শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের যৌথ বৈঠক; সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠক আহ্বান ও সচিবালয় গঠনের সিদ্ধান্ত।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নে একজোট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নে একজোট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে এক যৌথ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তারা ঐতিহাসিক 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' (এমজেডিএ)-র অধীনে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা, সাধারণ সচিবালয় সক্রিয়করণ এবং ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। ইসলামের পবিত্রতম স্থান ও সৌদি আরবের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিন দেশ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও যৌথ প্রতিরোধের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ইসলামিক বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিন প্রধান শক্তি পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের সামরিক ও অর্থনৈতিক মেলবন্ধন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের পাশাপাশি পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এক উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' (এমজেডিএ)-র বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। মন্ত্রীরা চুক্তির অধীনে সাধারণ সচিবালয়, বিশেষায়িত কমিটি এবং কার্যকরী দল গঠনের কাজ চূড়ান্ত করার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এই চুক্তির আওতায় রিয়াদে প্রতিষ্ঠিত হতে চলা সাধারণ সচিবালয়ের প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা জোটটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক সামরিক সমন্বয় জোরদার করার লক্ষ্যে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফদের একটি 'জরুরি' বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রিয়াদের পবিত্র স্থানসমূহ, বেসামরিক নাগরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো সাম্প্রতিক হামলাগুলোর কঠোর নিন্দা জানান তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানান, জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজেদের ভূখণ্ড ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তির ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে তুরস্ক যুক্ত হয়ে 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' গড়ে তোলে। এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো—তিনটি দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিত হলে তা বাকি দুটি দেশের ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য হবে। বর্তমানে রিয়াদ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারার মধ্যে এই কৌশলগত জোট মধ্যপ্রাচ্য তথা মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এটি কেবল সামরিক ক্ষেত্রে নয়, বরং আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস, বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক নৌচলাচলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বিষয় : পাকিস্তান তুরস্ক সৌদি আরব

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নে একজোট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে এক যৌথ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তারা ঐতিহাসিক 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' (এমজেডিএ)-র অধীনে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা, সাধারণ সচিবালয় সক্রিয়করণ এবং ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। ইসলামের পবিত্রতম স্থান ও সৌদি আরবের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিন দেশ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও যৌথ প্রতিরোধের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ইসলামিক বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিন প্রধান শক্তি পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের সামরিক ও অর্থনৈতিক মেলবন্ধন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের পাশাপাশি পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এক উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' (এমজেডিএ)-র বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। মন্ত্রীরা চুক্তির অধীনে সাধারণ সচিবালয়, বিশেষায়িত কমিটি এবং কার্যকরী দল গঠনের কাজ চূড়ান্ত করার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এই চুক্তির আওতায় রিয়াদে প্রতিষ্ঠিত হতে চলা সাধারণ সচিবালয়ের প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা জোটটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক সামরিক সমন্বয় জোরদার করার লক্ষ্যে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফদের একটি 'জরুরি' বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রিয়াদের পবিত্র স্থানসমূহ, বেসামরিক নাগরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো সাম্প্রতিক হামলাগুলোর কঠোর নিন্দা জানান তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানান, জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজেদের ভূখণ্ড ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তির ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে তুরস্ক যুক্ত হয়ে 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' গড়ে তোলে। এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো—তিনটি দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিত হলে তা বাকি দুটি দেশের ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য হবে। বর্তমানে রিয়াদ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারার মধ্যে এই কৌশলগত জোট মধ্যপ্রাচ্য তথা মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এটি কেবল সামরিক ক্ষেত্রে নয়, বরং আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস, বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক নৌচলাচলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ