পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কালাতের কাছে মহাসড়কে নিরাপত্তা বাহিনীর এক সফল অভিযানে ৫ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এ সময় মহাসড়কে অপহৃত ও আটকে পড়া ২৩ জিম্মিকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে বাহিনীটি। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সন্ত্রাসীরা যাত্রীদের অপহরণ, চাঁদাবাজি ও যানবাহন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চেকপোস্ট বসিয়ে অবস্থান নিয়েছিল। একই সাথে পাঞ্জগুর ও চাগাই জেলায় পৃথক অভিযানে আরও ১১ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে দেশটি। কালাতের কাছে প্রধান মহাসড়কে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল অবৈধ চেকপোস্ট বসিয়ে সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি ও যানবাহন ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী। পরিচালিত অভিযানে ৫ সন্ত্রাসী নিহত হয় এবং ২৩ জন জিম্মিকে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বাহিনীটি।
আইএসপিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের মূল লক্ষ্য ছিল যাত্রীদের অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং গুরুত্বপূর্ণ রুটে যানবাহনে ছিনতাই চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। সফল এ অভিযানের পর ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসীদের কব্জা থেকে ছয়টি ট্রাক, তিনটি বাস ও দুটি সাধারণ গাড়ি জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে, বেলুচিস্তানের পাঞ্জগুর ও চাগাই জেলায় পরিচালিত পৃথক ও সমন্বিত অভিযানে আরও ১১ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে নিরাপত্তা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্ট করার লক্ষ্যে একাধিক জায়গায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছিল সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। এর মধ্যে খারান জেলায় সন্ত্রাসীদের এক বর্বরোচিত হামলায় একটি যাত্রীবাহী গাড়িতে থাকা অন্তত ১০ জন সাধারণ শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহত শ্রমিকদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বেলুচিস্তানে গত কিছুদিন ধরেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি মাত্র ৭২ ঘণ্টার এক টানা অভিযানে প্রদেশটিতে মোট ৪৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছিল। দক্ষিণ এশিয়া ও গোটা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক কেন্দ্র পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে এবং সাধারণ নাগরিকদের জীবন বিপন্ন করতে সক্রিয় এসব বিচ্ছিন্নতাবাদী ও উগ্রপন্থীদের দমনে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
মতামত