শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার আমানত রক্ষা ও আখেরাতের জবাবদিহিতার উজ্জ্বল স্মারক; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শমসের আলীর বিরল নৈতিকতায় মুগ্ধ নেটিজেনরা

১৫ বছর আগের ১০০ টাকা ফেরাতে ২০ কিমি পথ হাঁটলেন বৃদ্ধ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সততার অনন্য দৃষ্টান্ত



১৫ বছর আগের ১০০ টাকা ফেরাতে ২০ কিমি পথ হাঁটলেন বৃদ্ধ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সততার অনন্য দৃষ্টান্ত

ইসলামে আমানতদারিতা ও বান্দার হকের (হাক্কুল ইবাদ) গুরুত্ব কতটা গভীর, তারই এক জীবন্ত ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ শমসের আলী। প্রায় দেড় দশক (১৫ বছর) আগে লেনদেনের সময় অজান্তে কম দেওয়া মাত্র ১০০ টাকা পাওনাদারের কাছে পৌঁছে দিতে বার্ধক্যকে উপেক্ষা করে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার আখাউড়ার খড়মপুরে পাওনাদারের হাতে সেই আমানত ফিরিয়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন এই ধর্মপ্রাণ প্রবীণ।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা নির্দেশ দিয়েছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দিতে।” (সূরা নিসা-৫৮) বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত হিসেবে সেই ঐশী নির্দেশনা ও আখেরাতের জবাবদিহিতার তীব্র অনুভূতি থেকেই এক বিরল নজির গড়লেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শমসের আলী।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে বিদেশে লোক পাঠানো-সংক্রান্ত একটি কাজের আর্থিক লেনদেনের সময় অসাবধানতাবশত খাদেম এয়ার সার্ভিস-এর স্বত্বাধিকারী এম.এন.এইচ. খাদেম দুলালকে ১০০ টাকা কম দিয়েছিলেন শমসের আলী। বিষয়টি সময়ের পরিক্রমায় পাওনাদার ভুলে গেলেও, শমসের আলীর বিবেক ও ঈমানি তাগিদ তাঁকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফিরছিল। বান্দার হকের দায় মাথায় নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার ভয় থেকেই তিনি দীর্ঘ দিন ধরে পাওনাদারকে খুঁজছিলেন।

সম্প্রতি তিনি খবর পান যে প্রতি শুক্রবার ব্যবসায়ী খাদেম দুলাল আখাউড়া পৌরসভার খড়মপুর এলাকায় আসেন। খবর পাওয়া মাত্রই শুক্রবার সকালে নিজ গ্রাম মজলিশপুর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আখাউড়ার খড়মপুরে পৌঁছান শমসের আলী। সেখানে দুলালের দেখা পেয়ে অত্যন্ত বিনম্রভাবে ১৫ বছর আগের সেই বকেয়া ১০০ টাকা তাঁর হাতে তুলে দেন।

টাকা ফেরত দেওয়ার পর আবেগপ্লুত শমসের আলী বলেন, “টাকার অঙ্ক এখানে বড় বিষয় নয়। ১ টাকা হোক বা ১০০ টাকা—অন্যের পাওনা বা বান্দার হক পরিশোধ করা প্রত্যেক সত্যনিষ্ঠ মানুষের ঈমানি দায়িত্ব। আখেরাতে আমানতের খেয়ানতকারী হিসেবে দাঁড়ানোর ভয়েই এত বছর পর হলেও সততার সাথে এই বকেয়া ফেরত দিতে এসেছি।”

এই অপ্রত্যাশিত ও অভূতপূর্ব ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন ব্যবসায়ী এম.এন.এইচ. খাদেম দুলাল। তিনি বলেন, “সাধারণ লেনদেনে শত টাকা কম-বেশি হওয়াটা স্বাভাবিক এবং বিষয়টি আমার একেবারেই মনে ছিল না। তবে এই বৃদ্ধ বয়সে তাঁর এমন ঈমানি দৃঢ়তা ও সততা আমাকে স্তব্ধ করেছে। আমি সম্মানের সাথে টাকাটি গ্রহণ করে পুনরায় তাঁর হাতে তুলে দিয়েছি, যাতে তিনি নিজের জন্য কিছু কিনে খেতে পারেন।”

বর্তমান যুগে যখন অর্থ ও স্বার্থের মোহে মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে, তখন শমসের আলীর এই ব্যতিক্রমী সততার গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সর্বত্র প্রশংসার ঝড় উঠেছে। নেটিজেনরা তাঁর এই নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও ইসলামী আদর্শের ভূয়সী প্রশংসা করছেন এবং একে ক্ষয়িষ্ণু সমাজের জন্য এক মোক্ষম শিক্ষা বলে অভিহিত করেছেন।

বিষয় : ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইসলামী মূল্যবোধ সততা

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬


১৫ বছর আগের ১০০ টাকা ফেরাতে ২০ কিমি পথ হাঁটলেন বৃদ্ধ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সততার অনন্য দৃষ্টান্ত

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইসলামে আমানতদারিতা ও বান্দার হকের (হাক্কুল ইবাদ) গুরুত্ব কতটা গভীর, তারই এক জীবন্ত ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ শমসের আলী। প্রায় দেড় দশক (১৫ বছর) আগে লেনদেনের সময় অজান্তে কম দেওয়া মাত্র ১০০ টাকা পাওনাদারের কাছে পৌঁছে দিতে বার্ধক্যকে উপেক্ষা করে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার আখাউড়ার খড়মপুরে পাওনাদারের হাতে সেই আমানত ফিরিয়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন এই ধর্মপ্রাণ প্রবীণ।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা নির্দেশ দিয়েছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দিতে।” (সূরা নিসা-৫৮) বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত হিসেবে সেই ঐশী নির্দেশনা ও আখেরাতের জবাবদিহিতার তীব্র অনুভূতি থেকেই এক বিরল নজির গড়লেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শমসের আলী।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে বিদেশে লোক পাঠানো-সংক্রান্ত একটি কাজের আর্থিক লেনদেনের সময় অসাবধানতাবশত খাদেম এয়ার সার্ভিস-এর স্বত্বাধিকারী এম.এন.এইচ. খাদেম দুলালকে ১০০ টাকা কম দিয়েছিলেন শমসের আলী। বিষয়টি সময়ের পরিক্রমায় পাওনাদার ভুলে গেলেও, শমসের আলীর বিবেক ও ঈমানি তাগিদ তাঁকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফিরছিল। বান্দার হকের দায় মাথায় নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার ভয় থেকেই তিনি দীর্ঘ দিন ধরে পাওনাদারকে খুঁজছিলেন।

সম্প্রতি তিনি খবর পান যে প্রতি শুক্রবার ব্যবসায়ী খাদেম দুলাল আখাউড়া পৌরসভার খড়মপুর এলাকায় আসেন। খবর পাওয়া মাত্রই শুক্রবার সকালে নিজ গ্রাম মজলিশপুর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আখাউড়ার খড়মপুরে পৌঁছান শমসের আলী। সেখানে দুলালের দেখা পেয়ে অত্যন্ত বিনম্রভাবে ১৫ বছর আগের সেই বকেয়া ১০০ টাকা তাঁর হাতে তুলে দেন।

টাকা ফেরত দেওয়ার পর আবেগপ্লুত শমসের আলী বলেন, “টাকার অঙ্ক এখানে বড় বিষয় নয়। ১ টাকা হোক বা ১০০ টাকা—অন্যের পাওনা বা বান্দার হক পরিশোধ করা প্রত্যেক সত্যনিষ্ঠ মানুষের ঈমানি দায়িত্ব। আখেরাতে আমানতের খেয়ানতকারী হিসেবে দাঁড়ানোর ভয়েই এত বছর পর হলেও সততার সাথে এই বকেয়া ফেরত দিতে এসেছি।”

এই অপ্রত্যাশিত ও অভূতপূর্ব ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন ব্যবসায়ী এম.এন.এইচ. খাদেম দুলাল। তিনি বলেন, “সাধারণ লেনদেনে শত টাকা কম-বেশি হওয়াটা স্বাভাবিক এবং বিষয়টি আমার একেবারেই মনে ছিল না। তবে এই বৃদ্ধ বয়সে তাঁর এমন ঈমানি দৃঢ়তা ও সততা আমাকে স্তব্ধ করেছে। আমি সম্মানের সাথে টাকাটি গ্রহণ করে পুনরায় তাঁর হাতে তুলে দিয়েছি, যাতে তিনি নিজের জন্য কিছু কিনে খেতে পারেন।”

বর্তমান যুগে যখন অর্থ ও স্বার্থের মোহে মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে, তখন শমসের আলীর এই ব্যতিক্রমী সততার গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সর্বত্র প্রশংসার ঝড় উঠেছে। নেটিজেনরা তাঁর এই নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও ইসলামী আদর্শের ভূয়সী প্রশংসা করছেন এবং একে ক্ষয়িষ্ণু সমাজের জন্য এক মোক্ষম শিক্ষা বলে অভিহিত করেছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ