মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থ ও জাতীয় সংকট মোকাবিলায় কওমি ঘরানার প্রধান ৭টি রাজনৈতিক ও সামাজিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এক ঐতিহাসিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িস্থ ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর বিশেষ আহ্বানে আয়োজিত এই সভায় দেশের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি এবং দেশের ইসলামি শক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ ঐক্যবদ্ধ পথ চলার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ইসলামি ভাবাদর্শের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু কওমি ঘরানার দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘুচিয়ে নতুন এক ঐক্যের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শীর্ষ বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামি রাজনীতির পুরোধা ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ৭টি দলের শীর্ষ নেতারা আগামীতে যেকোনো জাতীয় ও ধর্মীয় সংকটে ঐক্যবদ্ধভাবে পথ চলার নতুন বার্তা ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রতিটি দলের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়, মুসলিম উম্মাহ ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইসলামি শক্তিগুলোর ইস্পাতকঠিন ঐক্য এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির ও দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী, নায়েবে আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), আল্লামা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল আওয়াল, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী এবং মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী।
দলীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক ও সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, ইসলামি ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদের, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজি আতাউর রহমান।
এছাড়াও উলামা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আলী ওসমান, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মাওলানা মুখলিসুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মুফতি বশিরুল্লাহ, মাওলানা রেজাউল করিম আবরার, মাওলানা মোস্তফা কামাল জিহাদী, মাওলানা ইমরান সিকদার, মাওলানা ফারুক আহমদ ভুঁইয়া এবং আলহাজ্ব জান্নাতুল ইসলাম প্রমুখ।
বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো ‘ঈমানী দায়িত্ব’
ঐক্যের বার্তার পাশাপাশি সভার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল দেশের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি ও মানবিক বিপর্যয়। বৈঠকে বক্তারা গভীর উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চকরিয়া ও হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলার বহু পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগণিত মানুষ তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই, খাদ্যসামগ্রী এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এখন ক্ষতিগ্রস্তদের টেকসই পুনর্বাসন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগ মুহূর্তে অসহায় ও মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি মুসলমানের মানবিক, সামাজিক এবং সর্বোপারি 'ঈমানী দায়িত্ব'।
সভাপতির বক্তব্যে আমিরে হেফাজত আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী হেফাজতে ইসলামের দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা শাখাগুলোর প্রতি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেন। তিনি অবিলম্বে বন্যাকবলিত এলাকায় ব্যাপক পরিসরে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, দুর্গতদের জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং ঘরবাড়ি হারানো মানুষদের পুনর্বাসনের জন্য জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করতে সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা ও বিত্তশালীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
বিষয় : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থ ও জাতীয় সংকট মোকাবিলায় কওমি ঘরানার প্রধান ৭টি রাজনৈতিক ও সামাজিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এক ঐতিহাসিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িস্থ ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর বিশেষ আহ্বানে আয়োজিত এই সভায় দেশের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি এবং দেশের ইসলামি শক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ ঐক্যবদ্ধ পথ চলার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ইসলামি ভাবাদর্শের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু কওমি ঘরানার দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘুচিয়ে নতুন এক ঐক্যের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শীর্ষ বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামি রাজনীতির পুরোধা ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ৭টি দলের শীর্ষ নেতারা আগামীতে যেকোনো জাতীয় ও ধর্মীয় সংকটে ঐক্যবদ্ধভাবে পথ চলার নতুন বার্তা ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রতিটি দলের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়, মুসলিম উম্মাহ ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইসলামি শক্তিগুলোর ইস্পাতকঠিন ঐক্য এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির ও দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী, নায়েবে আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), আল্লামা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল আওয়াল, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী এবং মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী।
দলীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক ও সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, ইসলামি ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদের, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজি আতাউর রহমান।
এছাড়াও উলামা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আলী ওসমান, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মাওলানা মুখলিসুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মুফতি বশিরুল্লাহ, মাওলানা রেজাউল করিম আবরার, মাওলানা মোস্তফা কামাল জিহাদী, মাওলানা ইমরান সিকদার, মাওলানা ফারুক আহমদ ভুঁইয়া এবং আলহাজ্ব জান্নাতুল ইসলাম প্রমুখ।
বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো ‘ঈমানী দায়িত্ব’
ঐক্যের বার্তার পাশাপাশি সভার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল দেশের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি ও মানবিক বিপর্যয়। বৈঠকে বক্তারা গভীর উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চকরিয়া ও হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলার বহু পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগণিত মানুষ তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই, খাদ্যসামগ্রী এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এখন ক্ষতিগ্রস্তদের টেকসই পুনর্বাসন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগ মুহূর্তে অসহায় ও মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি মুসলমানের মানবিক, সামাজিক এবং সর্বোপারি 'ঈমানী দায়িত্ব'।
সভাপতির বক্তব্যে আমিরে হেফাজত আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী হেফাজতে ইসলামের দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা শাখাগুলোর প্রতি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেন। তিনি অবিলম্বে বন্যাকবলিত এলাকায় ব্যাপক পরিসরে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, দুর্গতদের জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং ঘরবাড়ি হারানো মানুষদের পুনর্বাসনের জন্য জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করতে সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা ও বিত্তশালীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন