সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাথে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক; জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় অর্জিত দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বের কথা স্মরণ করিয়ে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও সুরক্ষায় ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করল বাংলাদেশ।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ঝুঁকি দেখছে না বাংলাদেশ



মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ঝুঁকি দেখছে না বাংলাদেশ

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে সম্প্রতি গঠিত 'মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট' বা 'মক্কা চুক্তি'-তে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ৩০ আগস্ট ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ’র সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ঢাকা এই প্রস্তাবিত জোটে যোগদানের বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছে। বহুমাত্রিক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব এবং মক্কা-মদীনার সুরক্ষায় অবদান রাখাকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ।

গত ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও মুসলিম বিশ্বের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ পর্যন্ত সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক এ ঐতিহাসিক নিরাপত্তা জোটে যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের পক্ষ থেকে ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের প্রশ্ন ওঠে। তবে সব উদ্বেগ খারিজ করে দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সমন্বিত ও নমনীয় পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে আসছে এবং এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হওয়া অন্য কোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য বাধা সৃষ্টি করবে না।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা অভিযানে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে সুখ্যাতির সাথে কাজ করে আসছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ সৈন্য প্রেরণকারী দেশ। এই অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন—বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যদি বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে, তবে মুসলিম ভ্রাতৃসমাজের সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতায় ঢাকা কেন পিছিয়ে থাকবে? বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম হিসেবে সৌদি আরবের এই পদক্ষেপ মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে মনে করে ঢাকা।

সম্প্রতি জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসির ২৩তম বিশেষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের (সিএফএম) সম্মেলনের ফাঁকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদসহ শীর্ষ সৌদি নেতৃত্বের সাথে প্রতিমন্ত্রী ফলপ্রসূ আলোচনা পরিচালনা করেন। ওই বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতার সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে উঠে আসে। বাংলাদেশ এখনো এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পায়নি, তবে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ মিললে আন্তর্জাতিক কাঠামোর অধীনে কার্যকর অংশগ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা। কাতার, কুয়েত ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিদের সাথেও এই সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সদার্থ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সুদৃঢ় কূটনৈতিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন।

বিষয় : বাংলাদেশ মক্কা চুক্তি

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ঝুঁকি দেখছে না বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে সম্প্রতি গঠিত 'মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট' বা 'মক্কা চুক্তি'-তে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ৩০ আগস্ট ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ’র সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ঢাকা এই প্রস্তাবিত জোটে যোগদানের বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছে। বহুমাত্রিক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব এবং মক্কা-মদীনার সুরক্ষায় অবদান রাখাকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ।

গত ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও মুসলিম বিশ্বের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ পর্যন্ত সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক এ ঐতিহাসিক নিরাপত্তা জোটে যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের পক্ষ থেকে ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের প্রশ্ন ওঠে। তবে সব উদ্বেগ খারিজ করে দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সমন্বিত ও নমনীয় পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে আসছে এবং এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হওয়া অন্য কোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য বাধা সৃষ্টি করবে না।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা অভিযানে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে সুখ্যাতির সাথে কাজ করে আসছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ সৈন্য প্রেরণকারী দেশ। এই অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন—বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যদি বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে, তবে মুসলিম ভ্রাতৃসমাজের সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতায় ঢাকা কেন পিছিয়ে থাকবে? বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম হিসেবে সৌদি আরবের এই পদক্ষেপ মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে মনে করে ঢাকা।

সম্প্রতি জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসির ২৩তম বিশেষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের (সিএফএম) সম্মেলনের ফাঁকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদসহ শীর্ষ সৌদি নেতৃত্বের সাথে প্রতিমন্ত্রী ফলপ্রসূ আলোচনা পরিচালনা করেন। ওই বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতার সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে উঠে আসে। বাংলাদেশ এখনো এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পায়নি, তবে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ মিললে আন্তর্জাতিক কাঠামোর অধীনে কার্যকর অংশগ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা। কাতার, কুয়েত ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিদের সাথেও এই সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সদার্থ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সুদৃঢ় কূটনৈতিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ