কওমি মাদ্রাসা ও ঐতিহ্যবাহী আলেম সমাজের বিরুদ্ধে চলমান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে উলামা পরিষদ গোপালগঞ্জ। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গোপালগঞ্জ শহরের মুসলিম এতিমখানা মাদ্রাসার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জরুরি নির্বাহী সভায় উলামা নেতৃবৃন্দ এ সিদ্ধান্ত জানান। সভায় আলেম সমাজ ও দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও নৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়।
দেশের কওমি মাদ্রাসা এবং আলেম সমাজের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ মহলের পরিকল্পিত অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে উলামা পরিষদ গোপালগঞ্জ।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের সঞ্চালনায় ও মুফতি হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উলামা পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় বক্তারা সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ওলামায়ে কেরাম ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। একই সাথে কওমি মাদ্রাসাগুলোর অভ্যন্তরীণ শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকলের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
ব্যক্তির অপরাধ প্রতিষ্ঠানের নয়
উলামা নেতৃবৃন্দ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির। নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হওয়া উচিত। কিন্তু তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ঢালাওভাবে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা, ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কিংবা সামগ্রিক আলেম সমাজকে হেয়প্রতিপন্ন করা অত্যন্ত অন্যায় ও নিন্দনীয় মানসিকতা।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বহু তথ্যই বাস্তবতাবর্জিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অনেক ক্ষেত্রে সত্য আড়াল করে বানোয়াট প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কোনো ঘটনা প্রথমদিকে যেভাবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে ব্যাপক প্রচার পায়, পরবর্তীতে সুষ্ঠু তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হওয়ার পর তা একই গুরুত্বে মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হয় না। ফলে সাধারণ জনমনে চরম বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
'জঙ্গিবাদ' কার্ড খেলার অপচেষ্টা প্রতিহতের আহ্বান
দেশব্যাপী কালিমা খচিত পতাকা টানানোর সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ টেনে বক্তারা বলেন, দেশের ভেতরে বিদেশি বা ভিনদেশি পতাকা প্রদর্শনের একপ্রকার প্রতিক্রিয়া হিসেবে কিছু সাধারণ মানুষ আবেগের বশবর্তী হয়ে তাওহীদি চেতনার স্মারক কালিমা খচিত পতাকা টানিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়। তবে এ ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে পুনরায় তথাকথিত 'জঙ্গিবাদ' ইস্যু তৈরি বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা আলেম সমাজ ও দেশপ্রেমিক জনতা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।
পাঁচ থানায় সমাবেশ ও উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন
সভায় জানানো হয়, উলামা পরিষদ গোপালগঞ্জ জেলার উলামায়ে কেরাম, কওমি মাদ্রাসা এবং সাধারণ মানুষের দ্বীনি ও সামাজিক কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও সার্বিক কার্যক্রমে গঠনমূলক পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের 'পর্যবেক্ষণ কমিটি' গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ইসলামের সঠিক দাওয়াত ও সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে জেলার পাঁচটি থানায় বৃহৎ উলামা সমাবেশ, ইউনিয়নভিত্তিক ইলাহী মজলিস এবং জেলা শহরে শিক্ষিত সমাজ, ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে 'দাওয়াতি সেমিনার' আয়োজনের বিস্তৃত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
উক্ত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুফতি মোর্তাজা হাসান, মাওলানা ফখরুল আলম, মুফতি মাসুদুর রহমান, মাওলানা হায়াত আলী, মাওলানা আবুল কালাম, মুফতি জাহিদ আল মাহমুদ, মাওলানা ফারুক হাসান নদভী, মাওলানা নাসিম আহমদ, মাওলানা শরিফ আনিসুর রহমান, মুফতি আহমাদুল্লাহ মিশকাত, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাওলানা হাফিজুল ইসলাম শাহীন, মাওলানা রবিউল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, মাওলানা ওমর ফারুক রহমানি, মাওলানা আব্দুস সামাদ, মাওলানা আব্দুর রহমান, কারী বশির আহমদ এবং মাওলানা মুফিজুর রহমানসহ জেলার শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম।
বিষয় : কওমী মাদরাসা গোপালগঞ্জ

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
কওমি মাদ্রাসা ও ঐতিহ্যবাহী আলেম সমাজের বিরুদ্ধে চলমান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে উলামা পরিষদ গোপালগঞ্জ। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গোপালগঞ্জ শহরের মুসলিম এতিমখানা মাদ্রাসার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জরুরি নির্বাহী সভায় উলামা নেতৃবৃন্দ এ সিদ্ধান্ত জানান। সভায় আলেম সমাজ ও দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও নৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়।
দেশের কওমি মাদ্রাসা এবং আলেম সমাজের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ মহলের পরিকল্পিত অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে উলামা পরিষদ গোপালগঞ্জ।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের সঞ্চালনায় ও মুফতি হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উলামা পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় বক্তারা সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ওলামায়ে কেরাম ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। একই সাথে কওমি মাদ্রাসাগুলোর অভ্যন্তরীণ শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকলের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
ব্যক্তির অপরাধ প্রতিষ্ঠানের নয়
উলামা নেতৃবৃন্দ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির। নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হওয়া উচিত। কিন্তু তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ঢালাওভাবে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা, ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কিংবা সামগ্রিক আলেম সমাজকে হেয়প্রতিপন্ন করা অত্যন্ত অন্যায় ও নিন্দনীয় মানসিকতা।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বহু তথ্যই বাস্তবতাবর্জিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অনেক ক্ষেত্রে সত্য আড়াল করে বানোয়াট প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কোনো ঘটনা প্রথমদিকে যেভাবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে ব্যাপক প্রচার পায়, পরবর্তীতে সুষ্ঠু তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হওয়ার পর তা একই গুরুত্বে মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হয় না। ফলে সাধারণ জনমনে চরম বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
'জঙ্গিবাদ' কার্ড খেলার অপচেষ্টা প্রতিহতের আহ্বান
দেশব্যাপী কালিমা খচিত পতাকা টানানোর সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ টেনে বক্তারা বলেন, দেশের ভেতরে বিদেশি বা ভিনদেশি পতাকা প্রদর্শনের একপ্রকার প্রতিক্রিয়া হিসেবে কিছু সাধারণ মানুষ আবেগের বশবর্তী হয়ে তাওহীদি চেতনার স্মারক কালিমা খচিত পতাকা টানিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়। তবে এ ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে পুনরায় তথাকথিত 'জঙ্গিবাদ' ইস্যু তৈরি বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা আলেম সমাজ ও দেশপ্রেমিক জনতা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।
পাঁচ থানায় সমাবেশ ও উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন
সভায় জানানো হয়, উলামা পরিষদ গোপালগঞ্জ জেলার উলামায়ে কেরাম, কওমি মাদ্রাসা এবং সাধারণ মানুষের দ্বীনি ও সামাজিক কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও সার্বিক কার্যক্রমে গঠনমূলক পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের 'পর্যবেক্ষণ কমিটি' গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ইসলামের সঠিক দাওয়াত ও সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে জেলার পাঁচটি থানায় বৃহৎ উলামা সমাবেশ, ইউনিয়নভিত্তিক ইলাহী মজলিস এবং জেলা শহরে শিক্ষিত সমাজ, ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে 'দাওয়াতি সেমিনার' আয়োজনের বিস্তৃত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
উক্ত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুফতি মোর্তাজা হাসান, মাওলানা ফখরুল আলম, মুফতি মাসুদুর রহমান, মাওলানা হায়াত আলী, মাওলানা আবুল কালাম, মুফতি জাহিদ আল মাহমুদ, মাওলানা ফারুক হাসান নদভী, মাওলানা নাসিম আহমদ, মাওলানা শরিফ আনিসুর রহমান, মুফতি আহমাদুল্লাহ মিশকাত, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাওলানা হাফিজুল ইসলাম শাহীন, মাওলানা রবিউল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, মাওলানা ওমর ফারুক রহমানি, মাওলানা আব্দুস সামাদ, মাওলানা আব্দুর রহমান, কারী বশির আহমদ এবং মাওলানা মুফিজুর রহমানসহ জেলার শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম।

আপনার মতামত লিখুন