ইতালির সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের হিজাব ও বোরকা পরা নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি বিদেশী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণে কঠোর আইন পাসের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার। ক্ষমতাসীন ডানপন্থী 'ব্রাদার্স অব ইতালি' (FdI) দলের যুব উৎসব 'ফিনিক্স'-এ দেওয়া বক্তব্যে মেলোনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। ইউরোপে বাড়তে থাকা ইসলামোফোবিয়া ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আগ্রাসনের মুখে মেলোনি সরকারের এই প্রস্তাবিত বিলটি ইতালি ও আন্তর্জাতিক মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইউরোপ মহাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মুসলিমদের অধিকারের ওপর ক্রমাগত যে আঘাত আসছে, তারই ধারাবাহিকতায় এবার নতুন শিক্ষানীতির অজুহাতে মুসলিম পোশাক ও বিদেশী শিক্ষার্থীদের টার্গেট করেছে ইতালির মেলোনি সরকার। সম্প্রতি মেলোনির নিজস্ব রাজনৈতিক দল ব্রাদার্স অব ইতালির যুব সংগঠন আয়োজিত 'ফিনিক্স' উৎসবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই বিতর্কিত পদক্ষেপের ঘোষণা দেন।
ইতালীয় বার্তা সংস্থা 'আনসা' (ANSA)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্জিয়া মেলোনি বলেন, 'ইতালীয় শিশুরা নিজেদের শ্রেণীকক্ষে সংখ্যালঘু বা কোণঠাসা অনুভব করতে পারে না। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।' তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন, খুব শীঘ্রই মন্ত্রিসভার বৈঠকে (কাউন্সিল অব মিনিস্টার্স) স্কুলে হিজাব ও বোরকা নিষিদ্ধের এ সংক্রান্ত নতুন বিলটি উত্থাপন করা হবে। এর পাশাপাশি ইতালীয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থায় বিদেশী শিক্ষার্থীদের একীভূত করার অংশ হিসেবে যেসব বিদেশী শিক্ষার্থী ভাষায় পিছিয়ে রয়েছে, তাদের অভিভাবকদের জন্যও বাধ্যতামূলক ইতালীয় ভাষা শেখার নিয়ম চালু করা হবে।
এটিই ইতালিতে মুসলিম পোশাকের ওপর আঘাতের প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে গত বছর ইতালির অন্যতম ডানপন্থী রাজনৈতিক দল 'লেগা পপুলিস্ট পার্টি' জনসমক্ষে মুখ ঢাকা পোশাক ও বোরকা ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করেছিল। এবার প্রধানমন্ত্রী মেলোনি নিজেই সরাসরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব ও বোরকা নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটার ঘোষণা দিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ আদালত (CJEU) রায় দিয়েছিল যে, ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখার অজুহাতে কর্মচারীদের ধর্মীয় প্রতীক বা পোশাক (যেমন হিজাব) পরা নিষিদ্ধ করতে পারে। ইউরোপীয় আদালতের এমন বিতর্কিত রায়ের ওপর ভর করেই এখন ইতালির মতো দেশগুলো সরাসরি মুসলিম নারীদের হিজাব পরার মৌলিক এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর প্রশাসনিক আইনি কড়াকড়ি আরোপ করছে। ইউরোপের বুকে ধর্মনিরপেক্ষতা ও নিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে মূলধারা থেকে মুসলিমদের বিচ্ছিন্ন করার এই রাজনৈতিক চক্রান্তকে গভীর উদ্বেগের সাথে দেখছেন বৈশ্বিক মানবাধিকার বিশ্লেষক ও মুসলিম বিশ্ব।
মতামত