বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি প্রতিযোগীদের অভূতপূর্ব সাফল্য;

আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের গৌরবময় সাফল্য: বিজয়ীদের সংবর্ধনা দিলেন রাষ্ট্রপতি


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের গৌরবময় সাফল্য: বিজয়ীদের সংবর্ধনা দিলেন রাষ্ট্রপতি

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দল গৌরবময় সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বমঞ্চে এই ঐতিহাসিক অর্জন লালনকারী বিজয়ী প্রতিযোগীগণ আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে প্রচারিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি এই অসামান্য অর্জনে গভীর সন্তোষ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের ১৩৩টি দেশের শ্রেষ্ঠ প্রতিযোগীদের সঙ্গে তুমুল প্রতিযোগিতা করে এমন সাফল্য অর্জন সমগ্র জাতির জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়। তিনি বিজয়ী প্রতিযোগী, তাঁদের শিক্ষক-উস্তাদ, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকলকে এই বিরল অর্জনের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দেশে ইসলামী শিক্ষাবিস্তার, ধর্মচর্চা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় ও সমৃদ্ধ রাখতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গৃহীত বিভিন্ন ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, দেশে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার, মানোন্নয়ন এবং হাফেজ-আলেমদের উপযুক্ত মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।

সাক্ষাৎকালে বিজয়ী ক্বারী ও হাফেজগণ তাঁদের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে বঙ্গভবনে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানোর জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি গভীর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, মাদ্রাসা ও মক্তবসহ বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থী, হাফেজ ও আলেমদের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়মিত সম্মানিত করা হলে সর্বস্তরের মানুষ কুরআন চর্চা ও ধর্মীয় শিক্ষায় আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবে। একইসঙ্গে তাঁরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য সুনাম ও সম্মান বয়ে আনা হাফেজদের যথাযথ সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা প্রদানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

প্রত্যুত্তরে রাষ্ট্রপতি বলেন, "বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ এবং এই ভূখণ্ডের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম। এ দেশের মানুষ অতীতেও নিজেদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও বিশ্বাস রক্ষায় অকাতরে ত্যাগ স্বীকার করেছে। নানা পরিবর্তন ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আজ এক নতুন অভিযাত্রায় প্রবেশ করেছে। ধর্মীয় শিক্ষার সার্বিক প্রসার ও আধুনিক মানোন্নয়নে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করে যাবে।"

উল্লেখ্য, কুরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা মোঃ বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে বঙ্গভবনে প্রতিনিধি দলে বিজয়ী হাফেজগণ উপস্থিত ছিলেন। বিজয়ীদের মধ্যে ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া। একই বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফয মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান। অন্যদিকে, ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন মারকাযুল মদীনা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ শেখ মোঃ মাহমুদুল হাসান (আশরাফী) এবং সাউদা বিনতে জামআ’হ (রা.) আন্তর্জাতিক বালিকা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ।

সাক্ষাৎকালে বিজয়ীদের পিতা-মাতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উস্তাদ ও কুরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশের পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি বিজয়ী হাফেজদের হাতে বিশেষ 'রাষ্ট্রপতির ক্রেস্ট' এবং তাঁদের পরিবারের সদস্য ও উস্তাদদের সৌজন্য উপহার তুলে দেন।

বিষয় : রাষ্ট্রপতি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের গৌরবময় সাফল্য: বিজয়ীদের সংবর্ধনা দিলেন রাষ্ট্রপতি

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দল গৌরবময় সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বমঞ্চে এই ঐতিহাসিক অর্জন লালনকারী বিজয়ী প্রতিযোগীগণ আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে প্রচারিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি এই অসামান্য অর্জনে গভীর সন্তোষ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের ১৩৩টি দেশের শ্রেষ্ঠ প্রতিযোগীদের সঙ্গে তুমুল প্রতিযোগিতা করে এমন সাফল্য অর্জন সমগ্র জাতির জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়। তিনি বিজয়ী প্রতিযোগী, তাঁদের শিক্ষক-উস্তাদ, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকলকে এই বিরল অর্জনের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দেশে ইসলামী শিক্ষাবিস্তার, ধর্মচর্চা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় ও সমৃদ্ধ রাখতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গৃহীত বিভিন্ন ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, দেশে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার, মানোন্নয়ন এবং হাফেজ-আলেমদের উপযুক্ত মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।

সাক্ষাৎকালে বিজয়ী ক্বারী ও হাফেজগণ তাঁদের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে বঙ্গভবনে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানোর জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি গভীর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, মাদ্রাসা ও মক্তবসহ বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থী, হাফেজ ও আলেমদের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়মিত সম্মানিত করা হলে সর্বস্তরের মানুষ কুরআন চর্চা ও ধর্মীয় শিক্ষায় আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবে। একইসঙ্গে তাঁরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য সুনাম ও সম্মান বয়ে আনা হাফেজদের যথাযথ সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা প্রদানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

প্রত্যুত্তরে রাষ্ট্রপতি বলেন, "বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ এবং এই ভূখণ্ডের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম। এ দেশের মানুষ অতীতেও নিজেদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও বিশ্বাস রক্ষায় অকাতরে ত্যাগ স্বীকার করেছে। নানা পরিবর্তন ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আজ এক নতুন অভিযাত্রায় প্রবেশ করেছে। ধর্মীয় শিক্ষার সার্বিক প্রসার ও আধুনিক মানোন্নয়নে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করে যাবে।"

উল্লেখ্য, কুরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা মোঃ বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে বঙ্গভবনে প্রতিনিধি দলে বিজয়ী হাফেজগণ উপস্থিত ছিলেন। বিজয়ীদের মধ্যে ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া। একই বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফয মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান। অন্যদিকে, ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন মারকাযুল মদীনা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ শেখ মোঃ মাহমুদুল হাসান (আশরাফী) এবং সাউদা বিনতে জামআ’হ (রা.) আন্তর্জাতিক বালিকা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ।

সাক্ষাৎকালে বিজয়ীদের পিতা-মাতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উস্তাদ ও কুরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশের পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি বিজয়ী হাফেজদের হাতে বিশেষ 'রাষ্ট্রপতির ক্রেস্ট' এবং তাঁদের পরিবারের সদস্য ও উস্তাদদের সৌজন্য উপহার তুলে দেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ