শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

আন্তর্জাতিক চুক্তি ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ গাজার বাস্তুচ্যুত শিবিরে ড্রোন ও ট্যাংক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি তোয়াক্কা না করেই গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী হামলা: ৩ কমান্ডারকে হত্যার দাবি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধবিরতি চুক্তি তোয়াক্কা না করেই গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী হামলা: ৩ কমান্ডারকে হত্যার দাবি

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে তোয়াক্কা না করেই দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় তাদের বর্বর হামলা অব্যাহত রেখেছে। শুক্রবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসের আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের এক সমাবেশে চালানো ড্রোন ও ট্যাংক হামলায় অন্তত ১ জন ফিলিস্তিনি শহীদ এবং শিশুসহ ১৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে গাজায় কাসাম ব্রিগেডের তিন সদস্যকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী, যদিও এ বিষয়ে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক চাপ ও ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় প্রতিনিয়ত রক্তপাত চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনুস শহরের আল-মাওয়াসি এলাকায় অবস্থিত ‘আল-সুমুদ’ বাস্তুচ্যুত শিবিরে নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের একটি সমাবেশে নৃশংস ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। চিকিৎসা সূত্র জানায়, এই ভয়াবহ হামলায় ১ জন ফিলিস্তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং শিশুসহ অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হন। হতাহতদের দ্রুত খান ইউনুসের নাসের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এর আগে একই এলাকার আরদ আল-লিমুন সীমান্তে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি সামরিক ট্যাংকের ছোঁড়া গুলিতে আরও একজন বেসামরিক নাগরিক মারাত্মকভাবে আহত হন। পৃথক আরেকটি ঘটনায়, গাজা শহরের আল-দারাজ লোকালয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ববর্তী হামলায় আহত এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং শিন বেত গোয়েন্দা সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেছে, খান ইউনুসে পরিচালিত তাদের এক সুনির্দিষ্ট হামলায় প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের ৩ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে খান ইউনুস ব্রিগেডের কমান্ডার মোহাম্মদ আল-ইয়াজুরি, কোম্পানি কমান্ডার হুযাইফা মুয়াম্মার এবং সামরিক সদস্য মুহাম্মদ বাহজাত রশিদ রয়েছেন। তবে হামাস বা আল-কাসাম ব্রিগেডের পক্ষ থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি গণহত্যা ও নির্বিচারে বিমান হামলায় এ পর্যন্ত ৭৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ১,৭৪,০০০-এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দখলদার বাহিনীর অব্যাহত হামলায় অবরুদ্ধ এই ছিটমহলের প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক চুক্তি ও মানবাধিকার তোয়াক্কা না করে ইসরায়েলি বাহিনীর এই দৈনন্দিন হামলা গাজায় এক মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।

বিষয় : ইসরায়েল গাজা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


যুদ্ধবিরতি চুক্তি তোয়াক্কা না করেই গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী হামলা: ৩ কমান্ডারকে হত্যার দাবি

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে তোয়াক্কা না করেই দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় তাদের বর্বর হামলা অব্যাহত রেখেছে। শুক্রবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসের আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের এক সমাবেশে চালানো ড্রোন ও ট্যাংক হামলায় অন্তত ১ জন ফিলিস্তিনি শহীদ এবং শিশুসহ ১৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে গাজায় কাসাম ব্রিগেডের তিন সদস্যকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী, যদিও এ বিষয়ে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক চাপ ও ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় প্রতিনিয়ত রক্তপাত চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনুস শহরের আল-মাওয়াসি এলাকায় অবস্থিত ‘আল-সুমুদ’ বাস্তুচ্যুত শিবিরে নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের একটি সমাবেশে নৃশংস ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। চিকিৎসা সূত্র জানায়, এই ভয়াবহ হামলায় ১ জন ফিলিস্তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং শিশুসহ অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হন। হতাহতদের দ্রুত খান ইউনুসের নাসের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এর আগে একই এলাকার আরদ আল-লিমুন সীমান্তে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি সামরিক ট্যাংকের ছোঁড়া গুলিতে আরও একজন বেসামরিক নাগরিক মারাত্মকভাবে আহত হন। পৃথক আরেকটি ঘটনায়, গাজা শহরের আল-দারাজ লোকালয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ববর্তী হামলায় আহত এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং শিন বেত গোয়েন্দা সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেছে, খান ইউনুসে পরিচালিত তাদের এক সুনির্দিষ্ট হামলায় প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের ৩ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে খান ইউনুস ব্রিগেডের কমান্ডার মোহাম্মদ আল-ইয়াজুরি, কোম্পানি কমান্ডার হুযাইফা মুয়াম্মার এবং সামরিক সদস্য মুহাম্মদ বাহজাত রশিদ রয়েছেন। তবে হামাস বা আল-কাসাম ব্রিগেডের পক্ষ থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি গণহত্যা ও নির্বিচারে বিমান হামলায় এ পর্যন্ত ৭৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ১,৭৪,০০০-এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দখলদার বাহিনীর অব্যাহত হামলায় অবরুদ্ধ এই ছিটমহলের প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক চুক্তি ও মানবাধিকার তোয়াক্কা না করে ইসরায়েলি বাহিনীর এই দৈনন্দিন হামলা গাজায় এক মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ