বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

মার্কিন ও জোটবাহিনী প্রত্যাহার, সামরিক ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরাকি বাহিনীর হাতে

ইরাকে আইএস বিরোধী জোটের প্রথম ধাপের মিশন সমাপ্ত ঘোষণা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইরাকে আইএস বিরোধী জোটের প্রথম ধাপের মিশন সমাপ্ত ঘোষণা

ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইরত আন্তর্জাতিক জোট বাহিনীর সামরিক অভিযানের প্রথম ধাপ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর ইরাকের প্রধান সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে বিদেশি পরামর্শক ও বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে দেশটির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে ইরাকি সেনাবাহিনী।

ইরাকের উচ্চতর সামরিক কমিটি (HMC) রবিবার রাতে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে যে, দেশটির ফেডারেল অঞ্চলগুলো থেকে আন্তর্জাতিক জোটের সকল সামরিক কার্যক্রমের অবসান ঘটেছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পশ্চিম আনবার প্রদেশের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ 'আইন আল-আসাদ' বিমান ঘাঁটি এবং জয়েন্ট অপারেশন কমান্ডের সদর দপ্তর থেকে বিদেশি পরামর্শকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইরাকি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত শনিবার মার্কিন বাহিনী আইন আল-আসাদ ঘাঁটিটি সম্পূর্ণভাবে ইরাকি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে। এর মাধ্যমে ইরাকের আকাশ ও ভূমি এখন দেশটির নিজস্ব বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বহুজাতিক জোটের মিশন শেষ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরাকের নিরাপত্তা সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে না। বরং এটি এখন একটি 'দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা অংশীদারিত্বে' রূপান্তরিত হয়েছে। এই নতুন পর্যায়ে দুই দেশ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে আইএসের পুনরুত্থান ঠেকাতে কাজ করবে।

ইরাকের ভেতরে সামরিক মিশন শেষ হলেও আন্তর্জাতিক জোটের দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এই ধাপে মূলত প্রতিবেশী দেশ সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করবে জোট বাহিনী। এই কার্যক্রমের জন্য ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় শহর এরবিলের একটি বিমান ঘাঁটিকে লজিস্টিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে যখন আইএস ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল অংশ দখল করে নিয়েছিল, তখন তাদের দমনে মার্কিন নেতৃত্বে ফ্রান্স ও স্পেনের মতো দেশগুলোর সমন্বয়ে এই আন্তর্জাতিক জোট গঠিত হয়েছিল। ২০১৭ সালে ইরাক আনুষ্ঠানিকভাবে আইএসের বিরুদ্ধে জয় ঘোষণা করলেও বিচ্ছিন্ন হামলা মোকাবিলায় জোটের সহায়তা নিয়ে আসছিল। সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ ইরাকের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথে এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিষয় : ইরাক

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


ইরাকে আইএস বিরোধী জোটের প্রথম ধাপের মিশন সমাপ্ত ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইরত আন্তর্জাতিক জোট বাহিনীর সামরিক অভিযানের প্রথম ধাপ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর ইরাকের প্রধান সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে বিদেশি পরামর্শক ও বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে দেশটির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে ইরাকি সেনাবাহিনী।

ইরাকের উচ্চতর সামরিক কমিটি (HMC) রবিবার রাতে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে যে, দেশটির ফেডারেল অঞ্চলগুলো থেকে আন্তর্জাতিক জোটের সকল সামরিক কার্যক্রমের অবসান ঘটেছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পশ্চিম আনবার প্রদেশের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ 'আইন আল-আসাদ' বিমান ঘাঁটি এবং জয়েন্ট অপারেশন কমান্ডের সদর দপ্তর থেকে বিদেশি পরামর্শকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইরাকি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত শনিবার মার্কিন বাহিনী আইন আল-আসাদ ঘাঁটিটি সম্পূর্ণভাবে ইরাকি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে। এর মাধ্যমে ইরাকের আকাশ ও ভূমি এখন দেশটির নিজস্ব বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বহুজাতিক জোটের মিশন শেষ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরাকের নিরাপত্তা সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে না। বরং এটি এখন একটি 'দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা অংশীদারিত্বে' রূপান্তরিত হয়েছে। এই নতুন পর্যায়ে দুই দেশ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে আইএসের পুনরুত্থান ঠেকাতে কাজ করবে।

ইরাকের ভেতরে সামরিক মিশন শেষ হলেও আন্তর্জাতিক জোটের দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এই ধাপে মূলত প্রতিবেশী দেশ সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করবে জোট বাহিনী। এই কার্যক্রমের জন্য ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় শহর এরবিলের একটি বিমান ঘাঁটিকে লজিস্টিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে যখন আইএস ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল অংশ দখল করে নিয়েছিল, তখন তাদের দমনে মার্কিন নেতৃত্বে ফ্রান্স ও স্পেনের মতো দেশগুলোর সমন্বয়ে এই আন্তর্জাতিক জোট গঠিত হয়েছিল। ২০১৭ সালে ইরাক আনুষ্ঠানিকভাবে আইএসের বিরুদ্ধে জয় ঘোষণা করলেও বিচ্ছিন্ন হামলা মোকাবিলায় জোটের সহায়তা নিয়ে আসছিল। সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ ইরাকের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথে এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত