সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ৪৯ জনকে শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তবে শেষ মুহূর্তে আলোচনায় থাকা একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বাদ পড়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরুর ধারাবাহিকতায় দ্রুত সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের জন্য মোট ৪৯ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায়। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়োগ দেন এবং শপথের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় থাকলেও শেষ মুহূর্তে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন—ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, ড. আব্দুল মইন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রুহুল কবির রিজভী, ড. ওসমান ফারুক, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, ড. রেজা কিবরিয়া, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, খায়রুল কবির খোকন এবং ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ আরও কয়েকজন।
তাদের বাদ পড়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় ভারসাম্য, অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও কৌশলগত বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত হয়ে থাকতে পারে।
পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন—
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এজেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আওয়াল মিন্টু, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আমিনুর রশিদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম রিতা, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আসাদুল হাবীব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের সুমন, দিপেন দেওয়ান, আনম এহসানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফকির মাহবুব আনাম এবং শেখ রবিউল আলম।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন—
এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরীফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, মো. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন পুতুল, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেন, এম এ মুহিত, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ এবং আলী নেওয়াজ খৈয়াম।
মন্ত্রিসভার আকার, নেতৃত্বের বৈচিত্র্য এবং টেকনোক্র্যাট অন্তর্ভুক্তি নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণী অগ্রাধিকারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বৈদেশিক কূটনৈতিক সম্পর্ক—এসব ইস্যুতে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ থাকবে নতুন মন্ত্রিসভার সামনে।
শপথের পরপরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রণালয় বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মন্ত্রণালয় বণ্টনই শেষ পর্যন্ত সরকারের কার্যকরী কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণ করবে।
বিষয় : বিএনপি জাতীয় সংসদ মন্ত্রিসভা

শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ৪৯ জনকে শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তবে শেষ মুহূর্তে আলোচনায় থাকা একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বাদ পড়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরুর ধারাবাহিকতায় দ্রুত সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের জন্য মোট ৪৯ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায়। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়োগ দেন এবং শপথের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় থাকলেও শেষ মুহূর্তে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন—ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, ড. আব্দুল মইন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রুহুল কবির রিজভী, ড. ওসমান ফারুক, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, ড. রেজা কিবরিয়া, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, খায়রুল কবির খোকন এবং ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ আরও কয়েকজন।
তাদের বাদ পড়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় ভারসাম্য, অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও কৌশলগত বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত হয়ে থাকতে পারে।
পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন—
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এজেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আওয়াল মিন্টু, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আমিনুর রশিদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম রিতা, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আসাদুল হাবীব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের সুমন, দিপেন দেওয়ান, আনম এহসানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফকির মাহবুব আনাম এবং শেখ রবিউল আলম।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন—
এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরীফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, মো. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন পুতুল, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেন, এম এ মুহিত, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ এবং আলী নেওয়াজ খৈয়াম।
মন্ত্রিসভার আকার, নেতৃত্বের বৈচিত্র্য এবং টেকনোক্র্যাট অন্তর্ভুক্তি নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণী অগ্রাধিকারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বৈদেশিক কূটনৈতিক সম্পর্ক—এসব ইস্যুতে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ থাকবে নতুন মন্ত্রিসভার সামনে।
শপথের পরপরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রণালয় বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মন্ত্রণালয় বণ্টনই শেষ পর্যন্ত সরকারের কার্যকরী কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণ করবে।

আপনার মতামত লিখুন