ভারতে সরকারি নিয়োগ ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় ক্রমাগত প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে মাসব্যাপী নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলনের পর নিজেদের ভবিষ্যৎ আন্দোলন ও কর্মসূচি নির্ধারণ করতে যাচ্ছে তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।
ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা ও সরকারি পরীক্ষা পরিচালনা পর্ষদে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের জোরালো প্রতিবাদ সাম্প্রতিক সময়ে নতুন মোড় নিয়েছে। প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের প্রতিবাদে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে দীর্ঘ এক মাস ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তরুণদের অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। আন্দোলনের সুদূরপ্রসারী প্রভাবে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয় ব্যাপক আলোড়ন।
সংগঠনটির দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, আগামী ৫ আগস্ট সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরস্থ বাসভবনে এক বিশেষ নীতি-নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংগঠনের মূল নেতৃত্ব, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক এবং কৌশলগত সদস্যরা উপস্থিত থেকে আন্দোলন ও সংগঠনের পরবর্তী দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন।
দিল্লির যন্তর মন্তরের তীব্র আন্দোলন সাময়িকভাবে শেষ হওয়ার পর সিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের কিছুদিন পরিবারের সাথে সময় কাটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। একই সাথে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীদের কাছ থেকে সংস্কারমূলক পরামর্শ ও গঠনমূলক মতামত সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়। ৫ আগস্টের বৈঠকে সেসব মতামত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে আন্দোলনের পরবর্তী নকশা প্রণয়ন করা হবে। বৈঠক শেষে একই দিনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি দেশবাসীর সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে সিজেপি।
সিজেপি নেতৃত্বের দাবি, প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে তাদের এই সংগ্রাম ভারতের নব্য ‘জেন জি’ (Gen-Z) প্রজন্মের মাঝে অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছে এবং দেশের মেধাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থাকে রক্ষা করতে তরুণ সমাজকে এক ছাতার নিচে নিয়ে এসেছে। তাদের ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে নতি স্বীকার করে গত সপ্তাহে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, যা তরুণদের এই অহিংস প্রতিবাদের এক বিরাট বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যে কোনো দেশে দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সংখ্যালঘু ও মেধার সুরক্ষা মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। ভারতের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণদের এই জাগরণ দেশটির সামগ্রিক প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে।
বিষয় : ভারত সিজেপি ককরোচ জনতা পার্টি

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
ভারতে সরকারি নিয়োগ ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় ক্রমাগত প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে মাসব্যাপী নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলনের পর নিজেদের ভবিষ্যৎ আন্দোলন ও কর্মসূচি নির্ধারণ করতে যাচ্ছে তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।
ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা ও সরকারি পরীক্ষা পরিচালনা পর্ষদে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের জোরালো প্রতিবাদ সাম্প্রতিক সময়ে নতুন মোড় নিয়েছে। প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের প্রতিবাদে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে দীর্ঘ এক মাস ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তরুণদের অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। আন্দোলনের সুদূরপ্রসারী প্রভাবে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয় ব্যাপক আলোড়ন।
সংগঠনটির দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, আগামী ৫ আগস্ট সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরস্থ বাসভবনে এক বিশেষ নীতি-নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংগঠনের মূল নেতৃত্ব, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক এবং কৌশলগত সদস্যরা উপস্থিত থেকে আন্দোলন ও সংগঠনের পরবর্তী দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন।
দিল্লির যন্তর মন্তরের তীব্র আন্দোলন সাময়িকভাবে শেষ হওয়ার পর সিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের কিছুদিন পরিবারের সাথে সময় কাটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। একই সাথে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীদের কাছ থেকে সংস্কারমূলক পরামর্শ ও গঠনমূলক মতামত সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়। ৫ আগস্টের বৈঠকে সেসব মতামত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে আন্দোলনের পরবর্তী নকশা প্রণয়ন করা হবে। বৈঠক শেষে একই দিনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি দেশবাসীর সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে সিজেপি।
সিজেপি নেতৃত্বের দাবি, প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে তাদের এই সংগ্রাম ভারতের নব্য ‘জেন জি’ (Gen-Z) প্রজন্মের মাঝে অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছে এবং দেশের মেধাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থাকে রক্ষা করতে তরুণ সমাজকে এক ছাতার নিচে নিয়ে এসেছে। তাদের ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে নতি স্বীকার করে গত সপ্তাহে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, যা তরুণদের এই অহিংস প্রতিবাদের এক বিরাট বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যে কোনো দেশে দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সংখ্যালঘু ও মেধার সুরক্ষা মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। ভারতের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণদের এই জাগরণ দেশটির সামগ্রিক প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন