গাজায় চলমান আগ্রাসন ও মানবতাহীন সংকটের তিন বছরপূর্তির প্রাক্কালে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন যে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি উপত্যকায় কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা বা পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য নিরাপত্তা এবং স্থায়ী শান্তির পথ তৈরিতে গাজা সংঘাত অবসানের ‘সার্বিক পরিকল্পনা’ সম্পূর্ণ কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জাতিসংঘ মহাসচিব এক বিবৃতিতে বলেন, “গত বছরের যুদ্ধবিরতি সাময়িক কিছু স্বস্তি এনে দিয়েছিল, কিন্তু এটি এখনও স্থায়ী নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা কিংবা পুনর্বাসন ও শান্তির কোনো নির্ভরযোগ্য পথ তৈরি করতে পারেনি। এখন সময় এসেছে এই সাময়িক অস্ত্রসংবরণকে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রূপান্তর করার। সময় এসেছে আন্তর্জাতিক আইনকে শ্রদ্ধা জানানোর এবং সর্বাত্মক মাত্রায় মানবিক ত্রাণ গাজায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার”।
সংঘাতের ভয়াবহ চিত্র ও মানবীয় বিপর্যয়
সংঘাতের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জাতিসংঘ প্রধান উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের সংঘর্ষ এবং এর পরবর্তী ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ফিলিস্তিনিদের ওপর অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট ও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় গাজায় অন্তত ৭৪,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন এবং ১৭৫,০০০-এরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। বোমার আঘাতে উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর চুক্তি স্বাক্ষরের পর আপাত যুদ্ধবিরতি বহাল থাকা সত্ত্বেও দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা থেমে থাকেনি। এ সময়ের মধ্যেও তারা অন্তত ১,৪৫৪ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা এবং ৫,০৯০ জনের বেশি মানুষকে আহত করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, নিরবচ্ছিন্ন হামলা ও অবরুদ্ধতার কারণে গোটা গাজা এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি অঙ্গচ্ছেদ হওয়া শিশুর ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই দখলদার বাহিনীর আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং ফিলিস্তিনের মজলুম জনগোষ্ঠীর মৌলিক মানবাধিকার ও নিরাপত্তার অধিকার পুনরুদ্ধার করতে হবে।
মতামত