বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জোর দাবি বাংলাদেশের; ঐতিহাসিক পরিচয় বিকৃতির বিরুদ্ধে তীব্র কূটনৈতিক প্রতিবাদ।

রোহিঙ্গাদের 'বাংলাদেশি' আখ্যা দিল মিয়ানমার: রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ঢাকার তীব্র প্রতিবাদ



রোহিঙ্গাদের 'বাংলাদেশি' আখ্যা দিল মিয়ানমার: রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ঢাকার তীব্র প্রতিবাদ

মিয়ানমার জান্তা সরকার কর্তৃক আরাকানের শত শত বছরের প্রাচীন মুসলিম জনগোষ্ঠী 'রোহিঙ্গা'দের জাতিগত পরিচয় বিকৃত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ। রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা মুসলিমদের 'বাংলাদেশি' হিসেবে চিহ্নিত করার প্রতিবাদে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো-কে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. তৌফিক-উর-রহমান রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ লিপি তুলে দেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয় যে, মিয়ানমার সরকারের সাম্প্রতিক এই বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে।

প্রতিবাদ পত্রে স্পষ্ট করে বলা হয়, আরাকানের মুসলিম জনগোষ্ঠী শতক ধরে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে বসবাস করে আসছে এবং তারা কোনোভাবেই 'বাংলাদেশি' নয়। সংকট সমাধানের একমাত্র টেকসই পন্থা হলো রোহিঙ্গা মুসলিমদের আরাকানে তাদের নিজস্ব ভিটা-মাটিতে নিরাপদ, সম্মানজনক এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করে, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর তালিকা যাচাই-বাছাই করে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সেই বিজ্ঞপ্তিতে রোহিঙ্গাদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয়ের বদলে তাদের অমানবিক উপায়ে 'বাংলাদেশি' হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা আন্তর্জাতিক আইন ও ঐতিহাসিক সত্যের অপলাপ।

২০১২ সালে আরাকান (রাখাইন) রাজ্যে উগ্র বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উসকানিতে মুসলিমদের ওপর ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সীমান্ত চৌকিতে হামলার অজুহাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও চরমপন্থী উগ্রবাদীরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নৃশংস 'জাতিগত নিধন' ও গণহত্যা চালায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কৃত্রিম উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, রোহিঙ্গাদের শত শত গ্রাম পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছিল।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এই বর্বরতাকে "গণহত্যা" ও "জাতিগত নিধন" বলে অভিহিত করেছে। ২০১৭ সালের পর থেকে জীবন বাঁচাতে ৯ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা টেকনাফ ও উখিয়ার শরণার্থী শিবিরে মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নিজেদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে তাদের 'পরিচয়হীন' কিংবা 'বাংলাদেশি' হিসেবে চিহ্নিত করার মিয়ানমারের এই চক্রান্ত প্রতিহত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

বিষয় : বাংলাদেশ রোহিঙ্গা মিয়ানমার

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬


রোহিঙ্গাদের 'বাংলাদেশি' আখ্যা দিল মিয়ানমার: রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ঢাকার তীব্র প্রতিবাদ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মিয়ানমার জান্তা সরকার কর্তৃক আরাকানের শত শত বছরের প্রাচীন মুসলিম জনগোষ্ঠী 'রোহিঙ্গা'দের জাতিগত পরিচয় বিকৃত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ। রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা মুসলিমদের 'বাংলাদেশি' হিসেবে চিহ্নিত করার প্রতিবাদে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো-কে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. তৌফিক-উর-রহমান রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ লিপি তুলে দেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয় যে, মিয়ানমার সরকারের সাম্প্রতিক এই বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে।

প্রতিবাদ পত্রে স্পষ্ট করে বলা হয়, আরাকানের মুসলিম জনগোষ্ঠী শতক ধরে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে বসবাস করে আসছে এবং তারা কোনোভাবেই 'বাংলাদেশি' নয়। সংকট সমাধানের একমাত্র টেকসই পন্থা হলো রোহিঙ্গা মুসলিমদের আরাকানে তাদের নিজস্ব ভিটা-মাটিতে নিরাপদ, সম্মানজনক এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করে, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর তালিকা যাচাই-বাছাই করে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সেই বিজ্ঞপ্তিতে রোহিঙ্গাদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয়ের বদলে তাদের অমানবিক উপায়ে 'বাংলাদেশি' হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা আন্তর্জাতিক আইন ও ঐতিহাসিক সত্যের অপলাপ।

২০১২ সালে আরাকান (রাখাইন) রাজ্যে উগ্র বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উসকানিতে মুসলিমদের ওপর ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সীমান্ত চৌকিতে হামলার অজুহাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও চরমপন্থী উগ্রবাদীরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নৃশংস 'জাতিগত নিধন' ও গণহত্যা চালায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কৃত্রিম উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, রোহিঙ্গাদের শত শত গ্রাম পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছিল।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এই বর্বরতাকে "গণহত্যা" ও "জাতিগত নিধন" বলে অভিহিত করেছে। ২০১৭ সালের পর থেকে জীবন বাঁচাতে ৯ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা টেকনাফ ও উখিয়ার শরণার্থী শিবিরে মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নিজেদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে তাদের 'পরিচয়হীন' কিংবা 'বাংলাদেশি' হিসেবে চিহ্নিত করার মিয়ানমারের এই চক্রান্ত প্রতিহত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ