ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের গুরুদাসপুরে এক মুসলিম ব্যবসায়ীর ‘আল করিম চিকেন পয়েন্ট’ নামের হালাল মুরগির দোকানে সশস্ত্র নিহাং শিখ দলবল নিয়ে চড়াও হয়েছে। এলাকার মুসলিম জনসংখ্যা না থাকা সত্ত্বেও কেন সেখানে হালাল গোশতের দোকান চালু রাখা হয়েছে— তা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন নিহাং যোদ্ধা সালবিন্দর সিং। হিন্দু ও শিখ অধ্যুষিত এলাকায় অমুসলিমদের কাছে হালাল মাংস বিক্রির অভিযোগ এনে দোকান মালিককে সরাসরি হুংকার ও নির্দেশ প্রদান করা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের গুরুদাসপুরের জাহাজ চকের কাছে অবস্থিত 'আল করিম চিকেন পয়েন্ট' নামের একটি মুসলিম মালিকানাধীন হালাল মাংসের দোকানে গিয়ে হুমকি ও বাধা সৃষ্টি করার ঘটনা ঘটেছে। প্রথাগত সশস্ত্র নিহাং শিখ যোদ্ধা সালবিন্দর সিং তার সহযোগীদের নিয়ে এই কান্ড ঘটান। ঘটনার একটি ভিডিও শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে সালবিন্দর সিংকে জোর গলায় বলতে শোনা যায়, যে এলাকায় মুসলিম জনসংখ্যা নেই, সেখানে মুসলিমদের ব্যবসা পরিচালনা করা অনুচিত। তিনি বলেন, “মুসলিম ব্যক্তিরা এখানে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, যা ঠিক আছে; কিন্তু এই আশপাশের এলাকায় তো কোনো মুসলিম জনসংখ্যা নেই। যেখানে মুসলিম জনগোষ্ঠী বাস করে, তাদের সেখানেই দোকান খোলা উচিত।”
সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে নিহাং নেতা আরও বলেন, হিন্দু ও শিখ বাসিন্দাদের এলাকায় হালাল মাংস বিক্রি করা হচ্ছে অথচ সরকার সেদিকে নজর দিচ্ছে না। নিহাং সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত 'ঝটকা' মাংসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “কোনো মুসলিম তো কখনোই 'ঝটকা' মাংস খায় না, তাদের ওপর এ নিয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। তাহলে যারা ঝটকা মাংস খায়, তাদের কেন হালাল মাংস পরিবেশন করা হচ্ছে?”
একই সাথে তিনি দোকানের নামফলক ও ভাষার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করার দাবি জানান। দোকানে ইংরেজিতে সাইনবোর্ড ব্যবহারের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “দোকানের নাম কেন ইংরেজিতে লেখা থাকবে? এটি কি কোনো বিদেশ? পাঞ্জাবে সব নামফলক কেবল পাঞ্জাবি ভাষাতেই হতে হবে।”
দোকানে আসা অমুসলিম ক্রেতাদের হালাল মাংসের বিষয়ে সতর্ক করতে মুসলিম দোকান মালিককে তিনি 'নির্দেশ' দেন। তিনি হুমকি সুরেই প্রশ্ন তোলেন, অমুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত এলাকায় দুটি হালাল দোকান কেন খোলা থাকবে? ক্রেতাদের অজ্ঞতার সুযোগ নেওয়া হচ্ছে দাবি করে তিনি সতর্ক করেন, “মানুষ না জেনে এসে বিরিয়ানি খায়, যে এটি হালাল কি না। কাল তো এরা গরুর গোশতও বিক্রি করা শুরু করবে। এসব অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
মানবাধিকার ও মুসলিম অধিকার সংগঠনগুলো ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের হালাল ব্যবসা এবং স্বাধীন জীবনযাত্রার ওপর ক্রমাগত এমন চাপ সৃষ্টিকে গভীর উদ্বেগজনক হিসেবে অভিহিত করেছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও স্বাধীন ব্যবসা পরিচালনার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
মতামত