যুক্তরাজ্যে খ্রিষ্টান পরিবারে বড় হওয়া দুই ব্রিটিশ নারী আমান্ডা সাটন ও টিয়ারা কেলি ইসলামের সত্যবাণীতে উদ্বুদ্ধ হয়ে মুসলিম হয়েছেন। দীর্ঘদিনের আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসা এবং পারিবারিক ও সামাজিক নানা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাওয়া এই দুই নারীর ইসলাম গ্রহণের গল্প বিশ্বজুড়ে নওমুসলিমদের জন্য এক অনন্য প্রেরণা। জীবনের কঠিনতম সময়ে বিশ্বাসে অটল থাকা এবং যুক্তরাজ্যের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা 'সোলেস ইউকে' (Solace UK)-এর সহায়তায় তাদের নতুন জীবন গড়ার গল্প উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে।
খ্রিষ্টীয় সংস্কৃতির চাদরে মোড়ানো সমাজ থেকে বের হয়ে সত্যের আলোর খোঁজে ইসলামের আঙিনায় পা রেখেছেন যুক্তরাজ্যের দুই নারী আমান্ডা সাটন ও টিয়ারা কেলি। জন্মসূত্রে খ্রিষ্টান হলেও মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক এক দীর্ঘ লড়াই শেষে তারা বেছে নিয়েছেন শান্তির ধর্ম ইসলামকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তারা বর্ণনা করেছেন তাদের এই রূপান্তরের গল্প, ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে আসা মানসিক চাপ এবং এই কঠিন সময়ে নওমুসলিম নারীদের সহায়তাকারী সংস্থা 'সোলেস ইউকে' (Solace UK)-এর অনন্য ভূমিকার কথা।
কোরআন পড়ার পর মনে হলো নিজের ঘরে ফিরেছি: আমান্ডা সাটন
ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী ব্রিটিশ নারী আমান্ডা সাটনের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে অত্যন্ত রক্ষণশীল এক খ্রিষ্টান পরিবারে। চার্চ এবং ঈশ্বর আরাধনা ছিল তার দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে তার মা ছিলেন অত্যন্ত একনিষ্ঠ খ্রিষ্টান।
তবে জীবনের মোড় ঘুরে যায় দীর্ঘ ২০ বছরের বৈবাহিক জীবনের অবসান ঘটার পর। একা সন্তানদের নিয়ে আমান্ডা যখন জীবনের চরম সংকটের মুখোমুখি, তখন দীর্ঘ চার বছর নিয়মিত চার্চে গিয়েও তিনি কারো কাছ থেকে কোনো সহানুভূতি বা ন্যূনতম সামাজিক যোগাযোগ পাননি। এই একাকীত্ব ও অবহেলা তাকে খ্রিষ্টধর্মের শিক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।
আমান্ডা বলেন, "আমি চার্চের যাজকদের অনেক প্রশ্ন করতে শুরু করলাম। আমার মূল প্রশ্ন ছিল—আমরা কেন এখানে এসেছি? আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য কী এবং ঈশ্বর আসলে কে? কিন্তু তারা আমাকে সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি। আমি এমন এক বিশ্বাসের সন্ধান করছিলাম যা স্রষ্টার একত্ববাদ ও সুনির্দিষ্ট নৈতিক জীবনবিধান শিক্ষা দেয়।"
এই অনুসন্ধিৎসু মনেই একদিন ইসলামের আলো এসে পৌঁছায়। পবিত্র রমজান মাসে এক হিজাব পরিহিত মুসলিম নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়, যিনি ইফতারের সময় আমান্ডার সঙ্গে খেজুর ভাগ করে নেন এবং জমজম কূপ ও ইসলাম সম্পর্কে তাকে ধারণা দেন। এই সাধারণ ঘটনাটি আমান্ডার হৃদয়ে গভীর দাগ কাটে। তিনি নিজে নিজে পবিত্র কোরআন অনুবাদ পড়তে শুরু করেন।
আমান্ডা সেই মুহূর্তের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, "যখন আমি ইসলাম নিয়ে গবেষণা শুরু করলাম, আমার মনে হলো আমি যেন নিজের ঘরে ফিরে এসেছি। আমার আত্মা এক পরম প্রশান্তি খুঁজে পেল। কোরআন পড়ার পর বিশ্বাসের মৌলিক বিষয়গুলো আমার কাছে অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুন্দর মনে হলো।"
কোনো মুসলিমকে ব্যক্তিগতভাবে না চেনায় ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ইউটিউব দেখে কালেমা শাহাদাত শেখেন আমান্ডা। তিনি বলেন, "সেদিন কেবল আল্লাহ এবং আমি ছিলাম। আল্লাহকে সাক্ষী রেখে আমি ইসলাম গ্রহণ করি।"
তবে মুসলিম হওয়ার পর আমান্ডার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা শুরু হয় নিজের পরিবারকে নিয়ে। তার মা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। আমান্ডা বলেন, "মুসলিম হওয়ার জন্য আমার কোনো অনুশোচনা নেই, তবে পরিবারের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করেছি।" এই সংকটের দিনে তার জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে 'সোলেস ইউকে'। প্রতি দুই সপ্তাহে এই সংস্থার প্রতিনিধিরা আমান্ডার খোঁজ নেন, যা তাকে একাকীত্ব থেকে মুক্তি দেয় এবং মানসিকভাবে দৃঢ় রাখে।
কোরআনের প্রথম পৃষ্ঠাই বদলে দিল জীবন: টিয়ারা কেলি
লন্ডনের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী জ্যামাইকান বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নারী টিয়ারা কেলিও খ্রিষ্টান হিসেবে বড় হয়েছেন। তবে ছোটবেলা থেকেই ধর্মের বিভিন্ন মতবাদ নিয়ে তার মনে সংশয় ছিল। ২০২৩ সালের রমজান মাসে মুসলিম বন্ধুদের অনুপ্রেরণায় তিনি পবিত্র কোরআন পড়তে শুরু করেন।
টিয়ারা বলেন, "কোরআনের প্রথম পৃষ্ঠাটিই আমার চোখ খুলে দিয়েছিল। সূরা আল-ফাতিহা এবং এর ভূমিকা পড়ার পরই আমি বুঝতে পারি, আমি মুসলিম হতে চাই। আমার জীবনে যে শূন্যতা ছিল, তা হলো এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টার সঙ্গে সরাসরি নিবিড় সংযোগের অভাব।"
রমজানের শেষ সপ্তাহে বন্ধুদের সাথে প্রথমবার রোজা রাখেন টিয়ারা। ইফতারের পর তিনি স্রষ্টার অভূতপূর্ব নৈকট্য অনুভব করেন। সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তিনি ঘরে বসেই কালেমা শাহাদাত পাঠ করেন।
ইসলাম গ্রহণের পর প্রথম দিকে হিজাব পরা এবং পরিবারকে নিজের নতুন বিশ্বাসের কথা জানানো টিয়ারার জন্য বেশ কঠিন ছিল। তার বাবা ছিলেন একজন একনিষ্ঠ খ্রিষ্টান। তবে আল্লাহর রহমতে পরিস্থিতি তার ভাবনার চেয়ে সহজ হয়। যদিও ইসলাম গ্রহণের পর তিনি কিছু পুরোনো বন্ধু হারিয়েছেন, তবে তার চেয়েও উত্তম ও দ্বীনদার অনেক বোনকে তিনি বান্ধব হিসেবে পেয়েছেন।
বৈবাহিক জীবনের বিচ্ছেদের পর টিয়ারা যখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, তখন 'সোলেস ইউকে' তাকে কাউন্সেলিং এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। বর্তমানে সংস্থাটির সহায়তায় তিনি একটি ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ কোর্সও সম্পন্ন করেছেন এবং শিগগিরই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার স্বপ্ন দেখছেন।
বিষয় : যুক্তরাজ্য নওমুসলিম

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাজ্যে খ্রিষ্টান পরিবারে বড় হওয়া দুই ব্রিটিশ নারী আমান্ডা সাটন ও টিয়ারা কেলি ইসলামের সত্যবাণীতে উদ্বুদ্ধ হয়ে মুসলিম হয়েছেন। দীর্ঘদিনের আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসা এবং পারিবারিক ও সামাজিক নানা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাওয়া এই দুই নারীর ইসলাম গ্রহণের গল্প বিশ্বজুড়ে নওমুসলিমদের জন্য এক অনন্য প্রেরণা। জীবনের কঠিনতম সময়ে বিশ্বাসে অটল থাকা এবং যুক্তরাজ্যের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা 'সোলেস ইউকে' (Solace UK)-এর সহায়তায় তাদের নতুন জীবন গড়ার গল্প উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে।
খ্রিষ্টীয় সংস্কৃতির চাদরে মোড়ানো সমাজ থেকে বের হয়ে সত্যের আলোর খোঁজে ইসলামের আঙিনায় পা রেখেছেন যুক্তরাজ্যের দুই নারী আমান্ডা সাটন ও টিয়ারা কেলি। জন্মসূত্রে খ্রিষ্টান হলেও মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক এক দীর্ঘ লড়াই শেষে তারা বেছে নিয়েছেন শান্তির ধর্ম ইসলামকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তারা বর্ণনা করেছেন তাদের এই রূপান্তরের গল্প, ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে আসা মানসিক চাপ এবং এই কঠিন সময়ে নওমুসলিম নারীদের সহায়তাকারী সংস্থা 'সোলেস ইউকে' (Solace UK)-এর অনন্য ভূমিকার কথা।
কোরআন পড়ার পর মনে হলো নিজের ঘরে ফিরেছি: আমান্ডা সাটন
ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী ব্রিটিশ নারী আমান্ডা সাটনের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে অত্যন্ত রক্ষণশীল এক খ্রিষ্টান পরিবারে। চার্চ এবং ঈশ্বর আরাধনা ছিল তার দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে তার মা ছিলেন অত্যন্ত একনিষ্ঠ খ্রিষ্টান।
তবে জীবনের মোড় ঘুরে যায় দীর্ঘ ২০ বছরের বৈবাহিক জীবনের অবসান ঘটার পর। একা সন্তানদের নিয়ে আমান্ডা যখন জীবনের চরম সংকটের মুখোমুখি, তখন দীর্ঘ চার বছর নিয়মিত চার্চে গিয়েও তিনি কারো কাছ থেকে কোনো সহানুভূতি বা ন্যূনতম সামাজিক যোগাযোগ পাননি। এই একাকীত্ব ও অবহেলা তাকে খ্রিষ্টধর্মের শিক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।
আমান্ডা বলেন, "আমি চার্চের যাজকদের অনেক প্রশ্ন করতে শুরু করলাম। আমার মূল প্রশ্ন ছিল—আমরা কেন এখানে এসেছি? আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য কী এবং ঈশ্বর আসলে কে? কিন্তু তারা আমাকে সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি। আমি এমন এক বিশ্বাসের সন্ধান করছিলাম যা স্রষ্টার একত্ববাদ ও সুনির্দিষ্ট নৈতিক জীবনবিধান শিক্ষা দেয়।"
এই অনুসন্ধিৎসু মনেই একদিন ইসলামের আলো এসে পৌঁছায়। পবিত্র রমজান মাসে এক হিজাব পরিহিত মুসলিম নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়, যিনি ইফতারের সময় আমান্ডার সঙ্গে খেজুর ভাগ করে নেন এবং জমজম কূপ ও ইসলাম সম্পর্কে তাকে ধারণা দেন। এই সাধারণ ঘটনাটি আমান্ডার হৃদয়ে গভীর দাগ কাটে। তিনি নিজে নিজে পবিত্র কোরআন অনুবাদ পড়তে শুরু করেন।
আমান্ডা সেই মুহূর্তের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, "যখন আমি ইসলাম নিয়ে গবেষণা শুরু করলাম, আমার মনে হলো আমি যেন নিজের ঘরে ফিরে এসেছি। আমার আত্মা এক পরম প্রশান্তি খুঁজে পেল। কোরআন পড়ার পর বিশ্বাসের মৌলিক বিষয়গুলো আমার কাছে অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুন্দর মনে হলো।"
কোনো মুসলিমকে ব্যক্তিগতভাবে না চেনায় ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ইউটিউব দেখে কালেমা শাহাদাত শেখেন আমান্ডা। তিনি বলেন, "সেদিন কেবল আল্লাহ এবং আমি ছিলাম। আল্লাহকে সাক্ষী রেখে আমি ইসলাম গ্রহণ করি।"
তবে মুসলিম হওয়ার পর আমান্ডার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা শুরু হয় নিজের পরিবারকে নিয়ে। তার মা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। আমান্ডা বলেন, "মুসলিম হওয়ার জন্য আমার কোনো অনুশোচনা নেই, তবে পরিবারের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করেছি।" এই সংকটের দিনে তার জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে 'সোলেস ইউকে'। প্রতি দুই সপ্তাহে এই সংস্থার প্রতিনিধিরা আমান্ডার খোঁজ নেন, যা তাকে একাকীত্ব থেকে মুক্তি দেয় এবং মানসিকভাবে দৃঢ় রাখে।
কোরআনের প্রথম পৃষ্ঠাই বদলে দিল জীবন: টিয়ারা কেলি
লন্ডনের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী জ্যামাইকান বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নারী টিয়ারা কেলিও খ্রিষ্টান হিসেবে বড় হয়েছেন। তবে ছোটবেলা থেকেই ধর্মের বিভিন্ন মতবাদ নিয়ে তার মনে সংশয় ছিল। ২০২৩ সালের রমজান মাসে মুসলিম বন্ধুদের অনুপ্রেরণায় তিনি পবিত্র কোরআন পড়তে শুরু করেন।
টিয়ারা বলেন, "কোরআনের প্রথম পৃষ্ঠাটিই আমার চোখ খুলে দিয়েছিল। সূরা আল-ফাতিহা এবং এর ভূমিকা পড়ার পরই আমি বুঝতে পারি, আমি মুসলিম হতে চাই। আমার জীবনে যে শূন্যতা ছিল, তা হলো এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টার সঙ্গে সরাসরি নিবিড় সংযোগের অভাব।"
রমজানের শেষ সপ্তাহে বন্ধুদের সাথে প্রথমবার রোজা রাখেন টিয়ারা। ইফতারের পর তিনি স্রষ্টার অভূতপূর্ব নৈকট্য অনুভব করেন। সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তিনি ঘরে বসেই কালেমা শাহাদাত পাঠ করেন।
ইসলাম গ্রহণের পর প্রথম দিকে হিজাব পরা এবং পরিবারকে নিজের নতুন বিশ্বাসের কথা জানানো টিয়ারার জন্য বেশ কঠিন ছিল। তার বাবা ছিলেন একজন একনিষ্ঠ খ্রিষ্টান। তবে আল্লাহর রহমতে পরিস্থিতি তার ভাবনার চেয়ে সহজ হয়। যদিও ইসলাম গ্রহণের পর তিনি কিছু পুরোনো বন্ধু হারিয়েছেন, তবে তার চেয়েও উত্তম ও দ্বীনদার অনেক বোনকে তিনি বান্ধব হিসেবে পেয়েছেন।
বৈবাহিক জীবনের বিচ্ছেদের পর টিয়ারা যখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, তখন 'সোলেস ইউকে' তাকে কাউন্সেলিং এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। বর্তমানে সংস্থাটির সহায়তায় তিনি একটি ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ কোর্সও সম্পন্ন করেছেন এবং শিগগিরই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার স্বপ্ন দেখছেন।

আপনার মতামত লিখুন