সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

একতরফাভাবে জমি খাস ঘোষণার পরপরই ভারী পুলিশ পাহাড়ায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো প্রবীণ আলেম মাওলানা হিফজুর রহমান পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি; মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিবাদ ও উদ্বেগের ঝড়।

ভারতে আবারও বুলডোজার সন্ত্রাস: ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ঐতিহাসিক মাদরাসা দারুল উলুম রহিমিয়া



ভারতে আবারও বুলডোজার সন্ত্রাস: ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ঐতিহাসিক মাদরাসা দারুল উলুম রহিমিয়া

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগর জেলার ফুলাত গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী 'মাদরাসা দারুল উলুম রহিমিয়া' বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। রোববার (২৩ আগস্ট) ভারি পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। মাদরাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ আলেম মাওলানা হিফজুর রহমান ও তার দুই ছেলেকে বিতর্কিত ধর্মান্তর বিরোধী আইনে গ্রেফতারের পরপরই তড়িঘড়ি করে জায়গাটিকে সরকারি খাস জমি ঘোষণা করে এ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।

ভারতের উত্তরপ্রদেশে মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মাদরাসার ওপর প্রশাসনিক নিপীড়ন ও বুলডোজার অভিযানের এক ভয়াবহ নজির স্থাপন করা হয়েছে। রাজ্যের মুজাফফরনগর জেলার ঐতিহাসিক ফুলাত গ্রামে অবস্থিত সুপরিচিত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান মাদরাসা দারুল উলুম রহিমিয়া রোববার (২৩ আগস্ট) সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও ব্যাপক পুলিশি পাহারায় বিশাল বুলডোজার বহর এনে মাদরাসার বহুতল ভবনটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। মুজাফফরনগরের সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি) সংজয় কুমার সাংবাদিকদের জানান, রাজস্ব বিভাগের তদন্তে মাদরাসাটি তথাকথিত 'অবৈধ' হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় তা ভেঙে ফেলা হয়েছে।

তবে স্থানীয় সূত্র ও মুসলিম অধিকার কর্মীদের মতে, এটি কোনো আইনি প্রক্রিয়ার সাধারণ অংশ নয়, বরং একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রশাসনিক নিপীড়ন। এর আগে গত ৬ জুলাই মাদরাসার প্রধান পরিচালক প্রবীণ আলেম মাওলানা হিফজুর রহমান এবং তার দুই ছেলে জুবায়ের ও জুনায়েদকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ৩৫২ ও ৩৫১ ধারা এবং উত্তরপ্রদেশের বিতর্কিত 'ধর্মান্তর বিরোধী আইন, ২০২১'-এর অধীনে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তাদের গ্রেফতারের পর গত ১৭ আগস্ট কোনো প্রকার যৌক্তিক আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই মাদরাসাটি যে জমির ওপর নির্মিত ছিল, সেটিকে রাতারাতি সরকারি জমি হিসেবে ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। জমি খাস ঘোষণার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় রোববার সকালে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে বুলডোজার চালিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠানটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

মানবাধিকার সংস্থা ও মুসলিম সমাজ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, যোগী আদিত্যনাথের সরকার উত্তরপ্রদেশে পরিকল্পিতভাবে আইনকানুন ও আদালতের তোয়াক্কা না করে মুসলিমদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনা ধ্বংসের অপকৌশল অব্যাহত রেখেছে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তার সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ও ধর্মীয় সম্পত্তিকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে ভেঙে ফেলা এখন উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের একটি নিয়মিত মডেলে পরিণত হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা অঞ্চল জুড়ে চরম আতঙ্ক ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিষয় : ভারত সংখ্যালঘু

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


ভারতে আবারও বুলডোজার সন্ত্রাস: ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ঐতিহাসিক মাদরাসা দারুল উলুম রহিমিয়া

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগর জেলার ফুলাত গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী 'মাদরাসা দারুল উলুম রহিমিয়া' বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। রোববার (২৩ আগস্ট) ভারি পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। মাদরাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ আলেম মাওলানা হিফজুর রহমান ও তার দুই ছেলেকে বিতর্কিত ধর্মান্তর বিরোধী আইনে গ্রেফতারের পরপরই তড়িঘড়ি করে জায়গাটিকে সরকারি খাস জমি ঘোষণা করে এ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।

ভারতের উত্তরপ্রদেশে মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মাদরাসার ওপর প্রশাসনিক নিপীড়ন ও বুলডোজার অভিযানের এক ভয়াবহ নজির স্থাপন করা হয়েছে। রাজ্যের মুজাফফরনগর জেলার ঐতিহাসিক ফুলাত গ্রামে অবস্থিত সুপরিচিত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান মাদরাসা দারুল উলুম রহিমিয়া রোববার (২৩ আগস্ট) সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও ব্যাপক পুলিশি পাহারায় বিশাল বুলডোজার বহর এনে মাদরাসার বহুতল ভবনটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। মুজাফফরনগরের সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি) সংজয় কুমার সাংবাদিকদের জানান, রাজস্ব বিভাগের তদন্তে মাদরাসাটি তথাকথিত 'অবৈধ' হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় তা ভেঙে ফেলা হয়েছে।

তবে স্থানীয় সূত্র ও মুসলিম অধিকার কর্মীদের মতে, এটি কোনো আইনি প্রক্রিয়ার সাধারণ অংশ নয়, বরং একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রশাসনিক নিপীড়ন। এর আগে গত ৬ জুলাই মাদরাসার প্রধান পরিচালক প্রবীণ আলেম মাওলানা হিফজুর রহমান এবং তার দুই ছেলে জুবায়ের ও জুনায়েদকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ৩৫২ ও ৩৫১ ধারা এবং উত্তরপ্রদেশের বিতর্কিত 'ধর্মান্তর বিরোধী আইন, ২০২১'-এর অধীনে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তাদের গ্রেফতারের পর গত ১৭ আগস্ট কোনো প্রকার যৌক্তিক আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই মাদরাসাটি যে জমির ওপর নির্মিত ছিল, সেটিকে রাতারাতি সরকারি জমি হিসেবে ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। জমি খাস ঘোষণার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় রোববার সকালে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে বুলডোজার চালিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠানটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

মানবাধিকার সংস্থা ও মুসলিম সমাজ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, যোগী আদিত্যনাথের সরকার উত্তরপ্রদেশে পরিকল্পিতভাবে আইনকানুন ও আদালতের তোয়াক্কা না করে মুসলিমদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনা ধ্বংসের অপকৌশল অব্যাহত রেখেছে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তার সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ও ধর্মীয় সম্পত্তিকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে ভেঙে ফেলা এখন উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের একটি নিয়মিত মডেলে পরিণত হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা অঞ্চল জুড়ে চরম আতঙ্ক ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ