বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা এবং বাংলাদেশে তুর্কি বিনিয়োগের আহ্বান

রোহিঙ্গা ও বিনিয়োগ: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তুর্কি সংসদীয় প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা ও বিনিয়োগ: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তুর্কি সংসদীয় প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

সোমবার স্টেট গেস্ট হাউস যমুনায় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তুরস্ক-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের প্রধান ও তুর্কি সংসদ সদস্য মি. মেহমেত আকিফ ইলমাজ-এর নেতৃত্বে আগত পাঁচ সদস্যের তুর্কি সংসদীয় প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং মানবিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে বিশ্বের দৃষ্টিতে তুলে ধরার পাশাপাশি তুর্কি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান।

তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করে মি. ইলমাজ বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। তিনি তাঁর প্রতিনিধি দলের গত ২ নভেম্বর কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন এবং তুর্কি ফিল্ড হাসপাতালসহ বিভিন্ন তুর্কি সংস্থা ও এনজিও-র মানবিক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি তুরস্কের অবিচল সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বিশ্বকে বারবার মনে করিয়ে দেন যে, রোহিঙ্গা জনগণ এবং তাদের উপর দশকের পর দশক ধরে ঘটে যাওয়া অবিচারকে ভুলে যাওয়া উচিত নয়। প্রধান উপদেষ্টা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,

“রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের দুর্ভোগ আমাদের সময়ের অন্যতম মর্মান্তিক মানবিক সংকট। এই মানুষগুলো কেবল মুসলিম হওয়ার কারণেই ভুগছে এবং তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আট বছর ধরে ক্যাম্পে থাকার কারণে রোহিঙ্গারা শিক্ষা ও ভবিষ্যতের সুযোগ সীমিতভাবে পাচ্ছে, যা হতাশা ও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

অধ্যাপক ইউনূস তুর্কি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বাংলাদেশকে উন্নত বাজারে রপ্তানির জন্য একটি উৎপাদন কেন্দ্রে (Manufacturing Hub) পরিণত করার বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এই দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি তুরস্কের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও গভীর করার দিকে মনোনিবেশ করেছি।”

প্রধান উপদেষ্টা মানবিক ও উন্নয়ন সহযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং ফার্স্ট লেডির অব্যাহত সমর্থন ও সংহতির জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "আমাদের জনগণের এবং আমাদের অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য নতুন সুযোগ উন্মোচন করতে বাংলাদেশ তুরস্কের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত।"

বিষয় : বাংলাদেশ তুরস্ক

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


রোহিঙ্গা ও বিনিয়োগ: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তুর্কি সংসদীয় প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

সোমবার স্টেট গেস্ট হাউস যমুনায় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তুরস্ক-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের প্রধান ও তুর্কি সংসদ সদস্য মি. মেহমেত আকিফ ইলমাজ-এর নেতৃত্বে আগত পাঁচ সদস্যের তুর্কি সংসদীয় প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং মানবিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে বিশ্বের দৃষ্টিতে তুলে ধরার পাশাপাশি তুর্কি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান।

তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করে মি. ইলমাজ বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। তিনি তাঁর প্রতিনিধি দলের গত ২ নভেম্বর কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন এবং তুর্কি ফিল্ড হাসপাতালসহ বিভিন্ন তুর্কি সংস্থা ও এনজিও-র মানবিক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি তুরস্কের অবিচল সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বিশ্বকে বারবার মনে করিয়ে দেন যে, রোহিঙ্গা জনগণ এবং তাদের উপর দশকের পর দশক ধরে ঘটে যাওয়া অবিচারকে ভুলে যাওয়া উচিত নয়। প্রধান উপদেষ্টা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,

“রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের দুর্ভোগ আমাদের সময়ের অন্যতম মর্মান্তিক মানবিক সংকট। এই মানুষগুলো কেবল মুসলিম হওয়ার কারণেই ভুগছে এবং তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আট বছর ধরে ক্যাম্পে থাকার কারণে রোহিঙ্গারা শিক্ষা ও ভবিষ্যতের সুযোগ সীমিতভাবে পাচ্ছে, যা হতাশা ও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

অধ্যাপক ইউনূস তুর্কি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বাংলাদেশকে উন্নত বাজারে রপ্তানির জন্য একটি উৎপাদন কেন্দ্রে (Manufacturing Hub) পরিণত করার বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এই দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি তুরস্কের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও গভীর করার দিকে মনোনিবেশ করেছি।”

প্রধান উপদেষ্টা মানবিক ও উন্নয়ন সহযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং ফার্স্ট লেডির অব্যাহত সমর্থন ও সংহতির জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "আমাদের জনগণের এবং আমাদের অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য নতুন সুযোগ উন্মোচন করতে বাংলাদেশ তুরস্কের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত।"


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত