নেদারল্যান্ডসে মসজিদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা, হুমকি এবং ভাঙচুরের ঘটনা নথিভুক্ত ও প্রতিরোধ করতে একটি নতুন 'জাতীয় প্রতিবেদন কেন্দ্র' চালু করেছে কন্টাক্ট অর্গানাইজেশন ফর মুসলিমস অ্যান্ড গভর্নমেন্ট (সিএমও)। দেশটির মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বকারী এই শীর্ষ সংগঠনটি অনলাইনে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে আইনি ব্যবস্থা ও সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডাচ পুলিশ ও বৈষম্যবিরোধী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে মুসলিম প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।
নেদারল্যান্ডসের মুসলিম সম্প্রদায় ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দেশটির মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান কেন্দ্রীয় সংগঠন 'কন্টাক্ট অর্গানাইজেশন ফর মুসলিমস অ্যান্ড গভর্নমেন্ট' (সিএমও)। বারবার মসজিদ ভাঙচুর, ঘৃণা ছড়ানো এবং হুমকি দেওয়ার ঘটনার প্রেক্ষাপটে সংস্থাটি 'ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঘটনাগুলোর জন্য জাতীয় প্রতিবেদন কেন্দ্র' (Landelijk Meldpunt Voorval Islamitische Instellingen) শীর্ষক একটি বিশেষ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে।
এই নতুন ব্যবস্থার অধীনে নেদারল্যান্ডসের যেকোনো মসজিদ, মাদ্রাসা বা ইসলামিক কাউন্সিল তাদের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া যেকোনো বৈষম্যমূলক আচরণ বা হামলার ঘটনা সরাসরি অনলাইনে সিএমও-কে অবহিত করতে পারবে। এতদিন সরকারি ও সাধারণ প্ল্যাটফর্মগুলোতে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াটি জটিল ও দীর্ঘসূত্রতায় পূর্ণ থাকায় অনেক মুসলিম প্রতিষ্ঠানই ঘটনার পর অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত বোধ করত।
নতুন এই উদ্যোগ সম্পর্কে সিএমও-র সভাপতি মুহসিন কোকতাশ সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রচলিত অভিযোগ কেন্দ্রগুলোতে সঠিক পদ্ধতিতে এবং কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় আবেদন জমা পড়ছিল না। তিনি বলেন, 'আমাদের বিশ্বাস, এই ডেডিকেটেড নোটিফিকেশন লাইনটি আমাদের সদস্য ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের জন্য ঘটনা জানানোর একটি অত্যন্ত সহজ, সুনির্দিষ্ট এবং সহজলভ্য মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।'
মুহসিন কোকতাশ আরও উল্লেখ করেন, অতীতে অনেক সময় দেখা গেছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট সংস্থায় অভিযোগ দায়ের করলেও সেই অভিযোগের অগ্রগতি সম্পর্কে তাদের পরবর্তীতে আর কিছুই জানানো হতো না। এই নতুন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সিএমও আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করবে। প্রাপ্ত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে তথ্যপ্রমাণ সম্পূর্ণ রাখা হবে, যেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে ঘটনার শক্ত ফলো-আপ করা সম্ভব হয়।
ডাচ সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে মোট ৪১৪টি মুসলিম-বিরোধী বৈষম্য ও অপরাধের তথ্য নথিভুক্ত করে পুলিশ, যার মধ্যে অন্তত ২০টি সরাসরি মসজিদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে জুমার নামাজের মতো ধর্মীয় জমায়েতেও সূক্ষ্ম বৈষম্য ও বাধার সৃষ্টি হচ্ছে, যা উদ্বিগ্ন করে তুলেছে সিএমও-কে।
সিএমও সভাপতির মতে, সরকারি পরিসংখ্যান ও প্রকৃত পরিস্থিতির মধ্যে ব্যবধান রয়েছে কারণ পুলিশ প্রায়ই অভিযোগ করে যে ইসলামোফোবিয়ার ঘটনাগুলো প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে রিপোর্ট করা হয় না। নতুন এই ডেটাবেস নিয়ে সিএমও এখন থেকে আইন মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও বৈষম্যবিরোধী জাতীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে বার্ষিক বৈঠকে বস্তুনিষ্ঠ পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদন তুলে ধরবে। এতে করে উগ্রপন্থীদের হাত থেকে মুসলিম ধর্মীয় স্থানগুলোর নিরাপত্তা বিধানে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের ওপর চাপ জোরদার হবে। একই সঙ্গে এটি নেদারল্যান্ডসে ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।
মতামত