মক্কা ও মদিনার পবিত্র মসজিদসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো বহিরাগত হুমকি মোকাবেলায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী যৌথ প্রতিরক্ষা জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের কাউন্সিল অফ ইসলামিক আইডিওলজির (সিআইআই) চেয়ারম্যান ডক্টর মুহাম্মদ রাগিব হুসাইন নাঈমী। সম্প্রতি মক্কা মুকাররমায় হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সীরাত-উন-নবী (সা.) সেমিনারে তিনি মুসলিম উম্মাহর সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যৌথ সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইসলামী বিশ্বের পবিত্রতম দুই স্থান—মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুসলিম দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তানের কাউন্সিল অফ ইসলামিক আইডিওলজি (সিআইআই)।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান ডক্টর মুহাম্মদ রাগিব হুসাইন নাঈমী সীরাত-উন-নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহ্বান জানান। সেমিনারে তিনি পবিত্র মক্কা মুকাররমা লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান। ড. নাঈমী সতর্ক করে বলেন, হুথি গোষ্ঠী যদি অবিলম্বে এ ধরনের উসকানিমূলক ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ না করে, তবে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে 'উপযুক্ত এবং কঠোর ব্যবস্থা' গ্রহণ করা উচিত।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে বর্তমান পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানান। একই সাথে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ইরানকে তাদের সমর্থনপুষ্ট অনুচর ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সংযত করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।
সীরাতুন্নবীর সার্বজনীনতা তুলে ধরে সিআইআই চেয়ারম্যান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রতিরক্ষা, যুদ্ধনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন থেকে দিশা পাওয়ার পথ খোলা রয়েছে। মুসলিম দেশগুলোর উচিত আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ ও প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়নে সীরাতের এই মহান নীতিগুলোকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, মহানবী (সা.) তৎকালীন আরবের অনগ্রসর বেদুইন সমাজকে একটি সুসংগঠিত, উন্নত এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী সমাজে রূপান্তর করেছিলেন।
সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ডক্টর হাফিজ সাজ্জাদ। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সীরাত-এ-তৈয়্যেবা অনুসরণ করা আবশ্যক। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে সীরাতের শিক্ষায় শিক্ষিত করার মাধ্যমে নৈতিক ও চারিত্রিক ভিত্তিকে সুদৃঢ় করা সম্ভব।
আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এআই-এর অপ্রতিরোধ্য বিস্তার তরুণদের মননে নতুন নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। এই বিভ্রান্তি দূর করতে বিশ্বাস, ইবাদত, সামাজিক শৃঙ্খলা ও অর্থনীতির প্রতিটি প্রশ্নে সীরাত-উন-নবী (সা.)-এর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা গ্রহণ করার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
উক্ত সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা ড. রিফাকাত জালালী, প্রফেসর ড. হামিদ চিশতী, সিআইআই সচিব ড. গোলাম দস্তগীর শাহীন, প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা ড. গোলাম মজিদসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীগণ।
মতামত