান) সনদ দিয়ে সরকারি বিভিন্ন ধর্মীয় পদে নিয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সংস্থাটি। কওমি স্কলার ও তরুণ শিক্ষাবিদদের সাথে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এই মহাপরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
শনিবার দুপুরে রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ীস্থ হাইয়া মিলনায়তনে দেশের শীর্ষ কওমি স্কলার ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার (বেফাক) মহাসচিব মুফতি মাহফুজুল হক।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে চুক্তি
সভাপতির বক্তব্যে মুফতি মাহফুজুল হক বলেন, "হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কওমি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির পথে হাঁটছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে বিদেশে গিয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারে, সে বিষয়ে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ অথরিটি গুরুত্বের সাথে ভাবছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা বিদেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা চুক্তি বা ‘মুআদালা’ বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পূর্ববর্তী মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস সাহেবের সময় মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগ ও প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। নেতৃত্বের পরিবর্তনের কারণে অনেক কাজ থমকে গেলেও তরুণদের অভিজ্ঞতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে কওমি শিক্ষা ব্যবস্থা অবশ্যই সফলতার মুখ দেখবে। শুধু হাইয়া নয়, বেফাকের পক্ষ থেকেও দ্রুত তরুণদের নিয়ে বসা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
সিলেবাস আধুনিকায়ন
হাইয়াতুল উলইয়ার অফিস সম্পাদক মাওলানা অসিউর রহমান সভায় জানান, বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কওমি সনদের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে সিলেবাস সাজানোর কাজ পুরোদমে চলছে। ইতোমধ্যে দাওরায়ে হাদিসের (মাস্টার্স সমমান) ক্রেডিট নির্ধারণসহ ক্লাস বা শ্রেণিবিন্যাসের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে এবং বর্তমানে ফজিলত (স্নাতক) স্তরের বিন্যাস ও আধুনিকায়নের কাজ চলছে।
সনদের স্বীকৃতি ও দাবি
বেফাক মহাসচিব স্পষ্ট করেন যে, কওমি মাদ্রাসার মুরুব্বী এবং তরুণ প্রজন্ম—উভয় পক্ষই সরকারি স্বীকৃতির পক্ষে, তবে কওমি শিক্ষার মৌলিক কাঠামো ও দেওবন্দী আদর্শের কোনো পরিবর্তন না করে। যেসব শর্তের আলোকে দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়া হয়েছে, সেই শর্তের ভিত্তিতে চাকুরিতে যোগ দিতে কওমি আলেমদের কোনো দ্বিধা নেই।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত তরুণ স্কলারদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়:
দাওরায়ে হাদিসের সনদে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র:
অনুষ্ঠানের শুরুতে হাইয়াতুল উলইয়ার অফিস সম্পাদক মাওলানা অসিউর রহমান একটি মূল প্রবন্ধ (কী-নোট) পাঠ করেন। সেখানে তিনি কওমি সনদের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে যেসকল ধর্মীয় পদে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত চাকুরির সুযোগ রয়েছে, তা বিস্তারিত তুলে ধরেন: ক) প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক (ইসলাম ধর্ম) পদে নিয়োগ।
উক্ত মতবিনিময় বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও চিন্তাবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ, মাওলানা আতিকুল্লাহ, মাওলানা জাবের কাসেমী, মাওলানা আবদুল্লাহ আল ফারুক, মুফতি মুঈনুল ইসলাম সাইয়্যিদপুরী, মাওলানা মাসউদুল কাদির, মাওলানা শামুসুদ্দোহা আশরাফী, মাওলানা আবদুল্লাহ মাসুম, মাওলানা মুহিউদ্দিন ফারুক, মুফতী তাসনীম আহমদ, মাওলানা ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতী সাইফুল ইসলাম, গাজী সানাউল্লাহ রাহমানী, মাওলানা রেজাউল করীম আবরার, মুফতি আবুল ফাতাহ কাসেমী, মাওলানা এনায়েত কবির, মাওলানা ইহসানুল হক, মাওলানা তানজিল আমির, মাওলানা আবু মুহাম্মাদ রাহমানী, মাওলানা সাদ আবদুল্লাহ মামুন, মাওলানা আহমাদ সিরাজী প্রমুখ।
বিষয় : শিক্ষা

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থানের পরিধি বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। বিদেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে ‘মুআদালা’ বা শিক্ষাচুক্তি সম্পন্ন করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে দাওরায়ে হাদিসের (মাস্টার্স সমমান) সনদ দিয়ে সরকারি বিভিন্ন ধর্মীয় পদে নিয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সংস্থাটি। কওমি স্কলার ও তরুণ শিক্ষাবিদদের সাথে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এই মহাপরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
শনিবার দুপুরে রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ীস্থ হাইয়া মিলনায়তনে দেশের শীর্ষ কওমি স্কলার ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার (বেফাক) মহাসচিব মুফতি মাহফুজুল হক।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে চুক্তি
সভাপতির বক্তব্যে মুফতি মাহফুজুল হক বলেন, "হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কওমি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির পথে হাঁটছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে বিদেশে গিয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারে, সে বিষয়ে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ অথরিটি গুরুত্বের সাথে ভাবছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা বিদেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা চুক্তি বা ‘মুআদালা’ বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পূর্ববর্তী মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস সাহেবের সময় মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগ ও প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। নেতৃত্বের পরিবর্তনের কারণে অনেক কাজ থমকে গেলেও তরুণদের অভিজ্ঞতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে কওমি শিক্ষা ব্যবস্থা অবশ্যই সফলতার মুখ দেখবে। শুধু হাইয়া নয়, বেফাকের পক্ষ থেকেও দ্রুত তরুণদের নিয়ে বসা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
সিলেবাস আধুনিকায়ন
হাইয়াতুল উলইয়ার অফিস সম্পাদক মাওলানা অসিউর রহমান সভায় জানান, বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কওমি সনদের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে সিলেবাস সাজানোর কাজ পুরোদমে চলছে। ইতোমধ্যে দাওরায়ে হাদিসের (মাস্টার্স সমমান) ক্রেডিট নির্ধারণসহ ক্লাস বা শ্রেণিবিন্যাসের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে এবং বর্তমানে ফজিলত (স্নাতক) স্তরের বিন্যাস ও আধুনিকায়নের কাজ চলছে।
সনদের স্বীকৃতি ও দাবি
বেফাক মহাসচিব স্পষ্ট করেন যে, কওমি মাদ্রাসার মুরুব্বী এবং তরুণ প্রজন্ম—উভয় পক্ষই সরকারি স্বীকৃতির পক্ষে, তবে কওমি শিক্ষার মৌলিক কাঠামো ও দেওবন্দী আদর্শের কোনো পরিবর্তন না করে। যেসব শর্তের আলোকে দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়া হয়েছে, সেই শর্তের ভিত্তিতে চাকুরিতে যোগ দিতে কওমি আলেমদের কোনো দ্বিধা নেই।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত তরুণ স্কলারদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়:
দাওরায়ে হাদিসের সনদে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র:
অনুষ্ঠানের শুরুতে হাইয়াতুল উলইয়ার অফিস সম্পাদক মাওলানা অসিউর রহমান একটি মূল প্রবন্ধ (কী-নোট) পাঠ করেন। সেখানে তিনি কওমি সনদের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে যেসকল ধর্মীয় পদে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত চাকুরির সুযোগ রয়েছে, তা বিস্তারিত তুলে ধরেন: ক) প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক (ইসলাম ধর্ম) পদে নিয়োগ।
উক্ত মতবিনিময় বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও চিন্তাবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ, মাওলানা আতিকুল্লাহ, মাওলানা জাবের কাসেমী, মাওলানা আবদুল্লাহ আল ফারুক, মুফতি মুঈনুল ইসলাম সাইয়্যিদপুরী, মাওলানা মাসউদুল কাদির, মাওলানা শামুসুদ্দোহা আশরাফী, মাওলানা আবদুল্লাহ মাসুম, মাওলানা মুহিউদ্দিন ফারুক, মুফতী তাসনীম আহমদ, মাওলানা ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতী সাইফুল ইসলাম, গাজী সানাউল্লাহ রাহমানী, মাওলানা রেজাউল করীম আবরার, মুফতি আবুল ফাতাহ কাসেমী, মাওলানা এনায়েত কবির, মাওলানা ইহসানুল হক, মাওলানা তানজিল আমির, মাওলানা আবু মুহাম্মাদ রাহমানী, মাওলানা সাদ আবদুল্লাহ মামুন, মাওলানা আহমাদ সিরাজী প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন