গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোগান সতর্ক করে বলেছেন, গাজায় গণহত্যার মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হলে এর 'চরম মূল্য' দিতে হবে। শান্তিকে সুযোগ দিতে এবং চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি সব ধরনের নাশকতামূলক কাজ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। এরদোগান জানান, তুরস্ক যত দ্রুত সম্ভব গাজায় শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাবে।
তুরস্কের কৃষ্ণ সাগর উপকূলীয় প্রদেশ রাইজে নতুন অবকাঠামো ও প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে প্রেসিডেন্ট এরদোগান ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানান। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে মিশরের শারম এল-শেইখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থাপিত ২০-দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।
এই চুক্তির প্রথম ধাপের মধ্যে রয়েছে:
তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি
জিম্মি ও বন্দীদের মুক্তি
ইসরায়েলি বাহিনীর গাজা থেকে একটি নির্দিষ্ট লাইনে প্রত্যাহার
গাজায় মানবিক সহায়তা সরবরাহ
পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন
এরদোগান জোর দিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো "চুক্তিটি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা," এবং আঙ্কারা এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অবদান রাখবে। তিনি আরও বলেন, "আমাদের অঞ্চল, বিশেষ করে গাজা, যথেষ্ট রক্তপাত, গণহত্যা আর অশ্রু সহ্য করেছে। শান্তিকে অবশ্যই একটি সুযোগ দিতে হবে এবং সব ধরনের নাশকতামূলক কাজ এড়িয়ে চলতে হবে।"
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এই চুক্তিকে স্থায়ী শান্তির দিকে একটি 'বড় পদক্ষেপ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যদিও সামনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, "গাজায় স্থায়ী শান্তির দরজা খুলেছে। আমরা বলছি—আর রক্তপাত নয়।"
এদিকে, মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ আজ ঘোষণা করেছেন যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর গাজায় হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলিদের মুক্তির জন্য ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শুরু হয়েছে। সেন্টকম (CENTCOM) নিশ্চিত করেছে যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রথম ধাপের প্রত্যাহার 'হলুদ রেখা' পর্যন্ত সম্পন্ন করেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, হামাসকে ২০ জন জিম্মিকে মুক্তি দিতে এবং ২৮টি মৃতদেহ ফিরিয়ে দিতে হবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দী এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে আটক ১,৭০০ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে। এরদোগান আশা প্রকাশ করেন যে এই পদক্ষেপগুলো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।
বিষয় : তুরস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৫
গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোগান সতর্ক করে বলেছেন, গাজায় গণহত্যার মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হলে এর 'চরম মূল্য' দিতে হবে। শান্তিকে সুযোগ দিতে এবং চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি সব ধরনের নাশকতামূলক কাজ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। এরদোগান জানান, তুরস্ক যত দ্রুত সম্ভব গাজায় শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাবে।
তুরস্কের কৃষ্ণ সাগর উপকূলীয় প্রদেশ রাইজে নতুন অবকাঠামো ও প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে প্রেসিডেন্ট এরদোগান ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানান। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে মিশরের শারম এল-শেইখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থাপিত ২০-দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।
এই চুক্তির প্রথম ধাপের মধ্যে রয়েছে:
তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি
জিম্মি ও বন্দীদের মুক্তি
ইসরায়েলি বাহিনীর গাজা থেকে একটি নির্দিষ্ট লাইনে প্রত্যাহার
গাজায় মানবিক সহায়তা সরবরাহ
পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন
এরদোগান জোর দিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো "চুক্তিটি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা," এবং আঙ্কারা এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অবদান রাখবে। তিনি আরও বলেন, "আমাদের অঞ্চল, বিশেষ করে গাজা, যথেষ্ট রক্তপাত, গণহত্যা আর অশ্রু সহ্য করেছে। শান্তিকে অবশ্যই একটি সুযোগ দিতে হবে এবং সব ধরনের নাশকতামূলক কাজ এড়িয়ে চলতে হবে।"
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এই চুক্তিকে স্থায়ী শান্তির দিকে একটি 'বড় পদক্ষেপ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যদিও সামনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, "গাজায় স্থায়ী শান্তির দরজা খুলেছে। আমরা বলছি—আর রক্তপাত নয়।"
এদিকে, মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ আজ ঘোষণা করেছেন যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর গাজায় হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলিদের মুক্তির জন্য ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শুরু হয়েছে। সেন্টকম (CENTCOM) নিশ্চিত করেছে যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রথম ধাপের প্রত্যাহার 'হলুদ রেখা' পর্যন্ত সম্পন্ন করেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, হামাসকে ২০ জন জিম্মিকে মুক্তি দিতে এবং ২৮টি মৃতদেহ ফিরিয়ে দিতে হবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দী এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে আটক ১,৭০০ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে। এরদোগান আশা প্রকাশ করেন যে এই পদক্ষেপগুলো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।

আপনার মতামত লিখুন