ভারতের উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় অবস্থিত বিশ্বখ্যাত ঐতিহাসিক নিদর্শন তাজমহলে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের অনুমতি এবং বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র বিক্ষোভ করেছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন 'অল ইন্ডিয়া হিন্দু মহাসভা' (AIHM)। গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাজমহল প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।
ঐতিহাসিক তাজমহল চত্বরে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় এবং নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের জন্য কর্তৃপক্ষের ফ্রি এন্ট্রির বা বিনামূল্যে প্রবেশের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো। গত বৃহস্পতিবার সকালে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অল ইন্ডিয়া হিন্দু মহাসভার নেতাকর্মীরা তাজমহল এলাকায় জড়ো হয়ে তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভের সময় হিন্দু মহাসভার সদস্যরা উপস্থিত পুলিশ প্রশাসনের সামনেই "বাম বাম ভোল" এবং "জয় শ্রী রাম" স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল স্থানীয় প্রশাসন। নামাজ যেন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হতে পারে, সেজন্য তাজমহল কমপ্লেক্স ও এর চারপাশে শাহগঞ্জ থানা পুলিশসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভ শুরু হলে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং আইনশৃঙ্খলার সুরক্ষায় বেশ কয়েকজন হিন্দুত্ববাদী সদস্যকে আটক করে। পরবর্তীতে হিন্দু মহাসভার মহানগর সভাপতি বিশাল কুমারকে শাহগঞ্জে তাঁর নিজ বাসভবনে গৃহবন্দি (হাউস অ্যারেস্ট) করে রাখা হয়।
সংগঠনটির জেলা সভাপতি মীরা রাঠোর এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, “হিন্দু মহাসভা কোনোভাবেই তাজমহলের ভেতরে নামাজ পড়ার এই অনুমতির সিদ্ধান্তকে মেনে নেয় না।” এছাড়া সংগঠনের অন্যান্য শীর্ষ নেতা, যার মধ্যে নীতিশ ভরদ্বাজ এবং মহিলা মোর্চার মহানগর সভাপতি নিশা ঠাকুরও ইউনেস্কো স্বীকৃত এই ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে নামাজ আদায়ের অনুমতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও জোরালো প্রতিবাদ ব্যক্ত করেন।
তাজমহল একটি ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (UNESCO World Heritage Site), যা ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ (ASI) দ্বারা সংরক্ষিত। ঐতিহাসিক নিয়ম অনুযায়ী, সেখানে বিশেষ ধর্মীয় দিনগুলোতে স্থানীয়দের নামাজ আদায়ের সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনায় এ ধরণের অধিকার ও অনুমতি নিয়ে ডানপন্থী সংগঠনগুলোর আপত্তি এবং আইনি লড়াই বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার ও ঐতিহাসিক রীতিনীতির মধ্যকার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। প্রশাসন দাবি করেছে, যেকোনো মূল্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য, যার কারণে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছে।
তাজমহলে নামাজ আদায় করা নিয়ে এটিই প্রথম বিতর্ক নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ডানপন্থী সংগঠনগুলো তাজমহলে শিব পূজা করার দাবি তুলেছে কিংবা সেখানে শুক্রবারের নিয়মিত নামাজ বন্ধের দাবি জানিয়ে আদালতে আবেদন করেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক এবং ঐতিহাসিক সূত্রমতে, তাজমহল চত্বরে একটি মসজিদ রয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত নিয়ম মেনেই নামাজ আদায় হয়ে আসছে।

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬
ভারতের উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় অবস্থিত বিশ্বখ্যাত ঐতিহাসিক নিদর্শন তাজমহলে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের অনুমতি এবং বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র বিক্ষোভ করেছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন 'অল ইন্ডিয়া হিন্দু মহাসভা' (AIHM)। গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাজমহল প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।
ঐতিহাসিক তাজমহল চত্বরে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় এবং নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের জন্য কর্তৃপক্ষের ফ্রি এন্ট্রির বা বিনামূল্যে প্রবেশের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো। গত বৃহস্পতিবার সকালে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অল ইন্ডিয়া হিন্দু মহাসভার নেতাকর্মীরা তাজমহল এলাকায় জড়ো হয়ে তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভের সময় হিন্দু মহাসভার সদস্যরা উপস্থিত পুলিশ প্রশাসনের সামনেই "বাম বাম ভোল" এবং "জয় শ্রী রাম" স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল স্থানীয় প্রশাসন। নামাজ যেন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হতে পারে, সেজন্য তাজমহল কমপ্লেক্স ও এর চারপাশে শাহগঞ্জ থানা পুলিশসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভ শুরু হলে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং আইনশৃঙ্খলার সুরক্ষায় বেশ কয়েকজন হিন্দুত্ববাদী সদস্যকে আটক করে। পরবর্তীতে হিন্দু মহাসভার মহানগর সভাপতি বিশাল কুমারকে শাহগঞ্জে তাঁর নিজ বাসভবনে গৃহবন্দি (হাউস অ্যারেস্ট) করে রাখা হয়।
সংগঠনটির জেলা সভাপতি মীরা রাঠোর এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, “হিন্দু মহাসভা কোনোভাবেই তাজমহলের ভেতরে নামাজ পড়ার এই অনুমতির সিদ্ধান্তকে মেনে নেয় না।” এছাড়া সংগঠনের অন্যান্য শীর্ষ নেতা, যার মধ্যে নীতিশ ভরদ্বাজ এবং মহিলা মোর্চার মহানগর সভাপতি নিশা ঠাকুরও ইউনেস্কো স্বীকৃত এই ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে নামাজ আদায়ের অনুমতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও জোরালো প্রতিবাদ ব্যক্ত করেন।
তাজমহল একটি ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (UNESCO World Heritage Site), যা ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ (ASI) দ্বারা সংরক্ষিত। ঐতিহাসিক নিয়ম অনুযায়ী, সেখানে বিশেষ ধর্মীয় দিনগুলোতে স্থানীয়দের নামাজ আদায়ের সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনায় এ ধরণের অধিকার ও অনুমতি নিয়ে ডানপন্থী সংগঠনগুলোর আপত্তি এবং আইনি লড়াই বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার ও ঐতিহাসিক রীতিনীতির মধ্যকার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। প্রশাসন দাবি করেছে, যেকোনো মূল্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য, যার কারণে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছে।
তাজমহলে নামাজ আদায় করা নিয়ে এটিই প্রথম বিতর্ক নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ডানপন্থী সংগঠনগুলো তাজমহলে শিব পূজা করার দাবি তুলেছে কিংবা সেখানে শুক্রবারের নিয়মিত নামাজ বন্ধের দাবি জানিয়ে আদালতে আবেদন করেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক এবং ঐতিহাসিক সূত্রমতে, তাজমহল চত্বরে একটি মসজিদ রয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত নিয়ম মেনেই নামাজ আদায় হয়ে আসছে।

আপনার মতামত লিখুন