সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে নিজেদের শর্তহীন অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে রিয়াদের নিরাপত্তায় কূটনৈতিক ও সামরিক—উভয়ভাবেই পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর আন্তঃপরিষেবা জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এক সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে, হারামাইন শারিফাইনসহ সৌদি আরবের সার্বিক সুরক্ষায় পাকিস্তান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
সৌদি আরবের সীমান্ত ও আকাশসীমায় নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে পাকিস্তান। সম্প্রতি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোঁড়া ড্রোন তায়েফ শহরের আকাশে ভূপাতিত করে সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক ইয়েমেনি নাগরিক নিহত হন এবং এর আগের বিভিন্ন হামলায় ৮০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম সামরিক শক্তি পাকিস্তানের এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, রিয়াদের নিরাপত্তার প্রশ্নে ইসলামের প্রধান দুই পবিত্র স্থান মক্কা ও মদিনার সুরক্ষাকে পাকিস্তান সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। এই প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণ নিঃশর্ত এবং সময়পরীক্ষিত। কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি সামরিক কৌশলের দিক থেকেও পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সম্পর্ক সুদৃঢ়।
হামলা ও প্রতিরোধের বাইরে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার করেছে। সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানান, পাকিস্তান সংকট নিরসনে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান অতীতে যে মধ্যস্থতা করেছিল, তা 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' হিসেবে স্বীকৃত। এই স্মারকটি বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি কার্যকর ও ঐকমত্যের রূপরেখা হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মতামত