ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমের যুদ্ধবিধ্বস্ত তাইজ প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের কাছ থেকে একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পাহাড় পুনর্দখলের দাবি করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর তাইজ সামরিক অক্ষ এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে। বর্তমানে প্রদেশটির একাধিক রণাঙ্গনে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে এবং সরকারি বাহিনীর সহায়তায় অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মুসলিম বিশ্বের অন্যতম সংকটকবলিত দেশ ইয়েমেনে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ গভর্নরেটের কৌশলগত অবস্থান নিয়ন্ত্রণে নিতে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছে।
ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর তাইজ সামরিক অক্ষ তাদের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, ইয়েমেনি বাহিনী গভর্নরেটের পশ্চিমে অবস্থিত জাবাল হাবাশি জেলার ‘আল-খাজান পাহাড়’ সফলতা ও দক্ষতার সাথে হুথিদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আল-খাজান পাহাড়টি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি তাইজ গভর্নরেটের পশ্চিমের বেশ কয়েকটি কৌশলগত এলাকা ও সংযোগ সড়কের ওপর সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের সুবিধা প্রদান করে। তাইজের পশ্চিমে অবস্থিত মাকবানা ও কাধা ফ্রন্টে হুথি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটেই এই এলাকাটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। একই সাথে রণাঙ্গনে সরকারি বাহিনীর অবস্থান শক্ত করতে নতুন করে অতিরিক্ত সৈন্য ও সামরিক রসদ পৌঁছানো হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের পশ্চিমের তাইজ ও লোহিত সাগরের উপকূলীয় হোদাইদাহ প্রদেশের বিভিন্ন ফ্রন্টে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল গোলাগুলি ও সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, যাতে উভয় পক্ষেরই বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষ চলাকালে তাইজ গভর্নরেটের পশ্চিমে আল-বারহ এলাকার আকাশে হুথিদের একটি আত্মঘাতী ডানাযুক্ত ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে যৌথ সরকারি সামরিক বাহিনী।
অন্যদিকে, শুক্রবার ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘সাবা টিভি’ এক ব্রেকিং নিউজে জানায়, হুথি বিদ্রোহীরা তাইজের পশ্চিমে অবস্থিত মোচা মোড় এলাকার একটি বেসামরিক রেস্তোরাঁয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই বর্বর হামলায় বহু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা সহ ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দেশটির দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও তাইজে সাম্প্রতিক এই সংঘাতকে সবচেয়ে গুরুতর উত্তেজনার একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতিসংঘ ইয়েমেনে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মতামত