রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

নিজের অজান্তেই বিধায়ক ফুরকান আহমদের বিরুদ্ধে নাম বাতিলের আবেদন; উত্তরাখণ্ডজুড়ে ১৭০০-র বেশি একই ধরনের ভুয়া আপত্তি দাখিলের তীব্র প্রতিবাদ কংগ্রেসের।

ভোটার তালিকা থেকে মুসলিম নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ, তোলপাড় রাজ্য



ভোটার তালিকা থেকে মুসলিম নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ, তোলপাড় রাজ্য

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় চরম কারচুপির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের হরিদ্বার জেলার পিরান কালিয়ার আসনের বর্তমান মুসলিম বিধায়ক ফুরকান আহমদের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলার উদ্দেশ্যে তাঁর অজান্তেই ভুয়া আবেদনপত্র দাখিল করা হয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের সংখ্যালঘু ও মুসলিম ভোটারদের অধিকার হরণের এক গভীর ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে তীব্র রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

দেরাদুন থেকে বিশেষ প্রতিনিধি: ভারতের ক্ষমতাসীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারের অধীনে ভারতে মুসলিমদের নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর। এবার ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সেটির এক নগ্ন উদাহরণ সামনে এসেছে। রাজ্যটির কংগ্রেস দলীয় বিধায়ক ফুরকান আহমদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে জাল তথ্য ব্যবহার করে একটি ফর্ম-৭ আবেদন দাখিল করা হয়েছে, যার ফলে ভারতীয় রাজ্যটিতে নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

হরিদ্বার জেলার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পিরান কালিয়ার বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি ফুরকান আহমদ জানিয়েছেন, তিনি ১২৬ নম্বর ওয়ার্ডের একজন বৈধ ও নিবন্ধিত ভোটার। সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন যে, 'মোহাম্মদ ফুরকান' নামের এক ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে তাঁর (বিধায়কের) নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে ফেলার জন্য ৭ নম্বর ফর্মে একটি আপত্তি জমা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি জানতে পেরে বিধায়ক ফুরকান আহমদ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মোহাম্মদ ফুরকানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মোহাম্মদ ফুরকান অত্যন্ত বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, তিনি বিধায়কের নাম বাদ দেওয়ার জন্য কোনো ধরনের আবেদন বা আপত্তি জমা দেননি। তাঁর নাম ব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ এটি করেছে। পরবর্তীতে তিনি একটি লিখিত হলফনামা (Affidavit) তৈরি করে ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার বা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে জমা দেন, যেখানে স্পষ্ট করা হয় যে আবেদনটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

পিরান কালিয়ারে ১,৭০০-র বেশি ভুয়া আপত্তি: এই ঘটনাটি কেবল একজন বিধায়কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ফুরকান আহমদ অভিযোগ করেছেন, চলমান ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় তাঁর আসন পিরান কালিয়ারেই ১,৭০০-রও বেশি সন্দেহজনক আপত্তি জমা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ নাগরিকদের নাম ও পরিচয় চুরি করে ব্যাপক হারে মুসলিম ভোটারদের বিরুদ্ধে নাম কাটার আবেদন জানানো হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে ৫০টিরও বেশি আপত্তিপত্র দাখিল করা হয়েছে। একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি ও বর্তমান বিধায়কের নামেই যদি এভাবে প্রতারণা করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা যায়, তবে সাধারণ মুসলিম নাগরিকদের ক্ষেত্রে কী ধরনের কারচুপি করা হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়।

সংবিধান রক্ষা ও আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি: উত্তরাখণ্ড রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি গণেশ গোদিয়াল রাজ্যের ক্ষমতাসীন শাসক দল ও তাদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভেঙে ফেলার এবং ভারতের সংবিধানের ওপর এক সরাসরি আক্রমণ।

দেরাদুন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গোদিয়াল জানান, যদি ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসন অবিলম্বে এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে কংগ্রেস পার্টি আদালতের দ্বারস্থ হবে। একজন নির্বাচিত বিধায়কের নাম যদি কারচুপি করে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার স্বার্থে আইনি লড়াই অবশ্যম্ভাবী।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন রাজ্যে কৌশলগতভাবে মুসলিম ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার এই অপচেষ্টা হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি ও নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার একটি সুপরিকল্পিত ছক। নির্বাচন কমিশন বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিষয় : ভারত মুসলিম

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


ভোটার তালিকা থেকে মুসলিম নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ, তোলপাড় রাজ্য

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় চরম কারচুপির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের হরিদ্বার জেলার পিরান কালিয়ার আসনের বর্তমান মুসলিম বিধায়ক ফুরকান আহমদের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলার উদ্দেশ্যে তাঁর অজান্তেই ভুয়া আবেদনপত্র দাখিল করা হয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের সংখ্যালঘু ও মুসলিম ভোটারদের অধিকার হরণের এক গভীর ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে তীব্র রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

দেরাদুন থেকে বিশেষ প্রতিনিধি: ভারতের ক্ষমতাসীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারের অধীনে ভারতে মুসলিমদের নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর। এবার ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সেটির এক নগ্ন উদাহরণ সামনে এসেছে। রাজ্যটির কংগ্রেস দলীয় বিধায়ক ফুরকান আহমদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে জাল তথ্য ব্যবহার করে একটি ফর্ম-৭ আবেদন দাখিল করা হয়েছে, যার ফলে ভারতীয় রাজ্যটিতে নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

হরিদ্বার জেলার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পিরান কালিয়ার বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি ফুরকান আহমদ জানিয়েছেন, তিনি ১২৬ নম্বর ওয়ার্ডের একজন বৈধ ও নিবন্ধিত ভোটার। সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন যে, 'মোহাম্মদ ফুরকান' নামের এক ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে তাঁর (বিধায়কের) নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে ফেলার জন্য ৭ নম্বর ফর্মে একটি আপত্তি জমা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি জানতে পেরে বিধায়ক ফুরকান আহমদ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মোহাম্মদ ফুরকানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মোহাম্মদ ফুরকান অত্যন্ত বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, তিনি বিধায়কের নাম বাদ দেওয়ার জন্য কোনো ধরনের আবেদন বা আপত্তি জমা দেননি। তাঁর নাম ব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ এটি করেছে। পরবর্তীতে তিনি একটি লিখিত হলফনামা (Affidavit) তৈরি করে ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার বা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে জমা দেন, যেখানে স্পষ্ট করা হয় যে আবেদনটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

পিরান কালিয়ারে ১,৭০০-র বেশি ভুয়া আপত্তি: এই ঘটনাটি কেবল একজন বিধায়কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ফুরকান আহমদ অভিযোগ করেছেন, চলমান ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় তাঁর আসন পিরান কালিয়ারেই ১,৭০০-রও বেশি সন্দেহজনক আপত্তি জমা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ নাগরিকদের নাম ও পরিচয় চুরি করে ব্যাপক হারে মুসলিম ভোটারদের বিরুদ্ধে নাম কাটার আবেদন জানানো হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে ৫০টিরও বেশি আপত্তিপত্র দাখিল করা হয়েছে। একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি ও বর্তমান বিধায়কের নামেই যদি এভাবে প্রতারণা করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা যায়, তবে সাধারণ মুসলিম নাগরিকদের ক্ষেত্রে কী ধরনের কারচুপি করা হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়।

সংবিধান রক্ষা ও আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি: উত্তরাখণ্ড রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি গণেশ গোদিয়াল রাজ্যের ক্ষমতাসীন শাসক দল ও তাদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভেঙে ফেলার এবং ভারতের সংবিধানের ওপর এক সরাসরি আক্রমণ।

দেরাদুন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গোদিয়াল জানান, যদি ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসন অবিলম্বে এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে কংগ্রেস পার্টি আদালতের দ্বারস্থ হবে। একজন নির্বাচিত বিধায়কের নাম যদি কারচুপি করে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার স্বার্থে আইনি লড়াই অবশ্যম্ভাবী।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন রাজ্যে কৌশলগতভাবে মুসলিম ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার এই অপচেষ্টা হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি ও নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার একটি সুপরিকল্পিত ছক। নির্বাচন কমিশন বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ