শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

ইতিহাস ও আধুনিক ভূ-রাজনীতির সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করতেই জাতিসংঘ স্বীকৃত পরিভাষা ব্যবহার

ব্রিটিশ মিউজিয়ামে ‘ফিলিস্তিন’ শব্দ কি মুছে ফেলা হচ্ছে? বিতর্ক ও বিভ্রান্তি নিয়ে মুখ খুললো কর্তৃপক্ষ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রিটিশ মিউজিয়ামে ‘ফিলিস্তিন’ শব্দ কি মুছে ফেলা হচ্ছে? বিতর্ক ও বিভ্রান্তি নিয়ে মুখ খুললো কর্তৃপক্ষ

বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ মিউজিয়াম তাদের মধ্যপ্রাচ্য গ্যালারি থেকে ‘ফিলিস্তিন’ শব্দটি সরিয়ে ফেলেছে বলে সম্প্রতি গণমাধ্যমে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। এই সংবাদকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ইতিহাসবিদ ও দর্শকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তবে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা ঐতিহাসিক ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সঠিক পরিভাষা ব্যবহার করছে।

লন্ডনে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা 'ব্রিটিশ মিউজিয়াম' সম্প্রতি একটি বিতর্কিত সংবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র 'দ্য টেলিগ্রাফ'-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ তাদের প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্য প্রদর্শনী থেকে 'ফিলিস্তিন' শব্দটি মুছে ফেলেছে। তবে আজ মিউজিয়ামের একজন মুখপাত্র এই দাবিকে 'সম্পূর্ণ অসত্য' বলে অভিহিত করেছেন।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দ্য টেলিগ্রাফ তাদের একটি প্রতিবেদনে জানায়, ব্রিটিশ মিউজিয়াম তাদের মানচিত্র ও তথ্য বোর্ড থেকে 'ফিলিস্তিন' শব্দটি সরিয়ে নিচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, ইসরাইলপন্থী সংগঠন 'ব্রিটিশ লয়ার্স ফর ইসরাইল' (UKLFI)-এর অভিযোগ ও আপত্তির মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ মিউজিয়ামের মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফিলিস্তিন নামটি বাদ দেওয়া হয়নি বরং গ্যালারির বিভিন্ন অংশে সময়কাল অনুযায়ী সঠিক নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "আমরা সমসাময়িক এবং ঐতিহাসিক বিভিন্ন গ্যালারিতে 'ফিলিস্তিন' নাম ব্যবহার অব্যাহত রেখেছি।"

কর্তৃপক্ষ আরও স্পষ্ট করে যে:

  • প্রাচীন দক্ষিণ লেভান্ট অঞ্চলের জন্য বর্তমানে 'কনান' (Canaan) বা সমসাময়িক ঐতিহাসিক শব্দগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, যা খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শেষভাগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
  • আধুনিক মানচিত্র ও তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ সরাসরি জাতিসংঘের (UN) স্বীকৃত পরিভাষা অনুসরণ করছে।
  • সাংস্কৃতিক বা নৃ-তাত্ত্বিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে 'ফিলিস্তিনি' (Palestinian) শব্দটির ব্যবহার যথাযথ স্থানে বজায় রাখা হয়েছে।

মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে যে, গ্যালারির নামকরণে বা তথ্যে যে কোনো পরিবর্তন তাদের নিজস্ব কিউরেটরদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত। এটি কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক চাপের মুখে করা হয়নি।

এই বিতর্কের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে রাজনৈতিক প্রভাব ও ইতিহাসের নামকরণের বিশুদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিষয় : ব্রিটিশ মিউজিয়াম

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


ব্রিটিশ মিউজিয়ামে ‘ফিলিস্তিন’ শব্দ কি মুছে ফেলা হচ্ছে? বিতর্ক ও বিভ্রান্তি নিয়ে মুখ খুললো কর্তৃপক্ষ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ মিউজিয়াম তাদের মধ্যপ্রাচ্য গ্যালারি থেকে ‘ফিলিস্তিন’ শব্দটি সরিয়ে ফেলেছে বলে সম্প্রতি গণমাধ্যমে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। এই সংবাদকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ইতিহাসবিদ ও দর্শকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তবে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা ঐতিহাসিক ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সঠিক পরিভাষা ব্যবহার করছে।

লন্ডনে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা 'ব্রিটিশ মিউজিয়াম' সম্প্রতি একটি বিতর্কিত সংবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র 'দ্য টেলিগ্রাফ'-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ তাদের প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্য প্রদর্শনী থেকে 'ফিলিস্তিন' শব্দটি মুছে ফেলেছে। তবে আজ মিউজিয়ামের একজন মুখপাত্র এই দাবিকে 'সম্পূর্ণ অসত্য' বলে অভিহিত করেছেন।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দ্য টেলিগ্রাফ তাদের একটি প্রতিবেদনে জানায়, ব্রিটিশ মিউজিয়াম তাদের মানচিত্র ও তথ্য বোর্ড থেকে 'ফিলিস্তিন' শব্দটি সরিয়ে নিচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, ইসরাইলপন্থী সংগঠন 'ব্রিটিশ লয়ার্স ফর ইসরাইল' (UKLFI)-এর অভিযোগ ও আপত্তির মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ মিউজিয়ামের মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফিলিস্তিন নামটি বাদ দেওয়া হয়নি বরং গ্যালারির বিভিন্ন অংশে সময়কাল অনুযায়ী সঠিক নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "আমরা সমসাময়িক এবং ঐতিহাসিক বিভিন্ন গ্যালারিতে 'ফিলিস্তিন' নাম ব্যবহার অব্যাহত রেখেছি।"

কর্তৃপক্ষ আরও স্পষ্ট করে যে:

  • প্রাচীন দক্ষিণ লেভান্ট অঞ্চলের জন্য বর্তমানে 'কনান' (Canaan) বা সমসাময়িক ঐতিহাসিক শব্দগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, যা খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শেষভাগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
  • আধুনিক মানচিত্র ও তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ সরাসরি জাতিসংঘের (UN) স্বীকৃত পরিভাষা অনুসরণ করছে।
  • সাংস্কৃতিক বা নৃ-তাত্ত্বিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে 'ফিলিস্তিনি' (Palestinian) শব্দটির ব্যবহার যথাযথ স্থানে বজায় রাখা হয়েছে।

মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে যে, গ্যালারির নামকরণে বা তথ্যে যে কোনো পরিবর্তন তাদের নিজস্ব কিউরেটরদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত। এটি কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক চাপের মুখে করা হয়নি।

এই বিতর্কের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে রাজনৈতিক প্রভাব ও ইতিহাসের নামকরণের বিশুদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত