সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেছেন, দেশটির প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম মার্কিন জনগণের কাছে ইসরায়েল একটি ‘নেতিবাচক ব্র্যান্ডে’ পরিণত হয়েছে।

মার্কিনদের চোখে ‘গণহত্যা’ ও ‘শিশুহত্যা’র সঙ্গে জড়িয়ে গেছে ইসরায়েল: নাফতালি বেনেট



মার্কিনদের চোখে ‘গণহত্যা’ ও ‘শিশুহত্যা’র সঙ্গে জড়িয়ে গেছে ইসরায়েল: নাফতালি বেনেট

ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দল ‘টুগেদার’-এর নেতা নাফতালি বেনেট স্বীকার করেছেন, আমেরিকানদের কাছে ‘ইসরায়েল’ নামটি এখন গাজা, যুদ্ধ ও গণহত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ‘অল ইন’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি রক্ষায় ব্যর্থতার জন্য সমালোচনা করেন।

ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দল ‘টুগেদার’-এর নেতা নাফতালি বেনেট স্বীকার করেছেন যে, আমেরিকানদের মনে ইসরায়েল নামটি গণহত্যা ও শিশুহত্যার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

কয়েকদিন আগে ‘অল ইন’ পডকাস্টে বেনেটের এক কথোপকথনের সময় এই মন্তব্য আসে। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে বিশ্বব্যাপী ইসরায়েলের ভাবমূর্তি রক্ষায় ব্যর্থতার জন্য সমালোচনা করেন।

বেনেট বলেন, “ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম, (ইসরায়েল) আমেরিকান জনগণের কাছে একটি নেতিবাচক তকমা হয়ে উঠেছে।”

নিজের বক্তব্যের একটি উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি অনুষ্ঠানের সঞ্চালককে জিজ্ঞাসা করেন, ইতালি নামটি শুনলে তাঁর কী মনে আসে। সঞ্চালক উত্তরে বলেন, “স্প্যাগেটি।”

এরপর বেনেট জানতে চান, একজন আমেরিকান ছাত্র ইসরায়েল নামটি শুনলে কী ভাবতে পারে। জবাবে সঞ্চালক একে একে বলেন-“গাজা”, তারপর “যুদ্ধ” এবং শেষে “গণহত্যা”।

বেনেট তখন বলেন, “ঠিক বলেছেন... ওরা গণহত্যা বলবে... ওরা সেটাই বলবে, পরিস্থিতিটা এমনই।”

তিনি আরও বলেন, “মানে, ইতালি হলো স্প্যাগেটির মতো, আর ইসরায়েল হলো শিশু হত্যাকারী। এটা অবশ্যই সত্য নয় এবং ন্যায্যও নয়, কিন্তু পরিস্থিতিটা এমনই।”

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের অন্যতম শক্তিশালী সমর্থক ছিলেন বেনেট। তবে একই সময়ে তিনি নেতানিয়াহুর সরকারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলের পক্ষে কার্যকরভাবে অবস্থান নিতে এবং দেশটির ভাবমূর্তি রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও করে আসছেন।

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার আন্তর্জাতিক অভিযোগের মধ্যেই বেনেটের এই মন্তব্য সামনে এলো।

২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, তাদের গবেষণার ভিত্তিতে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ইসরায়েল “গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে এবং তা অব্যাহত রেখেছে।”

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। এ সময়ে হত্যা, অনাহার, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মতো ঘটনাগুলো ঘটেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল গাজা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিভিন্ন আবেদন ও আদেশ উপেক্ষা করেছে বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা প্রায় ৭৩,৪৫৪ জনে পৌঁছেছে। এ সময়ে আহত হয়েছেন আরও ১,৭৪,৪৮৬ জন।

বেনেটের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইঙ্গিত করছে যে, গাজা যুদ্ধকে ঘিরে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে দেশটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বিষয় : ইসরায়েল গণহত্যার শিশুহত্যা

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


মার্কিনদের চোখে ‘গণহত্যা’ ও ‘শিশুহত্যা’র সঙ্গে জড়িয়ে গেছে ইসরায়েল: নাফতালি বেনেট

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দল ‘টুগেদার’-এর নেতা নাফতালি বেনেট স্বীকার করেছেন, আমেরিকানদের কাছে ‘ইসরায়েল’ নামটি এখন গাজা, যুদ্ধ ও গণহত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ‘অল ইন’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি রক্ষায় ব্যর্থতার জন্য সমালোচনা করেন।

ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দল ‘টুগেদার’-এর নেতা নাফতালি বেনেট স্বীকার করেছেন যে, আমেরিকানদের মনে ইসরায়েল নামটি গণহত্যা ও শিশুহত্যার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

কয়েকদিন আগে ‘অল ইন’ পডকাস্টে বেনেটের এক কথোপকথনের সময় এই মন্তব্য আসে। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে বিশ্বব্যাপী ইসরায়েলের ভাবমূর্তি রক্ষায় ব্যর্থতার জন্য সমালোচনা করেন।

বেনেট বলেন, “ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম, (ইসরায়েল) আমেরিকান জনগণের কাছে একটি নেতিবাচক তকমা হয়ে উঠেছে।”

নিজের বক্তব্যের একটি উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি অনুষ্ঠানের সঞ্চালককে জিজ্ঞাসা করেন, ইতালি নামটি শুনলে তাঁর কী মনে আসে। সঞ্চালক উত্তরে বলেন, “স্প্যাগেটি।”

এরপর বেনেট জানতে চান, একজন আমেরিকান ছাত্র ইসরায়েল নামটি শুনলে কী ভাবতে পারে। জবাবে সঞ্চালক একে একে বলেন-“গাজা”, তারপর “যুদ্ধ” এবং শেষে “গণহত্যা”।

বেনেট তখন বলেন, “ঠিক বলেছেন... ওরা গণহত্যা বলবে... ওরা সেটাই বলবে, পরিস্থিতিটা এমনই।”

তিনি আরও বলেন, “মানে, ইতালি হলো স্প্যাগেটির মতো, আর ইসরায়েল হলো শিশু হত্যাকারী। এটা অবশ্যই সত্য নয় এবং ন্যায্যও নয়, কিন্তু পরিস্থিতিটা এমনই।”

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের অন্যতম শক্তিশালী সমর্থক ছিলেন বেনেট। তবে একই সময়ে তিনি নেতানিয়াহুর সরকারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলের পক্ষে কার্যকরভাবে অবস্থান নিতে এবং দেশটির ভাবমূর্তি রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও করে আসছেন।

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার আন্তর্জাতিক অভিযোগের মধ্যেই বেনেটের এই মন্তব্য সামনে এলো।

২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, তাদের গবেষণার ভিত্তিতে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ইসরায়েল “গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে এবং তা অব্যাহত রেখেছে।”

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। এ সময়ে হত্যা, অনাহার, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মতো ঘটনাগুলো ঘটেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল গাজা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিভিন্ন আবেদন ও আদেশ উপেক্ষা করেছে বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা প্রায় ৭৩,৪৫৪ জনে পৌঁছেছে। এ সময়ে আহত হয়েছেন আরও ১,৭৪,৪৮৬ জন।

বেনেটের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইঙ্গিত করছে যে, গাজা যুদ্ধকে ঘিরে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে দেশটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ