সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

বিশ্ব অস্ত্র বাণিজ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্রের প্রতিবেদন: ৪.২৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রফতানি করে নতুন রেকর্ড গড়েছে আঙ্কারা।

বিশ্বের প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে চীনকে টপকে অষ্টম স্থানে তুরস্ক


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বের প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে চীনকে টপকে অষ্টম স্থানে তুরস্ক

বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শিল্পে এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে তুরস্ক। বিশ্ব অস্ত্র বাণিজ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্রের (World Arms Trade Analysis Center) ২০১৫–২০২৫ মেয়াদের বিশ্বব্যাপী অস্ত্র বাণিজ্য সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪.২৩ বিলিয়ন (৪২৩ কোটি) মার্কিন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম রফতানি করে বিশ্বের শীর্ষ প্রতিরক্ষা রফতানিকারক দেশের তালিকায় অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে আঙ্কারা। এই প্রক্রিয়ায় এশিয়ার অন্যতম সামরিক পরাশক্তি চীনকে পেছনে ফেলেছে দেশটি। বরাবরের মতো তালিকার শীর্ষ স্থানটি ধরে রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

​বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়ে আবারও সাফল্য অর্জন করল মুসলিম বিশ্বের প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক পরাশক্তি তুরস্ক। বিশ্ব অস্ত্র বাণিজ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্রের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সাল শেষ হওয়া পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক সামরিক রফতানিকারকদের তালিকায় আঙ্কারার অবস্থান এখন ৮ নম্বরে। এর আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প খাত কখনো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এত উচ্চ স্থানে পৌঁছাতে পারেনি।

​প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক অস্ত্র বাজারে এখন প্রধান আধিপত্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। ৪৪.৬ বিলিয়ন (৪,৪৬০ কোটি ৩০ লাখ) ডলারের বিশাল সামরিক রফতানি নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ওয়াশিংটন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাশিয়া, যাদের মোট রফতানি ১৫ বিলিয়ন (১,৫০০ কোটি) ডলার। ৮.৯ বিলিয়ন (৮৯০ কোটি ৩ লাখ) ডলারের রফতানি নিয়ে তৃতীয় স্থান দখল করে আছে জার্মানি।

​সামরিক বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তুরস্কের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ। বিশ্ব প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সামগ্রিকভাবে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশ সামরিক সামগ্রী সরবরাহে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখালেও জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্কের অগ্রযাত্রার গতি সবচেয়ে লক্ষণীয়।

​তুরস্কের পেছনে পড়ে তালিকায় দশম স্থানে নেমে এসেছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরাশক্তি চীন। চীনা প্রতিরক্ষা রফতানির পরিমাণ বর্তমানে ২.৯৭ বিলিয়ন (২৯৭ কোটি) ডলার, যা তুরস্কের ৪.২৩ বিলিয়ন (৪২৩ কোটি) ডলারের অর্জনের চেয়ে বেশ পেছনে।

​২০২৫ শেষ হওয়া মেয়াদের শীর্ষ ১০ সামরিক রফতানিকারক দেশ ও আয়:

১. যুক্তরাষ্ট্র: ৪৪.৬০৩ বিলিয়ন ডলার

২. রাশিয়া: ১৫.০০০ বিলিয়ন ডলার

৩. জার্মানি: ৮.৯০৩ বিলিয়ন ডলার

৪. দক্ষিণ কোরিয়া: ৮.৭৭৯ বিলিয়ন ডলার

৫. ফ্রান্স: ৮.৬৩০ বিলিয়ন ডলার

৬. ইসরায়েল: ৫.৯৯৫ বিলিয়ন ডলার

৭. ইতালি: ৫.২২৫ বিলিয়ন ডলার

৮. তুরস্ক: ৪.২৩০ বিলিয়ন ডলার

৯. স্পেন: ৩.৪৭৬ বিলিয়ন ডলার

১০. চীন: ২.৯৭০ বিলিয়ন ডলার

​নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন, সাঁজোয়া যান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং নৌ সক্ষমতা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার যে ধারাবাহিক কৌশল আঙ্কারা গ্রহণ করেছিল, এই রফতানি পরিসংখ্যান তারই প্রতিফলন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বহুজাতিক পরাশক্তিদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শীর্ষ আটে তুরস্কের এই অবস্থান বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যে এক নতুন মেরুকরণের সূচনা করছে।

বিষয় : তুরস্ক

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিশ্বের প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে চীনকে টপকে অষ্টম স্থানে তুরস্ক

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শিল্পে এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে তুরস্ক। বিশ্ব অস্ত্র বাণিজ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্রের (World Arms Trade Analysis Center) ২০১৫–২০২৫ মেয়াদের বিশ্বব্যাপী অস্ত্র বাণিজ্য সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪.২৩ বিলিয়ন (৪২৩ কোটি) মার্কিন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম রফতানি করে বিশ্বের শীর্ষ প্রতিরক্ষা রফতানিকারক দেশের তালিকায় অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে আঙ্কারা। এই প্রক্রিয়ায় এশিয়ার অন্যতম সামরিক পরাশক্তি চীনকে পেছনে ফেলেছে দেশটি। বরাবরের মতো তালিকার শীর্ষ স্থানটি ধরে রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

​বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়ে আবারও সাফল্য অর্জন করল মুসলিম বিশ্বের প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক পরাশক্তি তুরস্ক। বিশ্ব অস্ত্র বাণিজ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্রের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সাল শেষ হওয়া পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক সামরিক রফতানিকারকদের তালিকায় আঙ্কারার অবস্থান এখন ৮ নম্বরে। এর আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প খাত কখনো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এত উচ্চ স্থানে পৌঁছাতে পারেনি।

​প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক অস্ত্র বাজারে এখন প্রধান আধিপত্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। ৪৪.৬ বিলিয়ন (৪,৪৬০ কোটি ৩০ লাখ) ডলারের বিশাল সামরিক রফতানি নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ওয়াশিংটন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাশিয়া, যাদের মোট রফতানি ১৫ বিলিয়ন (১,৫০০ কোটি) ডলার। ৮.৯ বিলিয়ন (৮৯০ কোটি ৩ লাখ) ডলারের রফতানি নিয়ে তৃতীয় স্থান দখল করে আছে জার্মানি।

​সামরিক বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তুরস্কের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ। বিশ্ব প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সামগ্রিকভাবে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশ সামরিক সামগ্রী সরবরাহে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখালেও জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্কের অগ্রযাত্রার গতি সবচেয়ে লক্ষণীয়।

​তুরস্কের পেছনে পড়ে তালিকায় দশম স্থানে নেমে এসেছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরাশক্তি চীন। চীনা প্রতিরক্ষা রফতানির পরিমাণ বর্তমানে ২.৯৭ বিলিয়ন (২৯৭ কোটি) ডলার, যা তুরস্কের ৪.২৩ বিলিয়ন (৪২৩ কোটি) ডলারের অর্জনের চেয়ে বেশ পেছনে।

​২০২৫ শেষ হওয়া মেয়াদের শীর্ষ ১০ সামরিক রফতানিকারক দেশ ও আয়:

১. যুক্তরাষ্ট্র: ৪৪.৬০৩ বিলিয়ন ডলার

২. রাশিয়া: ১৫.০০০ বিলিয়ন ডলার

৩. জার্মানি: ৮.৯০৩ বিলিয়ন ডলার

৪. দক্ষিণ কোরিয়া: ৮.৭৭৯ বিলিয়ন ডলার

৫. ফ্রান্স: ৮.৬৩০ বিলিয়ন ডলার

৬. ইসরায়েল: ৫.৯৯৫ বিলিয়ন ডলার

৭. ইতালি: ৫.২২৫ বিলিয়ন ডলার

৮. তুরস্ক: ৪.২৩০ বিলিয়ন ডলার

৯. স্পেন: ৩.৪৭৬ বিলিয়ন ডলার

১০. চীন: ২.৯৭০ বিলিয়ন ডলার

​নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন, সাঁজোয়া যান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং নৌ সক্ষমতা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার যে ধারাবাহিক কৌশল আঙ্কারা গ্রহণ করেছিল, এই রফতানি পরিসংখ্যান তারই প্রতিফলন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বহুজাতিক পরাশক্তিদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শীর্ষ আটে তুরস্কের এই অবস্থান বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যে এক নতুন মেরুকরণের সূচনা করছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ