সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত 'ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেররিজম কোয়ালিশন' (IMCTC)-এর সদর দপ্তরে "উগ্রবাদ প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় ধারণাগত ভিত্তি এবং উদীয়মান চ্যালেঞ্জ" শীর্ষক একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জোটের মহাসচিব মেজর জেনারেল পাইলট মোহাম্মদ বিন সাঈদ আল-মুগাইদির উপস্থিতিতে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক বিখ্যাত নিরাপত্তা গবেষণা সংস্থা 'রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট' (RUSI)-এর সহযোগিতায় এই প্রোগ্রামটি আয়োজিত হয়। সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল যুগে সন্ত্রাসবাদের নিত্যনতুন ধরণ মোকাবিলাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেররিজম কোয়ালিশন (IMCTC) এবং যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (RUSI)-এর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সহযোগিতা জোরদার করা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের নিত্যনতুন ধরণ, প্রচার মাধ্যম এবং অর্থায়ন প্রতিরোধে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের প্রস্তুত করাই ছিল এই উদ্যাগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে জোটের মহাসচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বিন সাঈদ আল-মুগাইদি বলেন, "সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করা এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের মূল ভিত্তি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রয়োজন মেটাতে এবং তাদের জাতীয় সুরক্ষার প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের পরিধি সম্প্রসারণে IMCTC সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উক্ত প্রশিক্ষণে উগ্রবাদের মৌলিক সামাজিক ও মানসিক কারণ, চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার, সন্ত্রাসী অর্থায়নের ধরণ এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল অ্যাসেটের সাথে জড়িত ঝুঁকিগুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি, চরমপন্থা থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি, পুনর্বাসন, সমাজে পুনঃএকত্রীকরণ এবং উগ্রবাদী বর্ণনার বিপরীতে সঠিক মতাদর্শিক প্রচারণায় কৌশলগত যোগাযোগের ভূমিকার ওপর বিশেষ আলোকপাত করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বাস্তবসম্মত কৃত্রিম পরিস্থিতির (Simulated Scenarios) ওপর ভিত্তি করে গ্রুপ এক্সারসাইজে অংশ নেন।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা নতুন কৌশল প্রয়োগ, নিয়মিত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই কর্মশালাটি কেবল সামরিক বা নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নয়, বরং উগ্রবাদ প্রতিরোধে বুদ্ধিবৃত্তিক সচেতনতা, অর্থায়ন বন্ধ, ডিজিটাল হুমকি মোকাবিলা এবং সঠিক পুনর্বাসনের মাধ্যমে একটি সর্বাত্মক ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশল গ্রহণে ইসলামিক সামরিক জোটের নিরলস প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে।
মতামত