শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

বহুপক্ষীয় কূটনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্রিকসের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের মাঝেও ঢাকার অনুপস্থিতি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন: যোগ দিচ্ছে না বাংলাদেশ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন: যোগ দিচ্ছে না বাংলাদেশ

উন্নয়নশীল অর্থনীতির শক্তিশালী আন্তর্জাতিক জোট ব্রিকসের (BRICS) বহুল প্রতীক্ষিত ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্বনেতাদের সুরক্ষায় রাজধানীজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা। তবে বিমসটেক চেয়ারপারসন হিসেবে বিশেষ আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লির এ হাইপ্রোফাইল বৈঠকে যোগ দিচ্ছে না বাংলাদেশ।

বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণ এবং উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর বৈশ্বিক প্রভাব বৃদ্ধির জোয়ারের মধ্যে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে বসছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। বিশ্ব বাণিজ্য ও রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করা এই সম্মেলনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার রাতেই নয়াদিল্লি পৌঁছানোর কথা রয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। পাশাপাশি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানসহ জোটটির সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর শীর্ষনেতারা সরাসরি এতে অংশ নিচ্ছেন। আয়োজক দেশ ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ নয়াদিল্লি ও ভিভিআইপি রুটগুলোকে কঠোর নজরদারির আওতায় এনেছে এবং একটি বিশেষ হাইটেক কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে মনিটরিং পরিচালনা করছে।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত, জ্বালানি সংকট ও ডলার-নির্ভর আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্যের উদ্যোগ ত্বরান্বিত করার প্রেক্ষাপটে এবারের বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক দক্ষিণ বা 'গ্লোবাল সাউথ'-এর অধিকার রক্ষা ও বহুপক্ষীয় বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার এজেন্ডা এতে প্রাধান্য পাচ্ছে।

বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ও প্রাসঙ্গিক কূটনৈতিক সমীকরণ:

সম্মেলনে বঙ্গোপসাগরীয় আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের (BIMSTEC) চেয়ারপারসন হিসেবে বাংলাদেশকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে অন্তর্বর্তীকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্পর্শকাতর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, বিদ্যমান পরিবেশে ভারতের এই আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দ্বিপক্ষীয় জটিলতার সুরাহা করে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই আগামীতে দ্বিপক্ষীয় সফরের পথ সুগম হতে পারে।

মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক রূপান্তর, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পশ্চিমা আধিপত্যের বাইরে একটি ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থা গঠনে ব্রিকসের ভূমিকা এখন দিন দিন জোরালো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে বাংলাদেশের স্বকীয় অবস্থান বজায় রেখে অংশগ্রহণ করা বা না করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও কৌশলগত হিসাব-নিকাশেরই অংশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

বিষয় : বাংলাদেশ_নির্বাচন ব্রিকস সম্মেলন

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন: যোগ দিচ্ছে না বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

উন্নয়নশীল অর্থনীতির শক্তিশালী আন্তর্জাতিক জোট ব্রিকসের (BRICS) বহুল প্রতীক্ষিত ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্বনেতাদের সুরক্ষায় রাজধানীজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা। তবে বিমসটেক চেয়ারপারসন হিসেবে বিশেষ আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লির এ হাইপ্রোফাইল বৈঠকে যোগ দিচ্ছে না বাংলাদেশ।

বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণ এবং উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর বৈশ্বিক প্রভাব বৃদ্ধির জোয়ারের মধ্যে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে বসছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। বিশ্ব বাণিজ্য ও রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করা এই সম্মেলনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার রাতেই নয়াদিল্লি পৌঁছানোর কথা রয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। পাশাপাশি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানসহ জোটটির সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর শীর্ষনেতারা সরাসরি এতে অংশ নিচ্ছেন। আয়োজক দেশ ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ নয়াদিল্লি ও ভিভিআইপি রুটগুলোকে কঠোর নজরদারির আওতায় এনেছে এবং একটি বিশেষ হাইটেক কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে মনিটরিং পরিচালনা করছে।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত, জ্বালানি সংকট ও ডলার-নির্ভর আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্যের উদ্যোগ ত্বরান্বিত করার প্রেক্ষাপটে এবারের বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক দক্ষিণ বা 'গ্লোবাল সাউথ'-এর অধিকার রক্ষা ও বহুপক্ষীয় বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার এজেন্ডা এতে প্রাধান্য পাচ্ছে।

বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ও প্রাসঙ্গিক কূটনৈতিক সমীকরণ:

সম্মেলনে বঙ্গোপসাগরীয় আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের (BIMSTEC) চেয়ারপারসন হিসেবে বাংলাদেশকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে অন্তর্বর্তীকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্পর্শকাতর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, বিদ্যমান পরিবেশে ভারতের এই আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দ্বিপক্ষীয় জটিলতার সুরাহা করে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই আগামীতে দ্বিপক্ষীয় সফরের পথ সুগম হতে পারে।

মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক রূপান্তর, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পশ্চিমা আধিপত্যের বাইরে একটি ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থা গঠনে ব্রিকসের ভূমিকা এখন দিন দিন জোরালো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে বাংলাদেশের স্বকীয় অবস্থান বজায় রেখে অংশগ্রহণ করা বা না করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও কৌশলগত হিসাব-নিকাশেরই অংশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ