ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তীব্র জনরোষের মুখে পড়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির। এক ইসরায়েলি নারী প্রকাশ্যে তাকে ‘নাৎসি’ আখ্যা দিয়ে সাম্প্রতিক মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন।
শনিবার রাতে সংঘটিত ওই হামলায় বহু হতাহত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ ওই নারী মন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে প্রতিবাদ করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী বেন গভিরকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি একজন নাৎসি। এই সব মৃত্যুর জন্য আপনি দায়ী।” তিনি আরও বলেন, “আপনি শুধু মৃত্যু ছড়াচ্ছেন। এখানে আপনার কোনো কাজ নেই, আমার শহর থেকে বের হয়ে যান।”
ঘটনার সময় বেন গভির আরাদ শহরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছিলেন। একই সময়ে দক্ষিণের আরেক শহর দিমোনাতেও হামলার স্থান পরিদর্শন করেন তিনি।
ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আরাদে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১১৮ জন আহত হয়েছেন। দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র শহরের একটি পুরো আবাসিক এলাকা ধ্বংস করে দেয় এবং বহু বাসিন্দা আহত হন।
অন্যদিকে, দিমোনা শহরে একই ধরনের হামলায় অন্তত ৬৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন বলে জানানো হয়।
এর জবাবে তেহরান ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে, ইরান বিভিন্ন আরব দেশে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা ওই দেশগুলো নিন্দা জানিয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও চলমান সংঘাত নিয়ে জনমনে অসন্তোষ ও বিভাজনের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। হামলার পরপরই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে এমন প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা নির্দেশ করে।
বিষয় : ইসরায়েল

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মার্চ ২০২৬
ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তীব্র জনরোষের মুখে পড়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির। এক ইসরায়েলি নারী প্রকাশ্যে তাকে ‘নাৎসি’ আখ্যা দিয়ে সাম্প্রতিক মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন।
শনিবার রাতে সংঘটিত ওই হামলায় বহু হতাহত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ ওই নারী মন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে প্রতিবাদ করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী বেন গভিরকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি একজন নাৎসি। এই সব মৃত্যুর জন্য আপনি দায়ী।” তিনি আরও বলেন, “আপনি শুধু মৃত্যু ছড়াচ্ছেন। এখানে আপনার কোনো কাজ নেই, আমার শহর থেকে বের হয়ে যান।”
ঘটনার সময় বেন গভির আরাদ শহরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছিলেন। একই সময়ে দক্ষিণের আরেক শহর দিমোনাতেও হামলার স্থান পরিদর্শন করেন তিনি।
ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আরাদে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১১৮ জন আহত হয়েছেন। দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র শহরের একটি পুরো আবাসিক এলাকা ধ্বংস করে দেয় এবং বহু বাসিন্দা আহত হন।
অন্যদিকে, দিমোনা শহরে একই ধরনের হামলায় অন্তত ৬৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন বলে জানানো হয়।
এর জবাবে তেহরান ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে, ইরান বিভিন্ন আরব দেশে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা ওই দেশগুলো নিন্দা জানিয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও চলমান সংঘাত নিয়ে জনমনে অসন্তোষ ও বিভাজনের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। হামলার পরপরই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে এমন প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা নির্দেশ করে।

আপনার মতামত লিখুন